স্বস্তিতে কৃষকরা! রবি মরশুমে সারের মজুত দুই বছরের সর্বোচ্চ
খরিফ মরশুমে আবহাওয়া ও চাষের জমি নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের পর রবি মরশুমের শুরুতেই কৃষকদের জন্য এল কিছুটা স্বস্তির খবর। ২০২৬-২৭ রবি মরশুমের শুরুতে দেশে সারের…
খরিফ মরশুমে আবহাওয়া ও চাষের জমি নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের পর রবি মরশুমের শুরুতেই কৃষকদের জন্য এল কিছুটা স্বস্তির খবর। ২০২৬-২৭ রবি মরশুমের শুরুতে দেশে সারের মোট মজুত (Fertiliser Stock) ১৭.০১ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই মজুত প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি এবং গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সারের মজুত থাকায় আগামী রবি মরশুমে রাজ্যগুলির চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা আপাতত নেই। এই মরশুমে বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে সারের চাহিদা প্রায় ৩৮ মিলিয়ন টন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
দুই বছরে কীভাবে বাড়ল সারের মজুত?
রবি মরশুমের শুরুতে ২০২৪-২৫ সালে দেশে মোট সারের মজুত ছিল ১২.৭৭ মিলিয়ন টন। ২০২৫-২৬ সালে তা কিছুটা কমে ১২.৩২ মিলিয়ন টনে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০২৬-২৭ মরশুমের শুরুতে মজুত একলাফে বেড়ে হয়েছে ১৭.০১ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ গত বছরের ১২.৩২ মিলিয়ন টন থেকে এবার মজুত বেড়েছে প্রায় ৪.৬৯ মিলিয়ন টন। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৩৮.০৭ শতাংশ। এই বাড়তি মজুত রবি মরশুমে সার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ইউরিয়া মজুত বেড়েছে ৫৪ শতাংশের বেশি
সারের মোট মজুতে সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে ইউরিয়ার। ২০২৬-২৭ রবি মরশুমের শুরুতে দেশে ইউরিয়ার মজুত আনুমানিক ৮.৩৩ মিলিয়ন টন। ২০২৫-২৬ সালের একই সময়ে ইউরিয়ার মজুত ছিল ৫.৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ এক বছরে মজুত বেড়েছে ৫৪.২৬ শতাংশ। রবি মরশুমে গম-সহ বিভিন্ন ফসলের জন্য ইউরিয়ার চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মরশুমের শুরুতেই এত বেশি মজুত থাকায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরিয়া সরবরাহ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে।
ডিএপি মজুতও বেড়েছে
রবি মরশুমের শুরুতে ডিএপি বা ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেটের মজুত ৩.০৩ মিলিয়ন টন বলে অনুমান করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালের একই সময়ে ডিএপির মজুত ছিল ২.৭৮ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ এবার মজুত প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। রবি মরশুমে বিভিন্ন ফসলের জন্য ফসফরাসের প্রয়োজন থাকায় ডিএপির পর্যাপ্ত সরবরাহ কৃষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এনপিকেএস মজুত ৫.৬৫ মিলিয়ন টন
ইউরিয়া ও ডিএপির পাশাপাশি এনপিকেএসের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬-২৭ রবি মরশুমের শুরুতে এনপিকেএস মজুত আনুমানিক ৫.৬৫ মিলিয়ন টন। গত বছরের একই সময়ে এই মজুত ছিল ৪.১৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ এক বছরে এনপিকেএসের মজুত বেড়েছে প্রায় ৩৬.৪৭ শতাংশ। এনপিকেএসের মধ্যে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং সালফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। ফলে বিভিন্ন ফসলের পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী এই ধরনের সার গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত মজুত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রবি মরশুমে গম, ডাল, তৈলবীজ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসলের চাষ হয়। এই সময়ে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার না পৌঁছলে চাষের খরচ এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সারের মজুত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় মরশুমের শুরুতে সরবরাহ নিয়ে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুধু দেশে মোট মজুত কত রয়েছে, সেটিই শেষ কথা নয়। কোন রাজ্যে কত সার রয়েছে এবং কৃষকদের কাছে সেটি সময়মতো পৌঁছচ্ছে কি না, তার উপরও সরবরাহ পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
রবি মরশুমে নজর থাকবে সরবরাহ ব্যবস্থায়
২০২৬-২৭ রবি মরশুমে রাজ্যগুলির মোট সারের চাহিদা প্রায় ৩৮ মিলিয়ন টন হতে পারে। তার তুলনায় মরশুমের শুরুতেই ১৭.০১ মিলিয়ন টন মজুত রয়েছে। ইউরিয়া, ডিএপি এবং এনপিকেএস, তিন ধরনের সারের মজুতই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ফলে রবি মরশুমের শুরুতে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি বাড়তি বাফার তৈরি হয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে এই মজুত কীভাবে রাজ্যগুলিতে বণ্টন করা হয় এবং চাষের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকদের কাছে কত দ্রুত সার পৌঁছয়। মরশুম এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ফসলের চাষের পরিমাণ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী সারের চাহিদাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.