বিশ্ববিদ্যায়লে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিশ্ববিদ্যায়লে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ

Spread the love

পাঞ্জাবের ফাগওয়ারায় লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউতে (LPU) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে কেন্দ্র করে…

পাঞ্জাবের ফাগওয়ারায় লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউতে (LPU) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন রবিবার হিংসাত্মক রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুরের পাশাপাশি জালন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন পড়ুয়াদের একাংশ। পরে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার জেরে পুলিশ ও পড়ুয়াদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। বিভিন্ন রিপোর্টে পুলিশি গাড়িতে আগুন লাগানো এবং একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উঠে এসেছে। সন্ধ্যার দিকে ফের পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এই সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশকর্মী ও পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

কী নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ?

শনিবার গভীর রাতে এলপিইউয়ের মেয়েদের হস্টেলের কাছে পড়ুয়ারা জড়ো হতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে যে, গার্লস হস্টেল থ্রি বা জি থ্রি-তে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এক ছাত্রীর আত্মহত্যার দাবিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে আত্মহত্যার দাবিটির সত্যতা পুলিশ আলাদাভাবে যাচাই করছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ জানিয়েছিল, তারা এমন কোনও ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য বা অভিযোগপত্র পায়নি। পরে এক ছাত্রীর বয়ান নেওয়ার পর পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে। ফলে বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় এসেছে।

ধর্ষণের অভিযোগে এফআইআর, গঠন এসআইটি

সতনামপুরা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ নম্বর ধারায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে আপাতত অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

জালন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করা হয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ফাগওয়ারার এসপি মেজর সিং। দলে রয়েছেন ডিএসপি পালবিন্দর সিং এবং এক মহিলা পুলিশ পরিদর্শক। তদন্তে ফরেনসিক এবং প্রযুক্তিগত তথ্যও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তকারীরা হস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন সংক্রান্ত তথ্য, ফরেনসিক প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য পরীক্ষা করতে পারেন। অভিযোগে উল্লেখ করা সময় এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও তদন্তের অংশ হবে।

জাতীয় সড়ক অবরোধ, যান চলাচল ব্যাহত

বিক্ষোভ ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছাড়িয়ে জালন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় সড়কে পৌঁছে যায়। পড়ুয়ারা রাস্তা অবরোধ করায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ায় পুলিশকে যানবাহন অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দিতে হয়। পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দাবি করেন। বিশেষ করে হস্টেলের নিরাপত্তা, অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, অভিযোগ ‘ভুয়ো’

এলপিইউ কর্তৃপক্ষ অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে অভিযোগে উল্লেখ করা ছাত্রীর বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, পড়ুয়াদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়েছে এবং তাঁরা যে হস্টেল কক্ষ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, সেটিও পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এলপিইউর ডিন সৌরভ লাখনপালও পরিস্থিতিকে গুজবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকেও কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভ ও ভাঙচুরে যোগ দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো যাচাই না-করা তথ্যের উপর নির্ভর না করার আবেদন জানিয়েছে।

তদন্তেই পরিষ্কার হবে প্রকৃত ঘটনা

এই ঘটনায় এখন দুটি বিষয় আলাদাভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, এক ছাত্রীর বয়ানের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা। দ্বিতীয়ত, সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের পিছনে থাকা তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে হিংসা এবং সম্পত্তি নষ্টের ঘটনাগুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

অর্থাৎ, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এফআইআর দায়ের হলেও অভিযোগটি এখনও তদন্তাধীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনও দাবি বা পাল্টা দাবিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এসআইটির তদন্ত এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পরই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *