বঙ্গোপসাগরে ঘনাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাংলায় কতটা প্রভাব?
কলকাতা/নয়াদিল্লি: পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রূকুটি বঙ্গোপসাগরে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর সকালেই বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা…
কলকাতা/নয়াদিল্লি: পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রূকুটি বঙ্গোপসাগরে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর সকালেই বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। তবে এই ঝড়টি ঠিক কোথায় এবং কোন উপকূলে গিয়ে আছড় আছড় পড়তে পারে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি হাওয়া অফিস।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপটি ২৪ অক্টোবরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ এবং ২৫ অক্টোবরের মধ্যে অতি গভীর নিম্নচূপে রূপ নেওয়ার কথা। এরপর ২৬ অক্টোবরের মধ্যে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিতে পারে। মূলত উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকেই এই সিস্টেমটির এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অংশে। এই রাজ্যগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিস্টেমটির গতিপ্রকৃতি ও শক্তি সম্পর্কে আগামী দিনে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আশঙ্কায় ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইএমডি (IMD)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ইয়ানামের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ২৬ অক্টোবর থেকে ওড়িশাতেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলিতে বহু জায়গায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বেগে হাওয়া বইতে পারে।
এই সময় বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার জেরে গাছপালা উপড়ে যাওয়া, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার, এমনকি দমকা হাওয়া ৯০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে।
মৎস্যজীবীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের গভীর জলে এবং প্রভাবিত উপকূলীয় এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। যারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেটের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় জলমগ্ন রাস্তা এড়িয়ে চলা এবং ঝড়ের সময় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন৷
আরশোলা-বিরোধীদের প্রতিবাদ সামলাতে পুলিশ সদর দফতরে বড় বৈঠক শাহের
‘সরকারের ঘুম ভাঙাতে’ মণিপুরে শব্দ বিক্ষোভ, উত্তাল রাজভবন চত্বর