Explained: পৃথিবীর অন্তিম দিন আসন্ন? আর গোপনে নয়, এবার বুক ফুলিয়ে শক্তি দেখাচ্ছে বেজিং | China has publicly revealed its entire nuclear arsenal - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: পৃথিবীর অন্তিম দিন আসন্ন? আর গোপনে নয়, এবার বুক ফুলিয়ে শক্তি দেখাচ্ছে বেজিং | China has publicly revealed its entire nuclear arsenal

Spread the love

ইংরেজিতে একথা কথা আছে। DOOMSDAY। যার মানে, পৃথিবীর শেষ বা ধ্বংস হওয়ার দিন। সেদিন পৃথিবী জুড়ে এমন সব ঘটনা ঘটবে, এমন মারণলীলা চলবে, যে তার পর আর মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে না। তাপমাত্রা প্রায় সূর্যের উত্তাপের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। বাতাসে অক্সিজেন অবশিষ্ট থাকবে না। আমেরিকা, উত্তর কোরিয়া, চিন বা রাশিয়ার কাছে আজ মজুত অগুণতি পরমাণু বোমা মজুত আছে। যে কোনও দুটি দেশের মধ্যে যদি পরমাণু যুদ্ধ হয়, তাহলে সেটাই পৃথিবীর শেষ দিন হতে পারে। এতগুলো কথা এই কারণেই বলছি, কারণ মনে হচ্ছে DOOMSDAY আসতে বেশি দেরি নেই। কেন বলছি একথা?

পৃথিবীর অন্তিম লগ্ন কি এগিয়ে আসছে? আমেরিকা ও চিন কি এবার দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াবে? ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প যেভাবে বেপোরোয়া হয়ে উঠছেন, পাল্লা দিয়ে ততই হুঙ্কার ছাড়ছে বেজিংও। এই প্রথম চিনা সেনা তাদের আকাশপথে পরমাণু হামলার ক্ষমতা জাহির করল। চিনা সেন্ট্রাল মিলিটারি ও চিনের সাইবার স্পেস প্রশাসন নয়া ভিডিও রিলিজ করেছে। এতদিন যা কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, সেটা এবার প্রমাণ সহযোগে সামনে এল। দেখা গেল, চিনা H-6N strategic bomber-কে কর্ডন করে উড়ছে দুটি J-20 stealth fighter jet। মাঝের বিমানটিতে রয়েছে JL-1 nuclear-capable air-launched ballistic missile। নয়া বোমারু বিমান সামনে আসতেই চিনের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর শক্তি প্রদর্শন সম্পূর্ণ হল। মানে চিন এবার দেশিয় প্রযুক্তিতেই জল-স্থল ও আকাশপথ থেকে পরমাণু হামলায় সম্পূর্ণ সক্ষম। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই নিয়ে তিন তিনবার পরমাণু শক্তির প্রদর্শন করল পিপলস লিবারেশন আর্মি। বিশ্বে আর কোনও দেশ এই ক্ষমতা আজ পর্যন্ত দেখায়নি।

China (3)

  • প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি প্রদর্শন নেক্সট জেনারেশন জুল্যাং বা জেএল-৩ -র
  • সাবমেরিন থেকে পরমাণু বোমা বহনকারী অন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল
  • ৮০০০ কিমি দূরে টার্গেটকে ধ্বংস করার মহড়া জাতীয় টিভিতে দেখানোও হয়েছে
  • চিনা সেনার প্যারেডে মাটি থেকে পরমাণু হামলার সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে
  • মোবাইল লঞ্চার থেকে হামলা করবে ডংফেং-৩১ ও ডিএফ-৬১ আইসিবিএম
  • তরল জ্বালানির এই আধুনিক ল্যান্ড বেসড মিসাইল গোপনে বানাচ্ছিল বেজিং

কিন্তু আর কোনও লুকোছাপা নয়। এবার চিন তাদের পারমাণবিক সব শক্তিই প্রকাশ্যে আনল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চিনের সেন্ট্রাল মিলিটারি তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। গোপনে অস্ত্র তৈরির জল্পনা নয়, ভাণ্ডারে যত পারমাণবিক বোমা আছে- সব দেখাও- এই নীতি নিয়েছে লিবারেশন আর্মি। আজ চীনের কাছে মাটি, জল ও আকাশ — থেকে মিসাইলে পুরে ছোড়ার মতো মারাত্মক সব নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বা বোমা রয়েছে। যার এক একটা জাপানের হিরোশিমা বা নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা বোমার চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এক একটা বোমা যদি বিস্ফোরণ ঘটে, মুহূর্তে ১০০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হবে। পঙ্গু হয়ে জন্মাবে পরবর্তী সাত প্রজন্ম।

  • ১২ হাজার ফুট দূরে হামলায় সক্ষম ডিএফ ৪১ ও ডিএফ ৫সি ছুড়বে পিএলএ
  • মাটির নিচে লুকানো বাঙ্কার, পাকা রাস্তা এমনকী আস্ত শহর তৈরি চিনা সেনার
  • মার্কিন প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেমকে ভেদ করবে আধুনিমতম চিনা ডিএফ ৬১
  • চিন জুড়ে উত্তর ও পশ্চিম প্রান্তে মরুভূমিতে লুকানো কয়েকশো পরমাণু বোমা
  • রি-ফুয়েলিং না করেই কয়েক হাজার ফুট দূরে হামলা করবে শিয়ান এইচ-২০ স্টেলথ বম্বার
  • এই প্রযুক্তি এখনও আমেরিকার কাছে নেই বলেই দাবি বেজিংয়ের

আচমকাই চিন তাদের পরমাণু নীতি পাল্টানোয় রীতিমত ধন্দে পড়েছে হোয়াইট হাউস। এমনিতেই চিন এখন জ্বালানির জন্য ‘ক্লিন নিউক্লিয়ার এনার্জি’ নিয়ে অবিরত গবেষণা চালাচ্ছে। আমেরিকা সহ পশ্চিমী দেশ যখন এই একই জ্বালানির জন্য ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভরশীল, তখন চিন তুলনায় নিরাপদ থোরিয়াম নিয়ে এই গবেষণা চালাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে খবর, উমেন, হামি ও উলিন- শুধু এই তিন মরুভূমিতে অন্তত ৭৭৫টি পরমাণু বোমা মজুত রেখেছে বেজিং। আমেরিকা ও রাশিয়ার কাছে একযোগে এত বোমা নেই যেগুলি মোবাইল লঞ্চার থেকে একবারে ছোড়া যাবে। উত্তর পশ্চিম সীমান্তে চিনের নেক্সট জেনারেশন মিসাইল তৈরির কারখানার ছবি ধরা পড়েছে মার্কিন স্যাটেলাইটে। তবে আমেরিকাও মন্টানা, নর্থ ডাকোটা -র গোপন ঘাঁটিতে ৪০০ অপারেশনাল পরমাণু বোমা তৈরি রেখেছে। এই দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্র যদি যুদ্ধে জড়ায়, তাহলে সেটা নিশ্চিতভাবে পরমাণু যুদ্ধে মোড় নেবে। আর এমনটা হলে সেটা হবে এই পৃথিবীর ডুমস ডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *