ভিসির পদত্যাগের দাবি, ফের উত্তপ্ত SRFTI, পাল্টা দাবি উপাচার্যর
এই সময়: এ বার সরাসরি উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগ চেয়ে অনির্দিষ্টকাল ধর্না শুরু করলেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) পড়ুয়াদের একাংশ। ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁরা নিজেরাই ধর্নামঞ্চ তৈরি করে সোমবার থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, যতক্ষণ না ভিসি পদত্যাগ করছেন ততক্ষণ তাঁদের এই ধর্না চলবে। প্রয়োজনে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এর ফলে ক্যাম্পাসে সার্বিক অচলাবস্থা তৈরি হলো বলেই মনে করছেন শিক্ষামহলের অনেকে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে গোলমালের ঘটনায় উপাচার্যের ভূমিকা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নেমেছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিকবার দাবি জানানো সত্ত্বেও উপাচার্য তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানেরও কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা অবশ্য বলেন, ‘আমি শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছি। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। পড়ুয়াদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আবেদনও করেছি। এর পরেও অপ্রয়োজনীয় ভাবে আন্দোলন টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ যদিও পড়ুয়াদের দাবি, যতক্ষণ না উপাচার্য ঘটনার দায় নিয়ে সরে দাঁড়াবেন, ততক্ষণ তাঁরা ক্লাস বয়কট চালিয়ে যাবেন। চলবে ধর্নাও।
আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর এসআরএফটিআইয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে যে গোলমালের ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে যথেষ্ট তৎপর ছিলেন না কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপাচার্যের তরফেও যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়াদের একাংশ।
পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ মিলছে না। তাঁরা জানাচ্ছেন, পড়ুয়াদের বক্তব্য শোনা এবং তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু তা না করে কখনও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কর্মীদের খেপিয়ে তোলা হচ্ছে, কখনও আবার শো–কজ় লেটার ধরানো হচ্ছে, কখনও পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো অভিযোগ তুলে এনে হেনস্থা করা হচ্ছে। বার বার তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা করেননি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একটি সংগঠনের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছিল এসআরএফটিআই। এই কর্মসূচির প্রতিবাদ করায় পড়ুয়াদের উপরে চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ বা এবিজিপি-র (পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত) সদস্যদের বিরুদ্ধে। পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মারধরের পাল্টা অভিযোগ তোলেন এবিজিপি-র সদস্য-সমর্থকেরা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে গত ৪ অক্টোবর আর এক রবিবার প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল একটি হিন্দু সংগঠন। সে দিন ফের গোলমাল হয়। ক্যাম্পাসে ঢোকার সব দরজা বন্ধ থাকলেও মিছিল করে এসে সেই হিন্দু সংগঠনের সদস্যেরা জড়ো হন। গেট ধরে ঝাঁকাতে থাকেন বলে অভিযোগ। গেটের ও পারে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে জমায়েত করেছিলেন পড়ুয়ারাও। চলে পাথর এবং ঢিল ছোড়াছুড়ি। পড়ুয়াদের অভিযোগ, গেটে টাঙানো অম্বেদকরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। ওই ঘটনার জেরে পঞ্চসায়র থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার দীপক কুমার। কিন্তু পড়ুয়াদের অভিযোগ, সব জানা সত্ত্বেও গত ৪ অক্টোবর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন উপাচার্য।