আত্মহত্যা রোধ করতে মোদী রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগানো হচ্ছে অভিনব সিলিং ফ্যান
সুরাট: সুরাটের ভীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের (Gujarat University)হোস্টেলে এখন এক বিশেষ ধরনের সিলিং ফ্যান বসানো হয়েছে। এই ফ্যানগুলোকে বলা হচ্ছে ‘অ্যান্টি-সুইসাইড ফ্যান’ বা স্প্রিং-লোডেড…
সুরাট: সুরাটের ভীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের (Gujarat University)হোস্টেলে এখন এক বিশেষ ধরনের সিলিং ফ্যান বসানো হয়েছে। এই ফ্যানগুলোকে বলা হচ্ছে ‘অ্যান্টি-সুইসাইড ফ্যান’ বা স্প্রিং-লোডেড ফ্যান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এই প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের হোস্টেলে এমন ব্যবস্থা চালু করল।
ভীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় বা ভিএনএসজিইউ-এর হোস্টেলগুলোতে মোট ৩৫৪টি এমন বিশেষ ফ্যান বসানো হয়েছে। প্রতিটি ফ্যানের দাম প্রায় দেড় হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কিশোরসিংহ চাভদা নিজে হোস্টেলের একটি রুমে গিয়ে এই ফ্যানের কার্যপ্রণালী প্রদর্শন করেছেন।
আরও দেখুনঃ মণীশ গর্গের বিরুদ্ধে অভিযোগ! দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠিতে বিতর্ক
তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ফ্যানের সঙ্গে একটি স্প্রিং মেকানিজম যুক্ত রয়েছে। যদি কোনো কারণে ফ্যানের ওপর প্রায় ১০ কেজির বেশি ওজন পড়ে, তাহলে স্প্রিংটি তৎক্ষণাৎ খুলে যায়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফ্যানটি নিচে নেমে আসে। ফলে সাধারণ সিলিং ফ্যানের মতো সেটি ওজন ধরে রাখতে পারে না।
উপাচার্য চাভদা হোস্টেল রুমে গিয়ে একটি চাদর ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে ওজন প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন কীভাবে স্প্রিং কাজ করে এবং ফ্যানটি নিচে নেমে আসে।(Gujarat University) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, পড়াশোনার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই তারা এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে উদাহরণ হয়ে উঠছে। অনেকে মনে করছেন, হোস্টেলের মতো আবাসিক পরিবেশে ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় একা থাকেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।
সেই পরিস্থিতিতে শারীরিক নিরাপত্তার এমন ব্যবস্থা জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফ্যান বদলে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলিং সেবা, সহানুভূতিশীল পরিবেশ এবং চাপ কমানোর ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গুজরাটের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ দেশের অন্যান্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও ভাবিয়ে তুলছে। কোচিং সেন্টার ও হোস্টেলে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর কোটাসহ বিভিন্ন জায়গায় আগেও এ ধরনের স্প্রিং ডিভাইস ব্যবহারের কথা উঠেছিল। এবার সুরাটের বিশ্ববিদ্যালয় (Gujarat University)সেটিকে বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিল যে ছোট পরিবর্তনও বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাবোধ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তারা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছে। হোস্টেলে থাকা ছাত্রছাত্রীরা যেন প্রয়োজনে কাউন্সেলরের সাহায্য নিতে পারেন, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবিক সহায়তাও জরুরি এই বার্তাই দিচ্ছে সুরাটের এই উদ্যোগ।