Infiltration Alert | শীতের আগেই অনুপ্রবেশের ছক? পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অপেক্ষায় প্রায় ৫০০ জঙ্গি
নয়াদিল্লি: শীতের মরশুম শুরু হওয়ার আগে জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা আইএএনএসের প্রতিবেদনে দাবি করা (Infiltration Alert) হয়েছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) বিভিন্ন লঞ্চপ্যাডে প্রায় ৫০০ জঙ্গি অনুপ্রবেশের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারী তুষারপাতের কারণে পাহাড়ি পথ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ার আগেই তারা সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে সীমান্তের ওপারে জঙ্গিদের বিভিন্ন লঞ্চপ্যাডে তৎপরতা বেড়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তবে গোয়েন্দা সূত্রের এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং অনুপ্রবেশের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা?
আইএএনএসের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা কমাতে জঙ্গিদের তিন থেকে চারজনের ছোট ছোট দলে ভাগ করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে নজরদারির ফাঁক খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।
ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের লঞ্চপ্যাডগুলিতে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা গিয়েছে। তবে গত ১৮ মাসে সীমান্তে কড়া নিরাপত্তার কারণে একাধিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
শীতের আগে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা নতুন ঘটনা নয়। ভারী তুষারপাত শুরু হলে পাহাড়ি পথ দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার আগেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা হতে পারে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা।
ALSO READ | ফোনে আসতেই ভেসে উঠবে নাম! দেশে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সিএনএপি কলার আইডি
তুষারপাতের মধ্যেও সক্রিয় থাকার প্রস্তুতি?
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জঙ্গিদের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহারের উপযোগী পোশাক ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। তুষারপাতের মধ্যেও চলাচল করতে এই সরঞ্জাম সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা।
এক আধিকারিকের দাবি, এই সরঞ্জাম সিয়াচেন অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যবহৃত সরঞ্জামের মতো। এই প্রস্তুতি থাকলে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে গোয়েন্দা আধিকারিকদের একাংশ সতর্ক করে জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে বাড়তি তৎপরতা দেখানোর পিছনে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে বিভ্রান্ত করতে অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য সময় বা পরিমাণ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে বলেও তাঁরা মনে করছেন।
ALSO READ | ধর্ম পরিবর্তন করলে সংরক্ষণের সুবিধা নয়, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
জইশ, লস্কর ও হিজবুলের উপর নজর
আইএএনএসের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আধিকারিকদের দাবি, এই তৎপরতার সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা যুক্ত থাকতে পারে।
এ ছাড়া, অনুপ্রবেশে সহায়তা করার জন্য লঞ্চপ্যাডের কাছাকাছি পাকিস্তানি সামরিক কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারতীয় সেনার গতিবিধি সম্পর্কেও জঙ্গিদের তথ্য দেওয়া হতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত পেরোনোর উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এই দাবিগুলির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি।
ড্রোনের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ
সীমান্তে ড্রোনের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সীমান্তের বিভিন্ন পথ পর্যবেক্ষণ এবং ভারতীয় সেনার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হতে পারে।
ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির অভিযোগ সত্য হলে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে কোন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, কতগুলি ড্রোনের সন্ধান মিলেছে কিংবা সেগুলির মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
শীতের আগে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা
শীতকালে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ি অঞ্চলে তুষারপাতের কারণে সীমান্তে নজরদারি এবং চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রায় ৫০০ জঙ্গির অপেক্ষায় থাকার দাবি, ছোট দলে বিভক্ত হওয়ার অভিযোগ এবং ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনা, সবই গোয়েন্দা সূত্রের উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত তথ্য। এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার আগে সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি। আপাতত শীতের আগে সীমান্তে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।