দাম ৬৭,১০০ টাকা, কী কী ফিচার মিলছে? - 24 Ghanta Bangla News
Home

দাম ৬৭,১০০ টাকা, কী কী ফিচার মিলছে?

Spread the love

১১০ সিসির কমিউটার মোটরসাইকেলের বাজারে টিভিএস রেডিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত নাম। ভালো মাইলেজ, নির্ভরযোগ্যতা এবং আরামদায়ক রাইডিংয়ের জন্য বাইকটি বহু ক্রেতার নজর কেড়েছে। ২০২৬ সালের আপডেটে রেডিয়নের ডিজাইন ও ফিচারে একাধিক পরিবর্তন এনেছে টিভিএস। এই নতুন রেঞ্জের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মডেল হল বেস ভ্যারিয়্যান্ট, যার দিল্লিতে এক্স-শোরুম দাম ৬৭,১০০ টাকা।

কম খরচে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য বাইক খুঁজছেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এই মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে। এতে রয়েছে নতুন রঙ ও গ্রাফিক্স, এলইডি লাইটিং, অ্যানালগ ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি ইঞ্জিন। তবে বেস মডেলে ডিজিটাল ডিসপ্লের মতো কিছু সুবিধা নেই, যা রেডিয়নের উচ্চতর ভ্যারিয়্যান্টে পাওয়া যায়।

ডিজাইন ও স্টাইলিংয়ে কী পরিবর্তন এসেছে?

২০২৬ টিভিএস রেডিয়নের সব ভ্যারিয়্যান্টের ডিজাইন মূলত একই রাখা হয়েছে। তবে নতুন আপডেটে বাইকটিকে আরও তরুণ প্রজন্মের উপযোগী চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে রেডিয়নের পরিচিত ডিজাইনও বজায় রাখা হয়েছে।

বেস ভ্যারিয়্যান্টে দুটি রঙের বিকল্প রয়েছে। সেগুলি হল ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু এবং ব্ল্যাক অ্যান্ড রেড। নতুন রঙের সঙ্গে আপডেটেড গ্রাফিক্স বাইকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

এই মডেলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল সম্পূর্ণ এলইডি লাইটিং সেটআপ। এতে এলইডি হেডলাইটের পাশাপাশি এলইডি ইন্ডিকেটর এবং এলইডি টেললাইট রয়েছে। ১১০ সিসির এই কমিউটার সেগমেন্টে এই ধরনের লাইটিং সেটআপ বাইকটিকে আলাদা পরিচিতি দিতে পারে।

ডিজাইনের দিক থেকে বেস মডেল এবং উচ্চতর ভ্যারিয়্যান্টগুলির মধ্যে বড় কোনও পার্থক্য নেই। ফলে কম দামের মডেল বেছে নিলেও বাইকের সামগ্রিক চেহারায় আপস করতে হচ্ছে না।

অ্যানালগ মিটারেই মিলবে প্রয়োজনীয় তথ্য

টিভিএস রেডিয়নের বেস ভ্যারিয়্যান্টে রয়েছে অ্যানালগ ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। এখানে স্পিডোমিটার, ওডোমিটার, ফুয়েল গেজ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ইন্ডিকেটর দেখা যায়। ফলে বাইকের গতি, মোট কত দূরত্ব চলেছে এবং জ্বালানির অবস্থা সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়।

এছাড়া রয়েছে ইকোনমি ও পাওয়ার ইন্ডিকেটর। তবে এগুলিকে আলাদা রাইডিং মোড মনে করা ঠিক হবে না। বাইকটি চালানোর ধরন অনুযায়ী এই ইন্ডিকেটরগুলি জ্বলে ওঠে। সংযত ও জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে চালালে ইকোনমি ইন্ডিকেটর এবং তুলনামূলক আক্রমণাত্মকভাবে চালালে পাওয়ার ইন্ডিকেটর সক্রিয় হতে পারে।

এই ফিচারের মাধ্যমে চালক নিজের রাইডিংয়ের ধরন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তবে বেস মডেলে রঙিন ডিজিটাল ডিসপ্লে নেই। সেই সুবিধা পেতে হলে উচ্চতর ভ্যারিয়্যান্ট বিবেচনা করতে হবে।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স: শহরের যাতায়াতের উপযোগী

২০২৬ টিভিএস রেডিয়ন বেস ভ্যারিয়্যান্টে রয়েছে ১০৯.৭ সিসির ইঞ্জিন। কম গতিতে সহজে চালানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে নজর রেখে ইঞ্জিনটি টিউন করা হয়েছে। ঘন যানজটের মধ্যে বারবার থামা ও চলার পরিস্থিতিতে এই ধরনের ইঞ্জিন টিউনিং কার্যকর হতে পারে।

ইঞ্জিনটির গুরুত্বপূর্ণ স্পেসিফিকেশন নিচে দেওয়া হল।

বিষয় তথ্য
ইঞ্জিন ১০৯.৭ সিসি
ইঞ্জিনের ধরন এয়ার-কুলড, সিঙ্গল-সিলিন্ডার
সর্বোচ্চ শক্তি ৮.১৯ পিএস
সর্বোচ্চ টর্ক ৮.৭ এনএম
গিয়ারবক্স ৪-স্পিড

এই বাইকের অন্যতম বড় আকর্ষণ মাইলেজ। পরীক্ষায় শহরের রাস্তায় প্রতি লিটারে ৬৬.২৯ কিলোমিটার এবং হাইওয়েতে ৬৩.৯৭ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল। বাস্তবে ট্রাফিকের ঘনত্ব, রাস্তার অবস্থা, বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালানোর ধরনের কারণে মাইলেজের পরিবর্তন হতে পারে। তাই প্রতিদিনের যাতায়াতের খরচ হিসাব করার সময় এই বিষয়গুলি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

নতুন লো-আরপিএম অ্যাসিস্ট ফিচার

২০২৬ সালের রেডিয়নে নতুন সংযোজন হল লো-আরপিএম অ্যাসিস্ট ফিচার। ঘন যানজটে কম গতিতে বাইক চালানোর সময় এটি সাহায্য করতে পারে। ক্লাচের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি চালকের কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি।

রেডিয়নের ক্লাচ আগে থেকেই হালকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই লো-আরপিএম অ্যাসিস্ট সবার কাছে অপরিহার্য মনে নাও হতে পারে। তবে ব্যস্ত শহরের রাস্তায় বারবার থামতে ও চলতে হয় যাঁদের, তাঁদের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত সুবিধা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ফিচারটি শুধু বেস মডেলে নয়, ২০২৬ রেডিয়নের অন্যান্য ভ্যারিয়্যান্টেও রয়েছে। ফলে লো-আরপিএম অ্যাসিস্ট পাওয়ার জন্য বেশি দাম দিয়ে উচ্চতর মডেল কেনার প্রয়োজন নেই।

ব্রেক ও সাসপেনশনে কী রয়েছে?

টিভিএস রেডিয়নের সবচেয়ে সাশ্রয়ী এই ভ্যারিয়্যান্টে সামনে ও পিছনে ড্রাম ব্রেক দেওয়া হয়েছে। সামনে রয়েছে ১৩০ মিলিমিটারের ড্রাম এবং পিছনে ১১০ মিলিমিটারের ড্রাম ব্রেক।

সাসপেনশনের ক্ষেত্রে সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক ব্যবহার করা হয়েছে। পিছনে রয়েছে দুটি শক অ্যাবজরবার, যেগুলিতে পাঁচ ধাপে প্রিলোড অ্যাডজাস্ট করার সুবিধা রয়েছে। এই সেটআপ বিভিন্ন ধরনের রাস্তার পরিস্থিতিতে রাইডিংয়ের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে বাইকটির ব্রেকিং ও সাসপেনশনকে উচ্চতর ভ্যারিয়্যান্টের তুলনায় আলাদা সুবিধা হিসেবে দেখা যাবে না। মূলত ডিজিটাল ডিসপ্লে ও কিছু অতিরিক্ত ফিচারই ভ্যারিয়্যান্টগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে।

৬৭,১০০ টাকায় TVS Radeon Base কেনা কি যুক্তিযুক্ত?

যাঁরা কম বাজেটে নির্ভরযোগ্য কমিউটার মোটরসাইকেল চান, তাঁদের জন্য ২০২৬ টিভিএস রেডিয়ন বেস ভ্যারিয়্যান্ট বিবেচনা করা যেতে পারে। এর প্রধান আকর্ষণ হল জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন, নতুন এলইডি লাইটিং, পরিচিত ডিজাইন এবং শহরের দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে, রিয়েল-টাইম মাইলেজ ইন্ডিকেটর, রঙিন ডিজিটাল ডিসপ্লে, ট্রিপ মিটার ও ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্টের মতো সুবিধা প্রয়োজন হলে উচ্চতর ডিজি ড্রাম ভ্যারিয়্যান্টের সঙ্গে তুলনা করা ভালো।

৬৭,১০০ টাকা এক্স-শোরুম দামে টিভিএস রেডিয়ন বেস মডেল মূলত সেই ক্রেতাদের লক্ষ্য করে তৈরি, যাঁরা অতিরিক্ত প্রযুক্তির বদলে মাইলেজ, ব্যবহারিক সুবিধা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতকে বেশি গুরুত্ব দেন। কেনার আগে নিজের শহরের ডিলারের কাছ থেকে সর্বশেষ দাম ও অন-রোড খরচ যাচাই করে নেওয়া উচিত।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *