Deepfake Scam: পরিচিতের গলায় কেউ ফোন করে টাকা চাইছে? ডিপফেক স্ক্যাম না তো? বুঝবেন কীভাবে? | What is Deepfake? How AI Voice Cloning Scams Work and How to Stay Safe in India
– সৌরভ চক্রবর্তী
কলকাতা: প্রযুক্তি আমাদের জীবন যতটা সহজ করেছে, ঠিক ততটাই অদ্ভুত সব বিপদের মুখে এনে দাঁড়ও করিয়েছে। কিছুদিন আগেও কেউ ভাবতে পারত না, কারও গলার স্বর বা মুখের রূপ ব্যবহার করে কেউ অন্য কাউকে ঠকাতে পারে! কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সৌজন্যে আজ এটাই বাস্তব।
সহজ কথায় বুঝে নেওয়া যাক এই ‘ডিপফেক’ (Deepfake) জিনিসটা আসলে কী, এরা কীভাবে কাজ করে এবং এই ডিজিটাল জালিয়াতি থেকে নিজেকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়।
১. ডিপফেক কী?
AI অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কারো ছবি, ভিডিও বা গলার স্বর নকল করে একদম নতুন একটি ভুয়ো ভিডিও বা অডিও বানিয়ে দেওয়াকেই বলা হয় ডিপফেক।
কীভাবে এটি আপনার ডেটা সংগ্রহ করে?
- সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবি ও ভিডিও: আপনি যখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে নিজের ছবি বা রিলস আপলোড করেন, তখন AI মডেল সেখান থেকে আপনার মুখের গঠন, চোখের মণি, হাসি এবং মুখের অভিব্যক্তি ট্র্যাক করে নেয়।
- ভয়েস ক্লোনিং (Voice Cloning): আপনার ৩ থেকে ৫ সেকেন্ডের স্পষ্ট কোনো অডিও বার্তা বা ভিডিওর স্পিচ পেলেই যথেষ্ট। AI আপনার গলার টোন, কথা বলার ধরণ এবং পিচ হুবহু নকল বা ‘ক্লোন’ করে ফেলতে পারে।
২. ডিপফেক স্ক্যাম কীভাবে চালানো হয়?
ক. ইমার্জেন্সি ভয়েস স্ক্যাম (ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়)-
ধরুন, আপনার বা আপনার পরিবারের কোনও সদস্যের কাছে হঠাৎ একটা ফোন গেল। ওপাশে অবিকল আপনার খুব পরিচিত বা আপনার গলার স্বরে কেউ বলছে—“আমি ভয়াবহ বিপদে পড়েছি, পুলিশ ধরেছে/অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে, এখনই এই নম্বরে ৫০,০০০ টাকা পাঠাও!” ভয়ে ও তাড়াহুড়োতে আপনি নম্বরটি যাচাই না করেই টাকা পাঠিয়ে দিলেন।
খ. ফেক ভিডিও কল ও চরিত্রহনন (Extortion)-
কাউকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করলে এমনভাবে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, যেন মনে হবে প্রিয় কোনো বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তি কথা বলছে। অথবা সোশাল মিডিয়া থেকে সাধারণ ছবি তুলে সেটিকে কৃত্রিমভাবে বানিয়ে আপত্তিকর রূপ দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
৩. ডিপফেক অডিও/ভিডিও চেনার সহজ উপায়:-
ভিডিওর ক্ষেত্রে:
১) চোখের পাতা ও চোখের মনি: ডিপফেক ভিডিওতে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চোখের পাতা ফেলে না। দৃষ্টি কিছুটা স্থির বা অস্বাভাবিক দেখায়।
২) ঠোঁটের নড়াচড়া: মুখের কথার সাথে ঠোঁটের নড়াচড়া (Lip-sync) ঠিকঠাক হয় না। মনে হবে যেন ডাবিং করা সিনেমা দেখছেন।
৩) আলো ও ছায়ার অসামঞ্জস্য: গাল, গলার চারপাশ বা ব্যাকগ্রাউন্ডের আলোর সাথে মুখের আলোর মিল থাকে না। বিশেষ করে মুখ ঘোরানোর সময় কান বা থুতনির চারপাশের বর্ডার ঝাপসা (Blur) দেখায়।
অডিওর ক্ষেত্রে:
১) যান্ত্রিক সুর বা রোবোটিক টোন: কথার ভেতরে আবেগ থাকলেও স্বরের মধ্যে সামান্য হলেও একটা ধাতব বা যন্ত্রচালিত ভাব থেকে যায়।
২) শ্বাসের শব্দ অনুপস্থিতি: মানুষ কথা বলার সময় মাঝখানে যে স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নেয় বা থামে, ডিপফেক অডিওতে তা অনেক সময় বাদ পড়ে যায়।
৪. স্ক্যাম থেকে প্রতিরোধের উপায়
১. সেফটি ওয়ার্ড বা সিক্রেট কোড (Code Word)-
পরিবারের সবার সাথে আগে থেকেই একটা গোপন শব্দ বা সিক্রেট পাসওয়ার্ড ঠিক করে রাখুন। কখনও বিপদের কথা বলে কেউ টাকা চাইলে, আগে সেই কোডটি জিজ্ঞেস করুন। ডিপফেক স্ক্যামাররা কিন্তু এই কোড জানতে পারবে না।
২. সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল লক রাখুন-
খোলামেলা প্রোফাইল মানেই স্ক্যামারদের জন্য সহজ উপাত্ত (Data)। সোশ্যাল মিডিয়ায় এইচডি (HD) কোয়ালিটির ছবি বা ভয়েস রিলস দেওয়ার সময় প্রাইভেসি সেটিং ‘Friends Only’ রাখুন।
৩. কাউন্টার কোশ্চেন বা পরিচিত প্রশ্ন করুন-
হঠাৎ ফোন করে কেউ আত্মীয় সেজে বিপদের কথা বললে, এমন কোনো ব্যক্তিগত প্রশ্ন করুন যা কেবল আপনার আসল পরিচিত ব্যক্তিই জানেন। যেমন—“শেষবার আমাদের কোথায় দেখা হয়েছিল?”
৫. সাইবার বিপদে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ
যদি আপনি ভুলবশত প্রতারণার শিকার হন বা কেউ ডিপফেক দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে, তাহলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন না ও তাদের কথা শুনবেন না।মনে রাখবেন, ব্ল্যাকমেলারকে একবার টাকা দিলে তারা কিন্তু বারবার টাকা চাইবে। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ কল করে বিস্তারিত জানান। এর পাশাপাশি ভারত সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল cybercrime.gov.in-এ গিয়ে স্ক্রিনশট ও কল রেকর্ড জমা দিয়ে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন।