৭২ বিএইচপি শক্তির Honda CBR500R Four, ইউরোপে দাম ৮.৮৬ লক্ষ
গুরুগাঁও: ৫০২ সিসির চার-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, ৭২ বিএইচপি শক্তি এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ফিচার নিয়ে ইউরোপের বাজারে হাজির হল হোন্ডা সিবিআর৫০০আর ফোর (Honda CBR500R Four)। জাপানি সংস্থার…
গুরুগাঁও: ৫০২ সিসির চার-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, ৭২ বিএইচপি শক্তি এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ফিচার নিয়ে ইউরোপের বাজারে হাজির হল হোন্ডা সিবিআর৫০০আর ফোর (Honda CBR500R Four)। জাপানি সংস্থার এই স্পোর্টস বাইকটি তৈরি হয়েছে চিনের যৌথ উদ্যোগ উয়িয়াং-হোন্ডার মাধ্যমে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম চিনের বাজারে সামনে এসেছিল মোটরসাইকেলটি। এবার ইউরোপের বাজারেও প্রবেশ করল এটি। বাইকটিতে রয়েছে হোন্ডার ই-ক্লাচ প্রযুক্তি, পাঁচটি রাইডিং মোড এবং দ্বিমুখী কুইকশিফটারের মতো আধুনিক সুবিধা।
৫০২ সিসির ইঞ্জিনে ৭২ বিএইচপি শক্তি
হোন্ডা সিবিআর৫০০আর ফোর-এ রয়েছে ৫০২ সিসির লিকুইড-কুলড, চার-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন ১১,০০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ৭২ বিএইচপি শক্তি এবং ৯,৭৫০ আরপিএমে ৪৭.৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। কাওয়াসাকি জেডএক্স-৪আর এবং জেডএক্সমোটো ৫০০আরআর-এর মতো ছোট ও মাঝারি ক্ষমতার স্পোর্টস বাইকের সঙ্গে এই মডেলের প্রতিযোগিতা হতে পারে। সর্বোচ্চ শক্তির নিরিখে কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও টর্কের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সাধারণ রাস্তায় চালানোর সময় বাইকটি সুবিধা দিতে পারে।
স্টিল ফ্রেম, কেওয়াইবি সাসপেনশন ও নিসিন ব্রেক
বাইকটির চ্যাসিসে রয়েছে স্টিল ফ্রেম এবং অ্যালুমিনিয়ামের সুইংআর্ম। সাসপেনশনের দায়িত্ব সামলায় ৪১ মিলিমিটারের ইউএসডি ফর্ক এবং পিছনের মনোশক, যা সরবরাহ করেছে কেওয়াইবি। সামনের ফর্কে অ্যাডজাস্টমেন্টের সুবিধা নেই। পিছনের সাসপেনশনে প্রিলোড সমন্বয় করা যায়।
ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে দুটি ২৯৬ মিলিমিটারের ডিস্কের সঙ্গে রেডিয়ালি মাউন্ট করা নিসিনের দুই-পিস্টন ক্যালিপার রয়েছে। পিছনে রয়েছে একটি ২৪০ মিলিমিটারের ডিস্ক এবং এক-পিস্টন ক্যালিপার। নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস। বাইকটির ওজন ১৮৯ কেজি এবং সিটের উচ্চতা ৭৮০ মিলিমিটার। ফলে তুলনামূলক কম উচ্চতার চালকদের কাছেও সিটের উচ্চতা সুবিধাজনক হতে পারে। টায়ারের মাপ সামনে ১২০/৭০-জেডআর১৭ এবং পিছনে ১৬০/৬০-জেডআর১৭। ব্যবহার করা হয়েছে পিরেলি রোসো ৪ টায়ার।
পাঁচটি রাইডিং মোড ও ই-ক্লাচ প্রযুক্তি
প্রযুক্তির দিক থেকে সিবিআর৫০০আর ফোর-এ রয়েছে স্পোর্ট, রোড এবং আরবান, এই তিনটি নির্দিষ্ট রাইডিং মোড। পাশাপাশি চালকের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায় এমন দুটি কাস্টম মোডও রয়েছে। এর সঙ্গে মিলবে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, হুইলি কন্ট্রোল এবং দ্বিমুখী কুইকশিফটার। এই ব্যবস্থার সাহায্যে ক্লাচ ব্যবহার না করেই গিয়ার বাড়ানো ও কমানো যায়।
বাইকটির অন্যতম আকর্ষণ হোন্ডার ই-ক্লাচ প্রযুক্তি। এতে প্রচলিত ক্লাচ লিভার থাকলেও গিয়ার পরিবর্তন এবং বাইক থামানো বা চালু করার সময় চালককে প্রতিবার হাতে ক্লাচ পরিচালনা করতে হয় না। তবে প্রয়োজনে প্রচলিত পদ্ধতিতেও ক্লাচ ব্যবহার করা যায়। সব ফিচার নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে পাঁচ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে এবং আধুনিক সুইচগিয়ার। ইউরোপে বাইকটি একটিমাত্র ভ্যারিয়েন্টে বিক্রি হবে, যেখানে ই-ক্লাচ স্ট্যান্ডার্ড।
আগ্রাসী ডিজাইন, কিন্তু চালানোর ভঙ্গি তুলনামূলক আরামদায়ক
হোন্ডার সিবিআর সিরিজের পরিচিত ধারায় বাইকটির ডিজাইন বেশ ধারালো ও স্পোর্টি। সামনের দিকে রয়েছে এক টুকরোর হেডল্যাম্প, যা সংস্থার অন্যান্য ফেয়ারিংযুক্ত স্পোর্টস বাইকের তুলনায় আলাদা চেহারা দিয়েছে। তবে চালকের বসার ভঙ্গি অত্যন্ত ঝুঁকে থাকার মতো নয়। ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার সামনের ফর্কের উপরের অংশের তুলনায় উঁচুতে বসানো হয়েছে। ফলে হাত হাঁটুর উপরে থাকার কথা, যা স্পোর্টি রাইডিংয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারে আরাম দিতে পারে।
ইউরোপে দুটি রঙে পাওয়া যাবে সিবিআর৫০০আর ফোর। একটি হোন্ডার এইচআরসি রেসিং গ্রাফিক্স, অন্যটি কালো রঙের সংস্করণ। দুই রঙের দামই ৬,৯৯৯ পাউন্ড, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৮৬ লক্ষ টাকা।
ভারতে লঞ্চের সম্ভাবনা কতটা?
চিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হওয়ায় হোন্ডা সিবিআর৫০০আর ফোর ভারতে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ৩৫০ সিসির বেশি ক্ষমতার দুই চাকার গাড়ির উপর উচ্চ করের বোঝাও এর দাম নির্ধারণে বড় বাধা হতে পারে। ফলে আপাতত ভারতীয় বাজারে বাইকটির লঞ্চের কোনও নিশ্চিত খবর নেই। একসময় ভারতে বিক্রি হওয়া কাওয়াসাকি জেডএক্স-৪আর-কে এই ধরনের মোটরসাইকেলের কাছাকাছি বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business