১ জানুয়ারি থেকে WhatsApp-এ বড় বদল! SIM না থাকলে বন্ধ হতে পারে অ্যাকাউন্ট
মুম্বই: সাইবার প্রতারণা রুখতে মেসেজিং অ্যাপগুলির জন্য SIM-binding ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ বা DoT। নির্দেশ অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলিকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। এর প্রভাব পড়তে পারে WhatsApp, Telegram, Signal-সহ একাধিক জনপ্রিয় যোগাযোগের অ্যাপে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিবন্ধিত ভারতীয় মোবাইল নম্বরের সক্রিয় SIM কার্ডের সংযোগ যাচাই করা হবে। ফলে ফোন থেকে SIM খুলে অন্য ডিভাইসে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।
কোন কোন অ্যাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে নিয়ম?
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, DoT-এর মূল নির্দেশে আটটি অ্যাপের নাম রয়েছে। সেগুলি হল WhatsApp, Telegram, Snapchat, Arattai, ShareChat, Josh, JioChat এবং Signal। ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পরিচয় নির্ধারণ করে বা পরিষেবা দেয়, এমন নির্দিষ্ট অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবাগুলির ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।
DoT ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর Telecom Cyber Security Rules, 2024-এর অধীনে নির্দেশ জারি করেছিল। পরে ১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ সরকারি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো বা PIB-এর মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রাথমিকভাবে নিয়ম কার্যকর করার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হলেও শিল্পমহলের অনুরোধের পর সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
SIM খুলে ফেললে কি WhatsApp ব্যবহার করা যাবে না?
SIM-binding ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হল, কোনও ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট যে ভারতীয় মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত, সেই নম্বরের সক্রিয় SIM কার্ডের সঙ্গে অ্যাপের সংযোগ বজায় রাখা। নির্দেশের আওতায় থাকা পরিষেবাগুলিকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট SIM সরিয়ে ফেলা হলে বা সেটি আর সক্রিয় না থাকলে অ্যাপের ব্যবহার সীমিত হতে পারে।
বর্তমানে অনেক মেসেজিং অ্যাপে একবার OTP দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালু করার পর ফোন থেকে SIM খুলে ফেললেও অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। DoT-এর মতে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা ভারতীয় মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার করতে পারে। নতুন নিয়মে SIM-এর উপস্থিতি এবং অ্যাকাউন্টের সংযোগ যাচাই করে এই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, ১ জানুয়ারি থেকেই সব ব্যবহারকারীর WhatsApp বা Telegram অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। পরিষেবাগুলি কীভাবে নিয়ম কার্যকর করবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার সীমিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট অ্যাপের বাস্তবায়ন পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে।
WhatsApp, Telegram ও Signal ব্যবহারকারীদের কী বদলাতে হবে?
নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের অভ্যাস বদলাতে হতে পারে।
- SIM সক্রিয় রাখা: অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত ভারতীয় নম্বরের SIM সক্রিয় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে।
- ফোন বদলালে সতর্কতা: নতুন ফোনে অ্যাপ চালু করার সময় SIM-এর উপস্থিতি বা নম্বর যাচাইয়ের অতিরিক্ত ধাপ আসতে পারে।
- SIM পরিবর্তন করলে: পুরনো SIM নিষ্ক্রিয় হলে বা নম্বর বদলালে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
- একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার: ফোন, কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইসে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষ করে যারা ফোনে SIM না রেখেই WhatsApp ব্যবহার করেন, ঘন ঘন ফোন বদলান অথবা বিদেশে ভ্রমণের সময় অন্য SIM ব্যবহার করেন, তাঁদের নতুন নিয়মের প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার।
WhatsApp Web ও ডেস্কটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কি নিয়ম বদলাবে?
মূল নির্দেশে ওয়েব সংস্করণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর লগ-আউট করে পুনরায় ডিভাইস সংযুক্ত করার ব্যবস্থার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ওয়েব ও ডেস্কটপ সেশনের জন্য সর্বজনীন ছয় ঘণ্টার লগ-আউট বাধ্যবাধকতার বদলে ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতির দিকে যাওয়া হয়েছে বলে প্রদত্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর ফলে সব ব্যবহারকারীকে প্রতি ছয় ঘণ্টায় WhatsApp Web বা ডেস্কটপ অ্যাপে নতুন করে লগ-ইন করতে হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাপের ঘোষণা থেকেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সাইবার প্রতারণা রুখতেই এই পদক্ষেপ
ডিজিটাল গ্রেপ্তারির নামে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং, বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতানো এবং ঋণসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকানোই এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সরকার। DoT-এর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২,৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।
ব্যাঙ্কিং ও UPI পরিষেবায় মোবাইল নম্বর ও SIM-ভিত্তিক যাচাইয়ের যে ব্যবস্থা রয়েছে, তার অনুরূপ নিরাপত্তা মেসেজিং অ্যাপেও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে SIM-binding চালু হলেই সমস্ত ধরনের সাইবার প্রতারণা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহারকারীর সতর্কতা, শক্তিশালী অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা এবং দ্রুত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা বাড়বে, তবে গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে
SIM-ভিত্তিক যাচাইয়ের ফলে চুরি হওয়া বা অপব্যবহার করা অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হতে পারে। অন্যদিকে, একাধিক ডিভাইসে কাজ করা, ব্যক্তিগত ও পেশাগত ফোন আলাদা রাখা এবং বিদেশে থাকাকালীন মেসেজিং পরিষেবা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি হতে পারে। SIM-নির্ভর যাচাই কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
তাই ব্যবহারকারীদের জন্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির আগে WhatsApp, Telegram ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা দেখে নেওয়া এবং নিজের অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত নম্বরটি সক্রিয় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.