ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বিপদে ভারতের IT শিল্প! আটকে গেল কগনিজেন্টের গ্রিন কার্ড ফাইলিং
নয়াদিল্লি: আমেরিকার শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভারতের (green card)আইটি শিল্পে এক ধরনের শঙ্কার আবহ। কগনিজ্যান্ট টেকনোলজি সলিউশনসের নতুন গ্রিন কার্ড বা পিইআরএম ফাইলিং স্থগিত করে…
নয়াদিল্লি: আমেরিকার শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভারতের (green card)আইটি শিল্পে এক ধরনের শঙ্কার আবহ। কগনিজ্যান্ট টেকনোলজি সলিউশনসের নতুন গ্রিন কার্ড বা পিইআরএম ফাইলিং স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে চলতি তদন্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি কোনো ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান নয়।
এর মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ একান্ন হাজারের মতো, যার মধ্যে (green card)ভারতেই রয়েছে দুই লাখ ছাপ্পান্ন হাজারেরও বেশি মানুষ। অর্থাৎ মোট কর্মীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ভারতে। গত বছর কোম্পানিটি বিশ হাজার ফ্রেশার নিয়োগ করেছিল এবং এ বছর প্রায় পঁচিশ হাজার নতুন মুখ যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই স্থগিতাদেশ শুধু কগনিজ্যান্টের জন্যই নয়, পুরো ভারতীয় আইটি খাতের জন্য এক বড় ধরনের সংকেত হয়ে উঠেছে।
আরও দেখুনঃ পিএনবি-র গোপন ভল্টে ১৭ কোটিরও বেশি জাল নোট! এনআইএ-র জালে ব্যাংক ম্যানেজার
পিইআরএম হল (green card)সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় কাজ করার সুযোগ দিতে পারে। গ্রিন কার্ডের পথে এটা প্রথম ধাপ। নতুন ফাইলিং বন্ধ থাকলে অনেক কর্মী, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনসাইটে কাজ করছেন এবং স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল। যদিও পুরোনো অনুমোদনগুলো বাতিল হয়নি এবং এইচ-ওয়ান-বি ভিসা প্রোগ্রামেও সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই, তবুও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে এই ঘটনা।
Advertisements
আমেরিকার শ্রম বিভাগের ইনস্পেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আমেরিকান কর্মীদের হুমকি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। হোয়াইট হাউসের ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে মিলে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভারতের আইটি শিল্পের কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে অনসাইট সুযোগ অনেকের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনেক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার কলেজ থেকে (green card)বেরিয়েই বড় কোম্পানিতে চাকরি পান এই আশায় যে একদিন আমেরিকায় গিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। কগনিজ্যান্টের মতো প্রতিষ্ঠানে ফ্রেশারদের নিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকলেও এখন সেই নিয়োগের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনসাইট প্রজেক্ট কমলে কোম্পানিগুলো নতুন লোক নিয়োগেও হিচকিচ করতে পারে। আর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে ফ্রেশারদের ওপর।
তারাই সবচেয়ে আগে আক্রান্ত হন যখন বাজারে চাহিদা কমে।এই ঘটনা আরও একটা বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে এন্ট্রি-লেভেলের অনেক কাজ ইতিমধ্যেই চাপের মুখে। রুটিন কাজগুলো এআই দিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। তার ওপর যদি আমেরিকার ভিসা নীতি আরও কঠোর হয়, তাহলে ভারতীয় আইটি কর্মীদের জন্য দ্বিমুখী চাপ তৈরি হবে। একদিকে প্রযুক্তির পরিবর্তন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন।
কগনিজ্যান্ট শুধু একটি কোম্পানি নয়। (green card)এটি ভারতীয় আইটি সেবার প্রতীক। টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো বা এইচসিএলের মতো অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে। যদি এমন তদন্ত অন্য কোম্পানিগুলোতেও বিস্তৃত হয়, তাহলে পুরো খাতে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।অনেক পরিবারের রুটি-রুজির ওপর নির্ভর করে এই শিল্প। ছোট শহর থেকে বড় শহরে এসে আইটি চাকরি পাওয়া হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের গল্প।
এখন সেই স্বপ্নে একটু অন্ধকার নেমে এসেছে। কোম্পানিগুলো হয়তো স্থানীয় নিয়োগ বাড়াবে বা অন্য দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা ভাববে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে ভারতের আইটি কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি সহজ হবে না। অনসাইট সুযোগ কমে গেলে বেতন কাঠামোও প্রভাবিত হতে পারে। অভিজ্ঞ কর্মীরা হয়তো অন্য পথে বেরোবেন, কিন্তু নতুন প্রজন্মকে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।