KYC-র দরকার পড়ে সব জায়গায়, ভুল KYC দিলে কী হয়, জানেন? | Wrong KYC Details: What Happens If You Submit Incorrect KYC Information? - 24 Ghanta Bangla News
Home

KYC-র দরকার পড়ে সব জায়গায়, ভুল KYC দিলে কী হয়, জানেন? | Wrong KYC Details: What Happens If You Submit Incorrect KYC Information?

Spread the love

নয়া দিল্লি: ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বাধ্যতামূলক থাকে কেওয়াইসি। এছাড়া অন্য কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতেও কেওয়াইসির দরকার পড়ে। এই কেওয়াইসির মাধ্যমে ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। এই কেওয়াইসির কোনও তথ্য ভুল থাকলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে কী হয়, জানেন?

কেওয়াইসি-তে কী কী তথ্য লাগে?

১. ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)

  • পুরো নাম: সরকারি পরিচয়পত্র অনুযায়ী নামের সঠিক বানান।
  • জন্মতারিখ: বয়স যাচাইয়ের জন্য।
  • পিতা/মাতা বা স্বামীর নাম।
  • লিঙ্গ ও বৈবাহিক অবস্থা।
  • পেশা ও আয়ের উৎস

২. পরিচয়ের প্রমাণ (Proof of Identity)

এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত যেকোনও একটি সরকারি পরিচয়পত্রের কপি বা নম্বর লাগে:

  • আধার কার্ড (Aadhaar Card)
  • প্যান কার্ড (PAN Card)
  • ভোটার আইডি কার্ড (Voter ID)
  • পাসপোর্ট (Passport)
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License)

৩. ঠিকানার প্রমাণ (Proof of Address)

বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য:

  • আধার কার্ড, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি এতে বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ থাকে)।
  • সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল – সাধারণত ৩ মাসের পুরোনো নয়)।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট বা পাসবইয়ের কপি।
  • ভাড়াটিয়া হলে রেজিস্টার্ড বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র (Rent Agreement)।

৪. কনট্যাক্ট ডিটেইলস (Contact Details)-

  • সক্রিয় মোবাইল নম্বর: ওটিপি (OTP) ও নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য।
  • ইমেইল ঠিকানা (E-mail Address)।

৫. ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য (Photo & Biometrics)

  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • লাইভ সেলফি বা ভিডিও কেওয়াইসি (Video KYC): অনলাইন বা ডিজিটাল কেওয়াইসির ক্ষেত্রে সরাসরি ক্যামেরা অন করে যাচাই বা ছোট ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়।
  • বায়োমেট্রিক: আঙুলের ছাপ (Fingerprint) বা আইরিস স্ক্যান।

কেওয়াইসি-তে ভুল তথ্য দিলে কী হয়?

‘কেওয়াইসি’ (KYC) ফর্মে ভুল বা ভুয়ো তথ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেকোনও ভুল তথ্যের কারণে গ্রাহকদের প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ-

ব্যাঙ্কিং সেক্টর সূত্রে জানা গিয়েছে, কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে বা তথ্যে ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি অর্থাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাঙ্কিং সার্ভিস বা ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়। এর ফলে অ্যাকাউন্টে থাকা জমা টাকা ফ্রিজ হয়ে যায় এবং সঠিক পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহক তা তোলা বা লেনদেন করতে পারেন না।

আর্থিক জরিমানা-

ভুল কেওয়াইসি তথ্য দিলে, আইনত এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মভঙ্গের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানাও হতে পারে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য নির্ধারিত জরিমানা আরোপ করা হয়।

 জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা 

জাল নথি, যেমন- নকল পরিচয়পত্র, ইউটিলিটি বিল বা ভুয়া আয়ের প্রমাণপত্র জমা দিলে, ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে জালিয়াতি, পরিচয় চুরি (Identity Theft) এবং অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।

এছাড়া ভুল নাম বা পরিচয় দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করলে, আর্থিক তছরুপ বা মানি লন্ডারিং (Money Laundering) হিসাবে গণ্য করা হয়। কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সিভিল ও ক্রেডিট স্কোরে প্রভাব

কেওয়াইসি-তে ভুল তথ্য দিলে ওই ব্যক্তির পরিচয় ক্রেডিট রিপোর্টে নথিভুক্ত হয়ে যায়। ফলে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে  বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। ভবিষ্যতে কখনওই কোনও ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ (Loan) বা ক্রেডিট কার্ড পাওয়া সম্ভব হয় না।

 ব্ল্যাকলিস্টিং-

ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের মধ্যে আর্থিক অপরাধীদের তালিকা শেয়ার করে থাকে। ভুল তথ্য বা জালিয়াতির মাধ্যমে কেওয়াইসি করার কারণে কোনও প্রতিষ্ঠানে কালো তালিকাভুক্ত হলে, অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা থেকেও  চিরতরে বঞ্চিত হতে পারেন।

তথ্য ভুল হলে কী করা উচিত?

যদি কেওয়াইসি জমা দেওয়ার সময় ভুলবশত কোনও বানান বা তথ্য ভুল হয়ে থাকে, তবে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার (Customer Care) বা শাখায় গিয়ে ভুল স্বীকার করে কেওয়াইসি আপডেট বা কারেকশন ফর্ম (KYC Update/Correction Form) পূরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *