শত্রুর ঘুম কেড়ে নিয়ে এবার ভারতীয় সেনা পাচ্ছে আরও শক্তিশালী ব্রহ্মোস-এনজি
নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন (BrahMos-NG)মাইলফলক হতে চলেছে ব্রহ্মোস-এনজি। ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের সিইও জয়তীর্থ জোশি সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই নেক্সট জেনারেশন সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের প্রথম প্রোটোটাইপ…
নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন (BrahMos-NG)মাইলফলক হতে চলেছে ব্রহ্মোস-এনজি। ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের সিইও জয়তীর্থ জোশি সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই নেক্সট জেনারেশন সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের প্রথম প্রোটোটাইপ ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে তৈরি হবে। এটি বর্তমান ব্রহ্মোসের চেয়ে অনেক হালকা, ছোট এবং আরও আধুনিক হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মিসাইল ভারতের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর স্ট্রাইক ক্ষমতাকে একেবারে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।
বর্তমান ব্রহ্মোস মিসাইলের ওজন প্রায় আড়াই থেকে তিন টন। এর ফলে সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে মাত্র একটি মিসাইল বহন করা সম্ভব। কিন্তু ব্রহ্মোস-এনজি হবে প্রায় ৬০ শতাংশ হালকা। এর ওজন আনুমানিক ১.২ থেকে ১.৫ টনের মধ্যে থাকবে।
আরও দেখুনঃ এনআইএ-র মামলায় নতুন মোড়! আমেরিকা থেকে ফিরে আদালতে ম্যাথু ভ্যানডাইক
দৈর্ঘ্যও কমে ছয় মিটারের নিচে নামবে। এই হালকা ওজনের কারণে একই সুখোই-৩০এমকেআই বিমানে তিনটি পর্যন্ত মিসাইল বহন করা সম্ভব হবে। এমনকি কিছু বিশ্লেষক বলছেন, উপযুক্ত কনফিগারেশনে আরও বেশি সংখ্যক মিসাইলও বহন করা যেতে পারে। এর ফলে একবারের মিশনে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়বে।
গতি হবে ম্যাক ৩ থেকে ৩.৫। (BrahMos-NG)অর্থাৎ শব্দের গতির তিন গুণেরও বেশি। রেঞ্জ প্রত্যাশিত ৩০০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। ওয়ারহেড থাকবে ৩০০ কেজি ক্লাসের। উন্নত কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল ও স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটিকে আরও স্টিলথি বানানো হচ্ছে, যাতে শত্রুর রাডার এড়াতে সহজ হয়। ভারতীয় অংশগ্রহণও বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিআরডিও ও রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রয়েনিয়ার যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। প্রথমে এটি এয়ার-লঞ্চড ভার্সন হিসেবে তৈরি হবে। সুখোই-৩০এমকেআই-এর পাশাপাশি হালকা যুদ্ধবিমান তেজসেও এটি সংযুক্ত করা যাবে। পরে স্থল ও নৌ প্ল্যাটফর্মেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এমনকি সাবমেরিন থেকেও ছোড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০টি সুখোই-৩০এমকেআই বিমান ব্রহ্মোস বহনের জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে। এনজি ভার্সন এলে আরও অনেক বিমান এই ক্ষমতা পাবে।
একই সঙ্গে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস আরও দূরপাল্লার একটি ভার্সন নিয়ে কাজ করছে। (BrahMos-NG)১৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের এই মিসাইল এখনও ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে। জোশি বলেছেন, রেঞ্জ বাড়ানোর কাজ ধাপে ধাপে চলছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে পরীক্ষায় ইতিমধ্যেই মূল ২৯০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি দূরত্বে সফলতা পাওয়া গেছে। এই ১৫০০ কিলোমিটার ভার্সন বাস্তবায়িত হলে ভারতের স্ট্রাইক রেঞ্জ নাটকীয়ভাবে বাড়বে। এটি ভবিষ্যৎ রোডম্যাপের অংশ এবং রুশ অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ব্রহ্মোস ইতিমধ্যেই অপারেশন সিঁদুরে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছে। এখন এনজি ভার্সন এলে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও মজবুত হবে। বিদেশি দেশগুলোও আগ্রহ দেখাচ্ছে। সুখোই-৩০ পরিচালনাকারী কয়েকটি দেশ এয়ার-লঞ্চড ব্রহ্মোসে আগ্রহী। এনজি সিস্টেম নিয়েও আলোচনা চলছে।