ওডিশার আমাজ়ন, ভিতরকণিকার জলা-জঙ্গলে তিন দিন
যাত্রা শুরু
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ। সকাল সাতটা। গোলপার্কে তখনও কলকাতার শীতের হালকা আমেজ। শহর পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। অথচ আমাদের মধ্যে তখন উৎসবের হাওয়া। একুশজনের দল। নয় বন্ধু, তাঁদের স্ত্রী এবং সঙ্গী-সাথীরা মিলে আমাদের ছোট্ট চলন্ত সংসার।
কেউ ব্যাগ গুছিয়ে উঠেছেন, কেউ খাবারের প্যাকেট নিয়ে এসেছেন, কেউ আবার উঠেই শুরু করে দিয়েছেন পুরোনো দিনের গল্প। ট্রাভেলার ছাড়তেই মনে হলো—আমরা আর একুশজন প্রৌঢ় মানুষ নই, আমরা যেন আবার সেই স্কুলের ছেলেগুলো হয়ে গেছি।
কোলাঘাটে প্রথম বিরতি। কলকাতা পেরিয়ে রাস্তা যত এগোতে লাগল, শহরের কংক্রিটের জঙ্গল পিছনে পড়ে যেতে লাগল। কোলাঘাটে থামলাম ব্রেকফাস্টের জন্য। চা, টোস্ট, লুচি-তরকারি—যার যা পছন্দ। খাবারের চেয়ে অবশ্য আড্ডাটাই বেশি জমল।
আবার পথ চলা শুরু হলো। বালাসোর পেরিয়ে চাঁদবালির পথে। বালাসোরে আবার চায়ের বিরতি। তারপর কটক পেরিয়ে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলল চাঁদবালির দিকে। শহর ক্রমশ পিছনে পড়ে গেল। রাস্তার দুপাশের দৃশ্য বদলে যেতে লাগল। কোথাও সবুজ ধানক্ষেত, কোথাও ছোট গ্রাম, কোথাও নদী, কোথাও নির্জন রাস্তা।
মনে হচ্ছিল, আমরা শুধু কলকাতা থেকে ভিতরকণিকা যাচ্ছি না— আমরা ধীরে ধীরে পরিচিত পৃথিবী থেকে বেরিয়ে অন্য এক পৃথিবীতে ঢুকে পড়ছি। শেষ পর্যন্ত পৌঁছালাম চাঁদবালি জেটিঘাটে, বৈতরণী নদীর ধারে। এখান থেকেই শুরু হবে আমাদের আসল অভিযান।