‘এখানে ক্রিকেট বেশি জনপ্রিয়’, ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে অকপট ব্রাজ়িল কোচ
অর্থাৎ ভারতে ফুটবলপ্রেমী মানুষের সংখ্যা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলছেন না ব্রাজ়িল কোচ। তাঁর বক্তব্যের জায়গাটা বরং দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া সংস্কৃতি নিয়ে। তাঁর মতে, মানুষের ফুটবলপ্রেম থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখনও অনেক বেশি।
আন্সেলোত্তি সোজাসাপ্টা বলেও দিয়েছেন, ‘আমি মনে করি, ভারতের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ফুটবল এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলা নয়। তবে তার মানে এই নয় যে ফুটবলের গুরুত্ব নেই। ক্রিকেটের মতোই ফুটবলও একটি দুর্দান্ত খেলা। তবে ক্রিকেটের সঙ্গে এখানকার মানুষ অনেক বেশি পরিচিত এবং সেটাই তাঁদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।’ এই বক্তব্যের মধ্যেই রয়েছে তাঁর আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা। ভারতের কলকাতা, কেরল, গোয়া কিংবা উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো জায়গায় ফুটবল যে মানুষের গভীর আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে, তা অস্বীকার করছেন না আন্সেলোত্তি। কিন্তু তাঁর চোখে গোটা দেশের সংস্কৃতিতে ফুটবল এখনও সেই জায়গায় পৌঁছয়নি, যেখানে ক্রিকেট রয়েছে।
ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ‘দুর্দান্ত সন্ধ্যা’র আশা
তবে আন্সেলোত্তির কথায় ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের প্রতি কোনও অসম্মান নেই। বরং ব্রাজ়িলের মতো একটি দল ভারতে এসে যে উন্মাদনা তৈরি করেছে, তা তিনি নিজেই অনুভব করেছেন। কলকাতায় ম্যাচের আগে সেই আবেগ আরও স্পষ্ট। ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের দেখার জন্য মানুষের আগ্রহ, ম্যাচ নিয়ে আলোচনা— সব মিলিয়ে ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে অন্য রকম উত্তেজনা। আর আন্সেলোত্তিও চান, এই ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকুক।
ব্রাজ়িল কোচ বলেন, ‘আমরা এখানে এসে খুব খুশি। যাঁরা মাঠে এসে কিংবা টেলিভিশনের মাধ্যমে এই ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবেন, তাঁদের সামনে আমাদের দলের মান তুলে ধরতে চাই। আশা করছি, তাঁদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সন্ধ্যা হয়ে উঠবে।’ এই ‘দুর্দান্ত সন্ধ্যা’র একটা আলাদা আবেগ অবশ্যই রয়েছে কলকাতার জন্য। এই শহরের ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে ব্রাজ়িলের সম্পর্ক বহু পুরনো। বিশ্বকাপের সময় শহরের রাস্তায় ব্রাজ়িলের পতাকা, জার্সি আর প্রিয় তারকাদের নিয়ে উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু শনিবার পরিস্থিতিটা অন্য রকম। কারণ ব্রাজ়িলের সেই প্রিয় দলই নামবে ভারতের বিরুদ্ধে। ফলে ব্রাজ়িলের তারকাদের দেখার আনন্দ থাকলেও, গ্যালারিতে সমর্থনের জায়গাটা থাকবে নিজের দেশের জন্য।