কৃষিতে AI বিপ্লব! কিন্তু লাভের কতটা পাবেন কৃষক? ২০৪৭-এর বড় প্রশ্ন - 24 Ghanta Bangla News
Home

কৃষিতে AI বিপ্লব! কিন্তু লাভের কতটা পাবেন কৃষক? ২০৪৭-এর বড় প্রশ্ন

Spread the love

কলকাতা: ভারতীয় কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এমন এক সময়ে প্রবেশ করছে, যখন এই খাত নিজেই দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বাড়ছে, কৃষিজমির গড় আকার এখনও ছোট, বাজার আরও বেশি সংযুক্ত হচ্ছে এবং সীমিত জমি ও জলসম্পদ দিয়েই কৃষকদের বেশি উৎপাদনের চাপ বাড়ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, বাজারের তথ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তুলতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কিন্তু এর পাশাপাশি একটি প্রশ্নও সামনে আসছে, এআই কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল করে তুললে সেই অতিরিক্ত লাভের কতটা শেষ পর্যন্ত কৃষকের হাতে পৌঁছবে? এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বা দার্শনিক প্রশ্ন নয়। এটি সরাসরি অর্থনীতির প্রশ্ন এবং আগামী দুই দশকে ভারতীয় কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

শুধু উৎপাদন বাড়লেই কৃষকের আয় বাড়বে না

এআই-ভিত্তিক পরামর্শ ব্যবস্থা কৃষকদের আবহাওয়া, স্যাটেলাইট, মাটি, ফসল এবং বাজারের বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে বীজ বোনা, সেচ, সার প্রয়োগ, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং ফসল কাটার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে। পশুপালন ও মৎস্যচাষেও রোগ শনাক্তকরণ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু উৎপাদন বাড়াই অর্থনৈতিক সাফল্যের শেষ কথা নয়।

ধরা যাক, এআই ব্যবহারের ফলে কোনও কৃষকের ফসলের উৎপাদন ২০ শতাংশ বেড়ে গেল। তাতে তাঁর আয় কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের উপর। প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচ কত, উৎপাদিত ফসল কত দামে বিক্রি হচ্ছে এবং বাজারে কৃষকের দর কষাকষির ক্ষমতা কতটা, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisements


   


   

একই সময়ে হাজার হাজার কৃষক একই ফসলের উৎপাদন বাড়ালে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দাম কমে যেতে পারে। আবার এআই ব্যবহারের জন্য যদি নির্দিষ্ট সংস্থার দামি ইনপুট কিনতে হয়, তাহলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লাভের একটি অংশ সেই সংস্থার কাছে চলে যেতে পারে।

কোনও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম যদি কৃষি বাজারের তথ্য এবং ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনোর পথ নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে মূল্য সংযোজনের আরও একটি অংশ কৃষকের পরিবর্তে বাজারের অন্য স্তরে চলে যেতে পারে। অর্থাৎ এআই থেকে বেশি উৎপাদন মানেই বেশি কৃষক আয় নয়। আসল প্রশ্ন হল, তৈরি হওয়া অতিরিক্ত অর্থনৈতিক মূল্য বা লাভের কতটা কৃষকের কাছে যাচ্ছে।

এআই তথ্যকে গণতান্ত্রিকও করতে পারে, আবার কেন্দ্রীভূতও করতে পারে

ভারতীয় কৃষিতে দীর্ঘদিন ধরেই তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। কৃষককে অনেক সময় অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে আবহাওয়া, রোগ-পোকার আক্রমণ, বাজারদর, চাহিদা, বীজ ও সারের মান এবং বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এআই এই তথ্যের ঘাটতি কমাতে পারে। কিন্তু এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য।

একজন কৃষক যদি সস্তা বা সরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় আবহাওয়ার নির্ভুল পূর্বাভাস পান, তাহলে প্রযুক্তি তাঁর ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। কিন্তু কোনও বড় বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম যদি কৃষকের জমি, ফসল, বাজারদর, কৃষকের আচরণ এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য সংগ্রহ করে, তাহলে সেই প্ল্যাটফর্ম কৃষকের তুলনায় অনেক বেশি তথ্যগত সুবিধা পেতে পারে। অর্থাৎ একটি তথ্যের বৈষম্য কমাতে গিয়ে এআই অন্য ধরনের তথ্যের বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

কৃষি তথ্যের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে

কৃষি ক্ষেত্রে তথ্যের মূল্য দ্রুত বাড়ছে। জমির রেকর্ড, ফসলের সমীক্ষা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, স্যাটেলাইট ছবি, ডিজিটাল বাজার, ঋণ, বিমা এবং সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি হচ্ছে।

এআই যখন এই বিভিন্ন তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারবে, তখন প্রশ্ন উঠবে, এই তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, কে তা ব্যবহার করতে পারবে এবং কে তার অর্থনৈতিক মূল্য পাবে? এটি শুধুমাত্র ডিজিটাল প্রশাসনের বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অর্থনৈতিক লাভ এবং কৃষকের দর কষাকষির ক্ষমতা।

ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের অভিজ্ঞতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে এমন উন্মুক্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে কয়েকটি বড় সংস্থার হাতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই নীতি কৃষি এআইয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

কৃষি এআইকে শুধু বাজার নয়, একটি ইকোসিস্টেম হিসেবে দেখতে হবে

ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু কৃষি এআইয়ের বাজার তৈরি করা নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ কৃষি এআই ইকোসিস্টেম তৈরি করা। সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা তথ্যভান্ডার, পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সুবিধা, সাধারণ প্রযুক্তিগত মান এবং উন্মুক্ত ইন্টারফেস তৈরি করা গেলে স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষক সংগঠন এবং রাজ্য সরকারগুলি নতুন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবে। এর জন্য প্রত্যেক সংস্থাকে নতুন করে পুরো প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে না।

ছোট কৃষকদের জন্য এআইয়ের মডেল আলাদা হতে হবে

ভারতীয় কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হল, এখানে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন। বড় বাণিজ্যিক খামারের জন্য তৈরি এআই প্রযুক্তি সরাসরি ছোট জমিতে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। জমি খণ্ডিত, ইন্টারনেট সংযোগ সব জায়গায় সমান নয়, কৃষকের হাতে বিনিয়োগের অর্থ সীমিত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষির ধরনও আলাদা। ফলে প্রযুক্তিকে এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

নইলে কৃষিতে একটি নতুন এআই বিভাজন তৈরি হতে পারে। বেশি পুঁজি থাকা কৃষক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দ্রুত আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করবে, আর ছোট কৃষক প্রচলিত কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে থাকবেন। এর ফলে তথ্যের ব্যবধান ধীরে ধীরে উৎপাদনশীলতা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আয়ের ব্যবধানেও পরিণত হতে পারে। তবে এর সমাধান প্রযুক্তির ব্যবহার ধীর করা নয়। বরং সেচ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সস্তা ঋণ, গ্রামীণ রাস্তা এবং বাজার পরিকাঠামোর মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সঠিক কৃষি পরামর্শের কোনও মূল্য নেই, যদি কৃষকের সেই পরামর্শ বাস্তবায়নের মতো জল, অর্থ বা পরিকাঠামো না থাকে।

কৃষকের পাশে মানুষও প্রয়োজন

ভবিষ্যতের কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থাতেও মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। এআই স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী অত্যন্ত নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারে। কিন্তু সেই তথ্যের অর্থ কী, কোন সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কতটা এবং কৃষকের বাস্তব পরিস্থিতিতে কোন পথটি সবচেয়ে উপযুক্ত, তা বোঝাতে প্রশিক্ষিত কৃষি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ কৃষির সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তথ্যের উপর নির্ভর করে না। কৃষকের আর্থিক সামর্থ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এআইয়ের সাফল্য মাপতে হবে কৃষকের আয় দিয়ে

ভারতের কৃষিতে এআই ব্যবহারের সাফল্য শুধুমাত্র কতজন কৃষক কোনও অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তা দিয়ে মাপা উচিত নয়। বরং দেখতে হবে:

  • ফসলের উৎপাদন কতটা বেড়েছে
  • ইনপুট খরচ কতটা কমেছে
  • জলের ব্যবহার কতটা কমেছে
  • ফসলের ক্ষতি কতটা কমেছে
  • কৃষক কতটা ভালো দামে ফসল বিক্রি করতে পারছেন
  • কৃষকের আয়ের ওঠানামা কতটা কমেছে
  • শেষ পর্যন্ত কৃষকের নিট আয় কতটা বেড়েছে

কোনও এআই প্ল্যাটফর্মে ১০ লাখ কৃষকের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, এটিকে নিজে থেকে সাফল্যের সূচক বলা যায় না।

২০৪৭-এ ভারতের কৃষি এআই কোন পথে যাবে?

২০৪৭-এর দিকে তাকালে ভারতের সামনে কৃষিতে এআই ব্যবহারের অন্তত তিনটি সম্ভাব্য ছবি রয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে, এআই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎপাদনশীলতার প্রযুক্তি হয়ে উঠবে। সরকারি ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রযুক্তিকে সাশ্রয়ী রাখবে, কৃষক সংগঠনগুলি দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াবে এবং উৎপাদনশীলতার লাভ কৃষকের আয় ও স্থিতিশীলতা বাড়াবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম কৃষি তথ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কৃষি-সংক্রান্ত বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। তখন তৈরি হওয়া মূল্যের একটি ছোট অংশ কৃষকের হাতে পৌঁছতে পারে। তৃতীয় ক্ষেত্রে, তৈরি হতে পারে দুই গতির কৃষি অর্থনীতি। বড় ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কৃষকরা দ্রুত এআই গ্রহণ করবেন, অথচ কোটি কোটি ছোট কৃষক প্রযুক্তির মূল স্রোতের বাইরে থেকে যাবেন।

কৃষককেই রাখতে হবে কেন্দ্রবিন্দুতে

তাই ভারতের নীতি হওয়া উচিত শুধু কৃষিতে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া নয়। তার পাশাপাশি এমন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে প্রযুক্তির সুফল ন্যায্যভাবে বণ্টিত হবে। কৃষি এআইকে সরকারি ডিজিটাল পরিকাঠামোর একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সরকার ইন্টারঅপারেবল ডেটাসেট, সাধারণ প্রযুক্তিগত মান, পরীক্ষার পরিকাঠামো এবং সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সুবিধা তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে কৃষকদের কৃষি-তথ্যের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং অধিকার দিতে হবে। কৃষকের জমি ও উৎপাদন থেকে তৈরি তথ্য যেন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অদৃশ্য আয়ের উৎস হয়ে না ওঠে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন বা এফপিও, সমবায় এবং অন্যান্য কৃষক সংগঠনকে এআই ইকোসিস্টেমের সক্রিয় অংশীদার করা যেতে পারে। সম্মিলিতভাবে প্রযুক্তি কেনা, তথ্য ভাগ করে নেওয়া এবং বাজারে দর কষাকষি করলে ছোট কৃষকদের খরচ কমানো ও ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এআই প্রকল্পের মূল্যায়ন করতে হবে অর্থনৈতিক ফলাফল দিয়ে, প্রযুক্তি ব্যবহারের সংখ্যা দিয়ে নয়।

শেষ কথা

এআই ভারতীয় কৃষিকে প্রতিক্রিয়াশীল কৃষি থেকে পূর্বাভাসনির্ভর কৃষিতে, সাধারণ কৃষি পরামর্শ থেকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরামর্শে এবং বিচ্ছিন্ন বাজার থেকে আরও সংযুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি অ্যালগরিদম কতটা উন্নত, তা নয়। প্রশ্ন একটাই, কৃষক এতে কতটা লাভবান হলেন।

ভারত যদি ২০৪৭ সালের মধ্যে কৃষিতে এআইয়ের প্রকৃত সুফল পেতে চায়, তাহলে প্রযুক্তির সঙ্গে একটি স্পষ্ট অর্থনৈতিক চুক্তিও প্রয়োজন। এআই কৃষির উৎপাদন ও বিপণনের পদ্ধতি বদলাতে পারে, কিন্তু সেই উৎপাদনশীলতার লাভ অবশ্যই কৃষকের আয়, ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষমতা এবং দর কষাকষির শক্তি বাড়াতে হবে। এটাই হতে পারে ভারতের জন্য প্রকৃত মানবকেন্দ্রিক ও কৃষককেন্দ্রিক কৃষি এআই মডেল।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *