‘ভারতে ঢুকে হিন্দুত্ববাদীদের মেরুদন্ড ভেঙে দেব!’ হুমকি বাংলাদেশি মৌলবাদী এনায়েতুল্লাহর
ঢাকা: সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে বাংলাদেশের ইসলামি বক্তা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসির (Enayetullah)একটি ভিডিও। ভিডিওতে তিনি হিন্দু সম্প্রদায় ও ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,…
ঢাকা: সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে বাংলাদেশের ইসলামি বক্তা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসির (Enayetullah)একটি ভিডিও। ভিডিওতে তিনি হিন্দু সম্প্রদায় ও ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা হিন্দুত্ববাদীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেব।” তিনি আরও যোগ করেন, “যখন আমরা মুসলমানরা ভারতে প্রবেশ করব, তখন মোদী তার ধুতি তুলে পালিয়ে যাবে।” একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে বাংলাদেশে আর একটিও মূর্তি থাকবে না।
এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ঘৃণা ছড়ানোর নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।এনায়েতুল্লাহ আব্বাসি (Enayetullah)বাংলাদেশে পরিচিত একজন ইসলামি প্রচারক। তাঁর আগের বক্তব্যগুলোতেও হিন্দু, আহমদিয়া ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা শোনা গেছে। ২০২৩ সালে তিনি দিল্লিতে ইসলামের পতাকা ওড়ানোর কথা বলেছিলেন। মুসলমানদের জিহাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আরও দেখুনঃ তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটে নাজেহাল বাংলাদেশ, কেন এই পরিস্থিতি?
মাদ্রাসাগুলোকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার কথাও বলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর তিনি আবার বলেছিলেন, সেখানে মুসলমানরা অনিরাপদ হলে বাংলাদেশে হিন্দুরাও নিরাপদ থাকবে না। এই ধরনের বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় আজকের ভিডিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কেন এমন হুমকিমূলক কথা বলা হচ্ছে?
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই নানা সময়ে হিংসার শিকার হয়েছে। (Enayetullah)মন্দির ভাঙচুর, সম্পত্তি দখল, হামলার খবর মাঝেমধ্যেই আসে। এমন পরিস্থিতিতে একজন প্রচারকের মুখে মূর্তি মুছে ফেলার হুমকি অনেককে ভয় দেখাচ্ছে। ভারতের দিকে তাকিয়েও অনেকে বলছেন, এ ধরনের ভাষা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আরও দেখুনঃ নজরে BRICS সম্মেলন! ভারতে আমন্ত্রণ জানাতে তারেক বৈঠকে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ পাচ্ছে।আব্বাসির বক্তব্যে আরেকটি বিষয় নজর কেড়েছে। দাবি করা হচ্ছে তিনি লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। অসমের এমএলএ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও অনেকে বলছেন।
এই দাবিগুলো এখনো পুরোপুরি যাচাই হয়নি। তবে এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় ভারতের কিছু মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে এমন একজন ব্যক্তি ভারতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন? অসমের রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর প্রভাব কতটা, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।