জামিনদারদের জেরায় অসঙ্গতি! সিজেপির দুই নেতার মুক্তির আবেদন খারিজ
নয়াদিল্লি: দিল্লির এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (CJP Leaders) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার জামিন সংক্রান্ত শুনানিতে বেশ নাটকীয়…
নয়াদিল্লি: দিল্লির এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (CJP Leaders) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার জামিন সংক্রান্ত শুনানিতে বেশ নাটকীয় মোড় নেয় পুরো ঘটনা। আদালত তাদের জুডিশিয়াল কাস্টডি আরও দুদিন বাড়িয়ে দিয়েছে। স্যুরেটি বা জামিনদারদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সেই কারণেই মুক্তির আবেদন খারিজ হয়েছে।
ঘটনাটা শুরু হয়েছিল গত ১৩ অক্টোবর। জন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার পরও সিজেপির নেতারা সেখানে তিরঙ্গা নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। তার আগে ১০ অক্টোবর তাঁরা শান্তি বজায় রাখার বন্ড জমা দিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, সেই বন্ড ভঙ্গ করেই তাঁরা আবার প্রতিবাদে নামেন। ফলে ১৪ অক্টোবর তাঁদের পাঁচ দিনের জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার তাঁদের আবার আদালতে হাজির করা হয়।
আরও দেখুনঃ মাস্কের নেটওয়ার্কে নজরদারি বাড়াতে নতুন এক হার্ডওয়্যার স্তর গড়ে তোলার পরিকল্পনা মোদী সরকারের
নতুন ম্যাজিস্ট্রেট রিতু রাজের সামনে শুনানি হয়। (CJP Leaders)পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট হুমকিমূলক বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই অভিযোগে এফআইআরও হয়েছে। নতুন আদালতে পুলিশ জানায়, দুই নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ড ভঙ্গ করেছেন এবং শান্তি বিঘ্নিত করার আশঙ্কা রয়েছে। আদালত সেই যুক্তি মেনে নিয়ে বলেছে, তাঁদের আচরণ আইনকে সম্মান করার মতো নয় এবং তাঁরা বারবার নিষিদ্ধ স্থানে প্রতিবাদের ডাক দিয়ে থাকেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জামিনদারদের যাচাই। প্রতিরক্ষা পক্ষ নতুন জামিনদার হাজির করেছিল। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একজন জামিনদারের বন্ডে থাকা ছবি ও আধার কার্ডের ছবির মধ্যে অমিল ধরা পড়ে। তিনি অন্য কোনো পরিচয়পত্রও দেখাতে পারেননি এবং অস্পষ্ট জবাব দিয়েছেন।
অন্য জামিনদার সৌরভ দাসের সম্পর্কে মৌলিক তথ্য, যেমন বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা বলতে ব্যর্থ হন। আদালত মনে করেছে, এই জামিনদারদের দুই নেতার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। জামিনদারের মূল কাজই হল অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা নিশ্চিত করা। সেই যোগ্যতা না থাকায় জামিনদারদের খারিজ করা হয় এবং নতুন জামিনদার জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় সিজেপির আইনজীবীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, জামিনদার খারিজ করার প্রক্রিয়ায় যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি এবং একাধিক জামিনদারকে অস্পষ্ট কারণে বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নজির তুলে ধরে আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুই নেতার আচরণ থেকে বারবার শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং তাঁদের দেওয়া আশ্বাস বিশ্বাসযোগ্য নয়।