দীপাবলিতে TVS Ronin কিনবেন? ৫টি কারণে হতে পারে সেরা পছন্দ
গুরুগাঁও: দীপাবলির আগে নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা থাকলে TVS Ronin আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন। রেট্রো-স্টাইলের ডিজাইন, আরামদায়ক রাইডিং পজিশন, শহরের রাস্তায় সহজে চালানোর সুবিধা এবং ভালো মাইলেজ, সব মিলিয়ে বাইকটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে কয়েকটি আপডেটও পেয়েছে এই মোটরসাইকেল। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ১.২৭ লক্ষ টাকা থেকে। কেনার আগে জেনে নিন TVS Ronin-এর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
১. কম RPM-এই ভালো টর্ক, সঙ্গে সন্তোষজনক মাইলেজ
TVS Ronin-এ রয়েছে ২২৫.৯ সিসির অয়েল-কুলড, চার-ভালভ, সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ২০.৪ PS শক্তি উৎপন্ন করে ৭,৭৫০ RPM-এ এবং ১৯.৯৩ Nm টর্ক দেয় ৩,৭৫০ RPM-এ। ইঞ্জিনটির ভিত্তি TVS Apache RTR 200 4V-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও Ronin-এর ক্ষেত্রে তুলনামূলক মসৃণ ও স্বচ্ছন্দ রাইডিংয়ের উপযোগী করে টিউন করা হয়েছে।
কম RPM-এ টর্ক পাওয়ার ফলে শহরের যানজটে বারবার গিয়ার বদলানোর প্রয়োজন কম হতে পারে। পাঁচ-স্পিড গিয়ারবক্সের সঙ্গে রয়েছে Glide Through Traffic প্রযুক্তি এবং অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ। ফলে ধীরগতির ট্রাফিকে বাইক চালানো তুলনামূলক সহজ হয়।
মাইলেজের ক্ষেত্রেও বাইকটি ভালো ফল করেছে বলে পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরীক্ষায় শহরের রাস্তায় প্রতি লিটারে ৪২.৯৫ কিলোমিটার এবং হাইওয়েতে ৪০.৭৭ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া গিয়েছে। ১৪ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক থাকায় একবার জ্বালানি ভরলে ৪০০ কিলোমিটারের বেশি চলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তব মাইলেজ নির্ভর করবে চালানোর ধরন, রাস্তার অবস্থা এবং ট্রাফিকের উপর।
একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার, ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ইঞ্জিনের কম্পন অনুভূত হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে স্বচ্ছন্দে চলার জন্য এটি সেরা বিকল্প নাও হতে পারে।
২. প্রতিদিনের যাতায়াতে আরামদায়ক রাইডিং পজিশন
TVS Ronin-এর হ্যান্ডেলবার চওড়া ও উঁচুতে বসানো। ফুটপেগের অবস্থান মাঝামাঝি এবং রাইডিং পজিশন সোজা। ফলে প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত, শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা কিংবা ছোটখাটো ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই বিন্যাস সুবিধাজনক হতে পারে।
বাইকের সিটের উচ্চতা ৭৯৫ মিমি। ফলে বাইকে ওঠানামা করা তুলনামূলক সহজ। সিটে যথেষ্ট প্যাডিং থাকায় একা বাইক চালানোর সময়ও আরাম পাওয়া যেতে পারে। লম্বা চালকদের ক্ষেত্রেও বসার জায়গা খুব বেশি সঙ্কুচিত মনে হওয়ার কথা নয়।
তবে পিছনের যাত্রীর জন্য সিটের জায়গা তুলনামূলক কম। আলাদা ব্যাকরেস্টও নেই। তাই প্রতিদিন দু’জনকে নিয়ে যাতায়াত করার পরিকল্পনা থাকলে কেনার আগে পিছনের সিটে বসে আরাম পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
৩. হালকা ওজন, শহরের যানজটে সহজে নিয়ন্ত্রণ
TVS Ronin-এর ওজন প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রাম। চওড়া হ্যান্ডেলবারের কারণে ইউ-টার্ন নেওয়া, সরু জায়গায় বাইক ঘোরানো এবং পার্কিংয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ হতে পারে। বাইকটির হুইলবেস ১,৩৫৭ মিমি, যা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সামনে রয়েছে ৪১ মিমির USD ফর্ক এবং পিছনে সাত ধাপে প্রিলোড অ্যাডজাস্ট করা যায় এমন মনোশক সাসপেনশন। সাসপেনশন সেটআপ কিছুটা শক্ত হলেও ভাঙাচোরা রাস্তায় যথেষ্ট ভালোভাবে কাজ করতে পারে বলে পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৮১ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকায় সাধারণ স্পিড ব্রেকার পার হওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে বাইকটির চ্যাসিস দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিলেও এটি মূলত মসৃণ ও নিয়ন্ত্রিত রাইডিংয়ের জন্য উপযুক্ত। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক স্পোর্টস রাইডিংয়ের কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়নি।
৪. রেট্রো লুক, ভালো বিল্ড কোয়ালিটি ও সাতটি রঙ
TVS Ronin-এর অন্যতম আকর্ষণ এর গোলাকার LED হেডল্যাম্প, যার সঙ্গে রয়েছে T-আকৃতির পজিশন ল্যাম্প। ১৪ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক বাইকটিকে পেশিবহুল চেহারা দিয়েছে। পিছনের অংশের ডিজাইনও তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন। তবে পাশের কিছু বডি প্যানেলের নকশা সবার পছন্দ নাও হতে পারে।
বিল্ড কোয়ালিটির ক্ষেত্রে প্যানেলের জোড়, রঙের ফিনিশ এবং ওয়্যারিংয়ের বিন্যাস ভালো বলে পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাইকটিতে রয়েছে ১৭ ইঞ্চির নয়-স্পোক অ্যালয় হুইল এবং টিউবলেস টায়ার। সামনের টায়ারের মাপ ১১০/৭০ এবং পিছনের টায়ারের মাপ ১৩০/৭০।
রঙের বিকল্পও রয়েছে একাধিক। বেস ভ্যারিয়েন্টে Lightning Black ও Magma Red-সহ তিনটি রঙ পাওয়া যায় এবং এতে কালো ফ্রন্ট ফর্ক রয়েছে। Mid ভ্যারিয়েন্টে Charcoal Ember ও Glacier Silver এবং Top ভ্যারিয়েন্টে Nimbus Grey ও Midnight Blue-এর মতো ডুয়াল-টোন রঙ পাওয়া যায়। Mid ও Top ভ্যারিয়েন্টে সোনালি রঙের ফ্রন্ট ফর্ক রয়েছে।
৫. ডিজিটাল কনসোল, ABS মোড ও নতুন সুরক্ষা প্রযুক্তি
TVS Ronin-এর ডিজিটাল কনসোলে গিয়ার পজিশন, সম্ভাব্য অবশিষ্ট দূরত্ব, গড় গতি, জ্বালানির পরিমাণ এবং দুটি ট্রিপ মিটারের তথ্য দেখা যায়। সব ভ্যারিয়েন্টেই LED লাইটিং, ডিজিটাল ফুয়েল গেজ এবং USB চার্জিং পোর্ট রয়েছে।
ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ৩০০ মিমি এবং পিছনে ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারে ব্রেকিং ক্ষমতা সন্তোষজনক হলেও দ্রুত বা জোরে ব্রেক করার সময় আরও তীক্ষ্ণ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া চাইতে পারেন কিছু চালক।
সব ভ্যারিয়েন্টে Rain ও Urban ABS মোড রয়েছে। শুকনো রাস্তার নিয়মিত ব্যবহারের জন্য Urban মোড এবং ভেজা বা কম গ্রিপের রাস্তায় ABS-এর আচরণ সামঞ্জস্য করতে Rain মোড ব্যবহার করা যায়।
Top ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে কানেক্টেড ডিজিটাল কনসোল, যা TVS-এর অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেভিগেশন, কল অ্যালার্ট, ভয়েস কমান্ড এবং রাইড সংক্রান্ত তথ্য দেখাতে পারে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আপডেটের পর এই ভ্যারিয়েন্টে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং Type-C চার্জিং পোর্টও যুক্ত হয়েছে বলে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
TVS Ronin-এর দাম কত?
সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, TVS Ronin-এর তিনটি ভ্যারিয়েন্টের এক্স-শোরুম, দিল্লির দাম হল:
| ভ্যারিয়েন্ট | দাম |
| Base | ১,২৬,৬৯০ টাকা |
| Mid | ১,৪৮,০৪০ টাকা |
| Top | ১,৬০,১৪০ টাকা |
বেস ভ্যারিয়েন্ট তুলনামূলক সাশ্রয়ী। তবে কানেক্টেড কনসোল, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং Type-C চার্জিংয়ের মতো অতিরিক্ত ফিচার চাইলে Top ভ্যারিয়েন্ট বিবেচনা করা যেতে পারে। বুকিংয়ের আগে নিজের শহরের ডিলারশিপ থেকে অন-রোড দাম, বিমা এবং অন্যান্য খরচ জেনে নিন।
দীপাবলিতে TVS Ronin কেনা কি যুক্তিযুক্ত?
যাঁরা প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য আরামদায়ক রাইডিং পজিশন, শহরের ট্রাফিকে সহজ নিয়ন্ত্রণ, ভালো মাইলেজ এবং স্বতন্ত্র রেট্রো ডিজাইনের বাইক চান, তাঁদের জন্য TVS Ronin একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প। কম RPM-এ টর্ক, ১৪ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং Rain ও Urban ABS মোডও এর ব্যবহারিক দিককে শক্তিশালী করে।
তবে পিছনের সিটে জায়গা কম এবং উচ্চ গতিতে কম্পন অনুভূত হওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কেনার আগে টেস্ট রাইড করে ইঞ্জিনের আচরণ, সিটের আরাম ও ব্রেকিং নিজের ব্যবহারের সঙ্গে মানানসই কি না, তা যাচাই করে নিন।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business