চোটে বারবার দলের বাইরে ৫ ভারতীয় ক্রিকেটার, তালিকায় বুমরাহ-হার্দিক-হর্ষিত
ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলির একটি হল প্রতিভাবান ক্রিকেটারের (Indian Cricketers) বিশাল পুল। একাধিক ফরম্যাটে ব্যস্ত সূচি থাকা সত্ত্বেও এই গভীরতার কারণেই নিয়মিত ভালো পারফর্ম করে ভারতীয় দল। তবে এই ব্যস্ত ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের প্রভাব পড়ছে ক্রিকেটারদের শরীরের উপরও। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের দলের বাইরে থাকতে হয়েছে, যা চিন্তা বাড়িয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, জিম্বাবোয়ে এবং শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক সফরগুলিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে চোটের কারণে পাওয়া যায়নি। সামনে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোটের কারণে দলের বাইরে। চোটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বারবার ভারতীয় দলের বাইরে থাকা পাঁচ ক্রিকেটারকে দেখে নেওয়া যাক।
৫. মায়াঙ্ক যাদব
২০২৪ সালের আইপিএলে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নিয়মিত বল করে রাতারাতি ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছিলেন মায়াঙ্ক যাদব। তাঁর গতি এবং আগ্রাসী বোলিং তাঁকে আইপিএলের অন্যতম বড় আবিষ্কার করে তুলেছিল।
কিন্তু চোট তাঁর ক্রিকেটজীবনের শুরুতেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনটি আইপিএল মরসুম মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০টি ম্যাচ খেলেছেন মায়াঙ্ক।
Advertisements
ভারতের হয়েও ২০২৪ সাল থেকে মাত্র ছয়টি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে তাঁকে।
প্রায় ২১ মাসের বিরতির পর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে শেষ টি-২০ সিরিজে মাঠে ফেরেন মায়াঙ্ক। তাঁর গতি নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেই অনুযায়ী নিয়মিত ম্যাচ খেলা এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
৪. নীতীশ কুমার রেড্ডি
হার্দিক পান্ডিয়ার পর ভারতীয় দল যে ফাস্ট-বোলিং অলরাউন্ডারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে নীতীশ কুমার রেড্ডি অন্যতম। ব্যাট এবং বল, দুই বিভাগেই সুযোগ পেলেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
তবে চোটের কারণে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারও বারবার বাধার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এখনও পর্যন্ত ভারতের হয়ে মাত্র ২০টি ম্যাচ খেলেছেন নীতীশ।
২০২৫ সালের পর থেকে তিনি কোনও টেস্ট বা টি-২০ আন্তর্জাতিক খেলেননি। তাঁর শেষ ওয়ানডে ম্যাচও হয়েছিল জুনে। তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজের জন্য তিনি ফিটনেসের ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের ভবিষ্যৎ ফাস্ট-বোলিং অলরাউন্ডার পরিকল্পনায় নীতীশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর ফিট থাকা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. হার্দিক পান্ডিয়া
আধুনিক সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। ব্যাট হাতে দ্রুত রান করা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে উইকেট নেওয়া, দুই ক্ষেত্রেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
কিন্তু হার্দিকের কেরিয়ারে ফিটনেস বরাবরই বড় উদ্বেগের বিষয়। একাধিক চোটের কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে।
বর্তমানে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে রিহ্যাবে রয়েছেন হার্দিক। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজে তিনি খেলছেন না। তবে অস্ট্রেলিয়া এ দলের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের জন্য তাঁকে দলে রাখা হয়েছে। যদিও সেখানে তাঁর খেলা সম্পূর্ণভাবে ফিটনেসের উপর নির্ভর করবে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় হার্দিক ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। ফলে তাঁকে দীর্ঘ সময় চোটমুক্ত রাখা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম বড় লক্ষ্য।
২. জসপ্রীত বুমরাহ
ভারতের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহর ক্ষেত্রে বিসিসিআই বরাবরই ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। একটানা ক্রিকেট না খেলিয়ে তাঁকে নিয়মিত বিশ্রাম দেওয়া হয়, যাতে চোটের ঝুঁকি কমানো যায়। তারপরও মাঝে মাঝে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে বুমরাহকে।
২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ এবং আইপিএলে টানা ক্রিকেট খেলার পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজেও খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সিরিজ চলাকালীন হাঁটুতে চোট পান বুমরাহ। এরপর থেকেই তিনি মাঠের বাইরে।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে বুমরাহর ফিটনেস এখন ভারতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি।
বুমরাহকে পুরোপুরি ফিট রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলিতে ব্যবহার করাই টিম ম্যানেজমেন্টের বড় লক্ষ্য হতে পারে।
১. হর্ষিত রানা
সাম্প্রতিক সময়ে চোটের কারণে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে হর্ষিত রানা অন্যতম। ২৪ বছর বয়সি এই পেসারকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজ থেকে চোটের কারণে ছিটকে যেতে হয়েছে।
ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ পেসার হিসেবে ইতিমধ্যেই তিন ফরম্যাটেই অভিষেক হয়েছে হর্ষিতের। কেরিয়ারের শুরুটাও যথেষ্ট ভালো হয়েছিল তাঁর।
কিন্তু ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর এখনও পর্যন্ত ভারতের হয়ে মাত্র ৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। চোটের কারণে নিয়মিত ক্রিকেট খেলতে না পারাই এর অন্যতম কারণ।
২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ এবং আইপিএল ২০২৬-এ কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়েও খেলতে পারেননি হর্ষিত। এরপর ইংল্যান্ড সফরে ফিরে মাঠে নামেন। কিন্তু মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার পর ফের চোটের কবলে পড়েন তিনি।
তরুণ এই পেসারের গতি, বাউন্স এবং আক্রমণাত্মক বোলিং ভারতের ভবিষ্যৎ পেস আক্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। কিন্তু বারবার চোটে পড়লে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো কঠিন হবে।
চোটের সমস্যা এখন বড় চিন্তা ভারতের
ভারতের হাতে প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অভাব নেই। কিন্তু একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলে দলের কম্বিনেশন এবং পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ে।
মায়াঙ্ক যাদব ও হর্ষিত রানার মতো তরুণ পেসারদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ম্যাচ খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করা জরুরি। আবার হার্দিক পান্ডিয়া ও জসপ্রীত বুমরাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস সবচেয়ে বড় বিষয়।
অতএব, ভারতের সামনে শুধু শক্তিশালী স্কোয়াড তৈরি করাই নয়, ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণ, পুনর্বাসন এবং ফিটনেস ম্যানেজমেন্টকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যে এই ভারসাম্যই আগামী দিনে ভারতীয় দলের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন