Durga Puja 2026 | কলকাতায় দুর্গাপুজোর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়াল, নিরাপত্তায় ৩২ হাজার কর্মী
কলকাতা: দুর্গাপুজোকে (Durga Puja 2026) ঘিরে নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে কলকাতা। প্রথমবারের মতো শহরে দুর্গাপুজোর সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শহরজুড়ে মোট ৩,৩১৯টি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৪০০টি পুজো বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪৭টি বড় পুজোকে কলকাতা পুলিশের গাইড ম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতিও জোরদার করছে কলকাতা পুলিশ। উৎসবের দিনগুলিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৩২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। চতুর্থী থেকেই রাস্তায় নামবেন পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরা। পাশাপাশি, দিনের বেলায় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানোর উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এক বছরে প্রায় ৪০০টি পুজো বেড়েছে
কলকাতায় দুর্গাপুজোর সংখ্যা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে শহরে ২,৭০১টি দুর্গাপুজো হয়েছিল। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২,৭৫৭। ২০২৪-২৫ সালের হিসাবে শহরে পুজোর সংখ্যা ছিল ২,৯৭৬।
এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৩,৩১৯ হয়েছে। অর্থাৎ, প্রথমবারের মতো কলকাতায় দুর্গাপুজোর সংখ্যা ৩,০০০-এর গণ্ডি পার করছে। নতুন আবাসন, পাড়াভিত্তিক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন এলাকার নতুন পুজো কমিটির অংশগ্রহণ এই বৃদ্ধির অন্যতম প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে।
কলকাতা পুলিশের গাইড ম্যাপে এবার প্রায় ২৪৭টি বড় পুজোর উল্লেখ থাকছে। দর্শনার্থীদের মণ্ডপ খুঁজে পেতে এবং পুজো পরিক্রমার পরিকল্পনা করতে এই গাইড ম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ALSO READ | জমি নিয়ে বিতর্কেও পুজোর অনুমতি! ঐতিহ্য রক্ষায় হাইকোর্টের বার্তা
যাদবপুর ডিভিশনে সবচেয়ে বেশি পুজো
লালবাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের যাদবপুর ডিভিশনে এবার সবচেয়ে বেশি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে। এই ডিভিশনে পুজোর সংখ্যা ৬৮৫। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২৫ এবং ২০২৫ সালে ছিল ৬৫১।
এর পরেই রয়েছে বেহালা ডিভিশন। সেখানে এবার মোট ৫৯৮টি পুজো হচ্ছে। এছাড়া কলকাতার বিভিন্ন ডিভিশনে পুজোর সংখ্যা নিম্নরূপ।
| এলাকা বা পুলিশ ডিভিশন | পুজোর সংখ্যা |
| যাদবপুর | ৬৮৫ |
| বেহালা | ৫৯৮ |
| পূর্ব কলকাতা | ৩৩৫ |
| উত্তর কলকাতা | ৩১২ |
| দক্ষিণ কলকাতা | ২৫৮ |
| দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতা | ২০৮ |
| পূর্ব, মধ্য, পোর্ট ও ভাঙড় ডিভিশন | বাকি পুজোগুলি |
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, দক্ষিণ কলকাতা ও তার আশপাশের একাধিক এলাকায় পুজোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে ওই অঞ্চলগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড়, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ALSO READ | বিসর্জন নয়, রিসাইকেল হবে দুর্গাপ্রতিমা! ত্রিধারার অভিনব উদ্যোগে চমক
বেহালায় নতুন আবাসনের পুজো বাড়ছে
বেহালা এলাকায় দুর্গাপুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির পিছনে নতুন আবাসনগুলির ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুজো সংগঠকেরা। নতুন আবাসন তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বাসিন্দাদের উদ্যোগে পুজো আয়োজনের প্রবণতাও বাড়ছে।
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সহ-সভাপতি এবং বেহালা নতুন দলের আহ্বায়ক সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বেহালা এলাকায় বেশ কয়েকটি নতুন আবাসন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আবাসন গত তিন বছর ধরে দুর্গাপুজো আয়োজনের পরিকল্পনা করছিল। এবার তাদের মধ্যে কয়েকটি পুজোর আয়োজন করছে। এমন কিছু পুজো সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আবাসনকেন্দ্রিক এই উদ্যোগগুলি শহরের পুজোর মানচিত্রে নতুন সংযোজন করছে। ফলে দুর্গাপুজো আর শুধু ঐতিহ্যবাহী পাড়ার পুজো বা বড় ক্লাবের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
নিরাপত্তায় রাস্তায় নামবেন ৩২ হাজার কর্মী
৩,৩১৯টি পুজোকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ শহরজুড়ে বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। মঙ্গলবার লালবাজারে এক সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, চতুর্থী থেকে প্রায় ৩২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী রাস্তায় মোতায়েন থাকবেন।
এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার কলকাতা পুলিশের কর্মী থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার হোমগার্ড মোতায়েন করা হবে। সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং এনসিসি ক্যাডেটদেরও কাজে লাগানো হবে।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বাহিনীর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার কর্মীকে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব দেওয়া হবে। পুজোর সময় শহরের বিভিন্ন রাস্তায় দর্শনার্থী ও যানবাহনের চাপ বাড়ে। বিশেষ করে জনপ্রিয় মণ্ডপগুলির আশপাশে যানজট এড়ানো এবং জরুরি পরিষেবার চলাচল স্বাভাবিক রাখা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
দিনের বেলার ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা
কলকাতা পুলিশের নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এবার দিনের বেলার দর্শনার্থীদের ভিড়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত পুজোর রাতে মণ্ডপে ভিড় বেশি হলেও দিনের বেলাতেও বহু মানুষ ঠাকুর দেখতে বেরোন। তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে শহরের ২৭টি বড় মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
এছাড়া প্রতিটি পুলিশ ডিভিশনের আওতায় আরও ১০ থেকে ১৫টি ছোট মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শুধু বড় পুজো নয়, তুলনামূলক ছোট মণ্ডপগুলিতেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নজর রাখা সম্ভব হবে।
দিনের বেলায় বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনো দর্শনার্থীদের জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে রাস্তার ভিড় ও যান চলাচলের পরিস্থিতি সামাল দিতেও পুলিশের এই পরিকল্পনা সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেকর্ড সংখ্যক পুজো, বড় চ্যালেঞ্জ যান নিয়ন্ত্রণ
কলকাতায় পুজোর সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবারের দুর্গোৎসবের পরিসর আরও বাড়ছে। একদিকে নতুন পুজো ও আবাসনকেন্দ্রিক উদ্যোগের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর চলাচল সামলাতে প্রশাসনের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রায় ৩২ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন, বড় ও ছোট মণ্ডপে পুলিশের উপস্থিতি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে উৎসবের দিনগুলিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে কলকাতা পুলিশ।
এবার শহরে ৩,৩১৯টি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে পুজো পরিক্রমায় বেরোনোর আগে দর্শনার্থীদের মণ্ডপের অবস্থান, যাতায়াতের পথ এবং পুলিশের নির্দেশিকা সম্পর্কে খোঁজ রাখা সুবিধাজনক হবে। রেকর্ড সংখ্যক পুজোর এই বছরে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম বড় দায়িত্ব।