মনুমেন্তালে ৮৫ হাজার ভক্তের চোখে জল এনে শেষ ম্যাচ মেসির
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলে গোলের দরজা। ৪৮তম মিনিটে মেসির তৈরি করা সেট-পিস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি (১-০)। জাতীয় দলের হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোল করার পর কিছুক্ষণ বাদেই মাঠ ছাড়েন ওতামেন্দি। এরপর ৬১তম মিনিটে তৈরি হয় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত—মেসির বাড়ানো বল বাঁ প্রান্ত থেকে ধরে ভেতরে ঢুকে ঠিক মেসি-সুলভ ভঙ্গিতে বাঁকানো শটে দূরপাল্লার গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তরুণ নিকো পাজ়। যাকে ভবিষ্যতে মেসির ১০ নম্বর জার্সির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তাঁর এই গোল ছিল ব্যাটন হস্তান্তরের নিখুঁত প্রতীক।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। বেনিনের বক্সে অগাস্টিন ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। গোটা স্টেডিয়াম তখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে। স্পট থেকে কোনও ভুল করেননি দলনায়ক; ডানদিকের টপ কর্নারে বুলেট গতির শটে বল জড়িয়ে দেশকে ৩-০ এগিয়ে দেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল মেসির ১২৬তম গোল।
ম্যাচের শেষদিকে আরও একটি নিশ্চিত গোল হাতছাড়া হয়, যখন মেসির প্লেসিং শট বারে লেগে ফিরে আসে। অন্তিম মুহূর্তে বক্সের ঠিক বাইরে ২১ মিটার দূরত্বে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্তিনা। মনুমেন্তালের গ্যালারিতে তখন হাজার হাজার ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বলছে শেষ জাদুর অপেক্ষায়। কিন্তু মেসির শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। কোনও চিত্রনাট্য মেনে নয়, একেবারে রক্তমাংসের মানুষের মতোই মাঠে লড়াই করতে করতে শেষ বাঁশি শুনলেন তিনি।