বিদেশে বেশি যাচ্ছে স্টেট বোর্ডের পড়ুয়ারাই, দাবি সমীক্ষায়
এই সময়: বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার দৌড়ে সিবিএসই বা অন্য সর্বভারতীয় বোর্ডের পড়ুয়াদের ছাপিয়ে যাচ্ছেন রাজ্য বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এ রাজ্যে যেমন মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড রয়েছে। এডটেক কোম্পানি আপগ্র্যাড-এর সদ্য প্রকাশিত ‘ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন রিপোর্ট ২০২৬’-এ উঠে এসেছে এমনই কিছু চমকপ্রদ তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক ভারতীয়দের মধ্যে ৫৬ শতাংশই রাজ্য বোর্ডের পড়ুয়া, যেখানে সিবিএসই বোর্ডের পড়ুয়া মাত্র ৪০ শতাংশ।
২০২৫–এর জানুয়ারি থেকে ২০২৬–এর জুন পর্যন্ত প্রায় ৫৩,৮০০ জন ছাত্রছাত্রীর কাউন্সেলিংয়ের তথ্যের উপরে ভিত্তি করে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই আসছেন দেশের টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলি থেকে। অনেকেই পরিবারের প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া, যাঁরা বিদেশি ডিগ্রির জন্যে আবেদন করছেন।
বিদেশে পড়ার গন্তব্যেও এসেছে বড়সড় বদল। ইউএসএ, ক্যানাডা বা ইউকে-র মতো পরিচিত দেশগুলির জায়গা নিচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ২০২৬–এ ভারতীয়দের সবচেয়ে পছন্দের দেশ হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে জার্মানি। ৪৮ শতাংশ পড়ুয়া জার্মানি যেতে চাইছেন, যেখানে আমেরিকার প্রতি আগ্রহ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ শতাংশে। মূলত আমেরিকা, ব্রিটেন ও ক্যানাডায় পড়াশোনার অত্যধিক খরচ এবং ভিসার নিয়মে কড়াকড়ির কারণেই পড়ুয়ারা জার্মানি, ফিনল্যান্ড বা স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলির দিকে ঝুঁকছেন।
এই প্রবণতার পিছনে কাজ করছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার তাগিদও। রিপোর্ট বলছে, ছাত্রছাত্রীরা এখন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ এবং কর্মসংস্থানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ৪৯ শতাংশ পড়ুয়ার প্রধান লক্ষ্যই হলো পড়াশোনা শেষে একটি ভালো চাকরি পাওয়া। এর পাশাপাশি, সাশ্রয়ী শিক্ষার খোঁজে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন পড়ুয়াই ৩০ লক্ষ টাকার নীচে বাজেট নির্ধারণ করছেন।
বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছেন পড়ুয়ারা। বর্তমান চাকরির বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং এবং অ্যানালিটিক্স-এর মতো অত্যাধুনিক বিষয়গুলি এখন পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। নিছক বিদেশি ডিগ্রির মোহ থেকে বেরিয়ে ভারতীয় পড়ুয়ারা এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী এবং পেশাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।