সন্ত্রাসবাদে ‘জিরো টলারেন্স’, সীমান্তপারের নাশকতা নিয়ে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের একবার পাকিস্তান এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদকে তীব্র আক্রমণ শানাল ভারত। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানকে…
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের একবার পাকিস্তান এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদকে তীব্র আক্রমণ শানাল ভারত। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানকে সরাসরি নিশানা করেছেন বিজেপি সাংসদ তথা জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার দেব। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদত জুগিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান এবং সীমান্তে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির জন্য নিরাপদ আশ্রয় বা বেস ক্যাম্প তৈরি করেছে তারা। দেশের মানুষ ও সীমান্ত সুরক্ষায় ভারতের যে আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তা এদিনের মঞ্চ থেকে জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভালকারী ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে বিগত বছরে ঘটে যাওয়া পাহাড়গাঁও (Pahalgam) সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ তোলেন বিপ্লব দেব। ওই হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। এই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের নেপথ্যে থাকা সমস্ত অপরাধী, চক্রী, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
সন্ত্রাসবাদের কোনো ভালো বা খারাপ রূপ হয় না এবং সাধারণ মানুষকে নিশানা করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদ দমনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘কমপ্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম’ (CCIT)-এর দ্রুত অনুমোদনের দাবিও জানিয়েছে ভারত।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সন্ত্রাস দমনে ভারতের অগ্রাধিকার
সন্ত্রাসবাদের বদলে যাওয়া রূপ এবং উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিপ্লব দেব। জঙ্গি সংগঠনগুলি কীভাবে রিক্রুটমেন্ট, কট্টরপন্থী তৈরি, প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, অপারেশনাল প্ল্যানিং এবং আর্থিক লেনদেনের কাজে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে, সে দিকটি তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে ভারতের প্রধান অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে রয়েছে- সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করা। সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার কেন্দ্রে ভুক্তভোগীদের রাখা এবং জঙ্গি মতাদর্শের মোকাবিলা করা এবং সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংস করা।
রাষ্ট্রসংঘের এই জোরালো বার্তার পর নিজের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডলে বিপ্লব দেব জানান, একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মভিত্তিক বিশ্ব অর্ডার গড়ে তুলতে ভারতের এই দৃঢ় অবস্থান ও সংকল্প বর্তমান সরকারের নীতিকেই প্রতিফলিত করে।
‘ইসলাম দখলে যেতে চলেছে মহান দেশ!’ ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে সরব ট্রাম্প
বেলঘরিয়ায় চালু আধুনিক CNG স্টেশন! সবুজ পরিবহনে বড় পদক্ষেপ অর্জুনের