আগামী কয়েক দশকে বিশাল উচ্চতায় যাবে ভারত! ভবিষৎবাণী ‘ডক্টর ডুমের’
নয়াদিল্লি: বিশ্ব অর্থনীতির সেই মানুষটি যিনি ২০০৮ (Roubini)সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট আগেভাগেই দেখেছিলেন, এখন ভারতের ওপর বড় বাজি ধরছেন। নুরিয়েল রুবিনি, যিনি ‘ডক্টর ডুম’ নামে পরিচিত, ভারতকে এক বড় সাফল্যের গল্প বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, আগামী কয়েক দশক ভারতের হতে পারে, ঠিক যেমন গত কয়েক দশক চিনের উত্থানের ছিল।
রুবিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অফ বিজনেসের এমেরিটাস অধ্যাপক এবং রুবিনি ম্যাক্রো অ্যাসোসিয়েটসের চেয়ারম্যান। ২০০৬ সালে আইএমএফ-এর এক বক্তৃতায় তিনি মার্কিন আবাসন বাজার ও আর্থিক ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন, যখন ওয়াল স্ট্রিটের বেশিরভাগ মানুষ আশাবাদী ছিলেন।
আরও দেখুনঃ BJP: ইন্ডি জোটের SIR-ফর্ম ৬ অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রচার অভিযান শুরু করতে চলেছে
দুই বছর পর সেই সংকট এলে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। (Roubini)এখন সেই একই অর্থনীতিবিদ ইতিবাচক এক পূর্বাভাস দিচ্ছেন। দ্য ইকোনমিক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত এক প্রধান সাফল্যের গল্প এবং আরও বড় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি যোগ করেন, আগামী কয়েক দশক ভারতকে নিয়ে হতে পারে, যেমন গত কয়েক দশক চিনকে নিয়ে হয়েছিল।
রুবিনি (Roubini)ভারতের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, দক্ষ জনশক্তি, ম্যাক্রো-ইকোনমিক মৌলিক বিষয়গুলো এবং বিশ্বের সঙ্গে উন্মুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, আরও সংস্কার চালিয়ে গেলে ভারতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতি ৭ শতাংশের কাছাকাছি বাড়ছে। প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাংক এবং আইএমএফ-ও ৭ শতাংশের আশপাশে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। কিন্তু রুবিনির মতে, এটা যথেষ্ট নয়। “৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। যুবকদের ভালো চাকরি নিশ্চিত করতে ভারতকে ৯ শতাংশের কাছাকাছি যেতে হবে,” তিনি স্পষ্ট করে বলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দিচ্ছে। তাই দ্রুততর প্রবৃদ্ধি জরুরি।
বিশ্ববাজারে পরিবর্তনও ভারতের পক্ষে কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। চিনকে অনেক কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। ফলে নিয়ারশোরিং ও ফ্রেন্ডশোরিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন ভিত্তি অন্যত্র সরানো হচ্ছে। ভারত এখানে লাভবান হতে পারে। (Roubini)আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত হলে এবং শুল্ক কমানো হলে আরও সুযোগ তৈরি হবে। রুবিনি বলেন, বাজারই আমেরিকাকে ভারতের প্রতি আরও গঠনমূলক নীতি নিতে বাধ্য করবে। ভারতকে মিত্র হিসেবে দেখা উচিত, কারণ দেশটি পশ্চিমের অনেক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রুবিনির এই মন্তব্য ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান গতিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। ডিজিটাল পরিকাঠামো, উৎপাদন প্রণোদনা এবং শক্তি খাতে বিনিয়োগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তরুণ জনসংখ্যা একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হলে সেই সুযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করা জরুরি বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।