ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম মাসেই বাজিমাত! বাণিজ্য বাড়ল ১৫%
নয়াদিল্লি: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) কার্যকর (India UK)হওয়ার পর প্রথম পূর্ণ মাসেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে দুই…
নয়াদিল্লি: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) কার্যকর (India UK)হওয়ার পর প্রথম পূর্ণ মাসেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি এফটিএ-র ইতিবাচক প্রভাবের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, আগস্টে ভারত থেকে ব্রিটেনের রফতানি ১০.৩৫ শতাংশ বেড়ে ১.২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেন থেকে ভারতে আমদানি বেড়েছে আরও দ্রুত গতিতে ২৪.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ব্রিটিশ পণ্যের আমদানি ভারতীয় রফতানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কিছুটা কমে ৫২৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
আরও দেখুনঃ মার্কিন অর্থায়নে সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত! বিস্ফোরক মোদী সমর্থক মার্কিন গায়িকা
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। (India UK)ভারতের রফতানিতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের অবদান সবচেয়ে বেশি। এই খাতে রফতানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। টেলিকম যন্ত্রপাতি এবং ওষুধপত্রের রফতানিতেও ভাল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে আমদানির ক্ষেত্রে রুপোর আমদানি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, যা মোট আমদানি বৃদ্ধির সিংহভাগ দায়িত্ব নিয়েছে। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।
ভারত-ব্রিটেন কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইটিএ) গত ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় রফতানির প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যে শূন্য শুল্কে প্রবেশের সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে ব্রিটেন থেকে আসা প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য ভারতে শুল্ক হ্রাস বা সম্পূর্ণ রেয়াতের সুবিধা পাচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এফটিএ-র পূর্ণ সুফল পেতে আরও কিছু সময় লাগবে। তবে প্রথম পূর্ণ মাসেই বাণিজ্যে এমন বৃদ্ধি ইতিবাচক সংকেত। ভারতীয় রফতানিকারকরা (India UK)এখন টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং সামুদ্রিক পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে ভারতীয় ভোক্তারা ব্রিটিশ মদের কিছু ধরন, নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।
এই চুক্তি শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, সেবা খাত, পেশাদারদের চলাচল এবং বিনিয়োগ সহযোগিতারও সুযোগ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি অনুমান অনুসারে, চুক্তিটি পূর্ণ কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে এবং উভয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আগস্টের তথ্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে ব্যবসায়ীরা দ্রুত চুক্তির সুবিধা নিতে শুরু করেছেন। তবে আমদানি বৃদ্ধির হার রফতানির চেয়ে বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ভারসাম্যের দিকে নজর রাখতে হবে। রুপোর মতো পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি সাময়িক হতে পারে, কিন্তু বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শিল্প পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।