‘সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে...’, শর্মিলা ঠাকুরকে হঠাৎ কেন শিষ্টাচারের পাঠ দিলেন কঙ্গনা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে…’, শর্মিলা ঠাকুরকে হঠাৎ কেন শিষ্টাচারের পাঠ দিলেন কঙ্গনা?

Spread the love

জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানৌত। শর্মিলার এই ভাবনাকে ‘সংকীর্ণ ও কৃত্রিম’ আখ্যা দিয়ে কঙ্গনা তাঁকে ধর্মীয় গোঁড়ামি বা ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর ‘বন্দে মাতরম’ গানের বিভিন্ন স্তবক নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারি বা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর শুধুমাত্র প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া উচিত। কারণ পরবর্তী স্তবকগুলোতে বিভিন্ন দেবী (যেমন দুর্গা ও কালী)-র উল্লেখ রয়েছে, যা একেশ্বরবাদী বা অন্যান্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাসের জন্য স্পর্শকাতর হতে পারে। শর্মিলার এই মন্তব্যটি আসে কংগ্রেস কার্যকরী কমিটিরKangana Ranaut Sharmila Tagore Vande Mataram সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর। যেখানে কংগ্রেস দল ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে জানায় যে, দলীয় কর্মসূচিতে কেবল প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে।

শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের ভিডিয়ো নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে একটি দীর্ঘ বার্তা লেখেন কঙ্গনা। একজন শিল্পীর কাছ থেকে এমন দৃষ্টিভঙ্গি অনভিপ্রেত। এ কথা জানিয়ে কঙ্গনা বলেন, ‘আমি শর্মিলাজির মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করি, তবে একজন শিল্পী হিসেবে শিল্প ও কবিতা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এতটা সীমিত ও কৃত্রিম হতে দেখে আমি হতবাক। যে কোনও গান বা কবিতায় শব্দগুলো রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কবিরা কাঙ্ক্ষিত আবেগ ফুটিয়ে তুলতে নানাবিধ কল্পনার আশ্রয় নেন।’

কঙ্গনার মতে, বন্দে মাতরম হলো ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেশের ভিতরে সুপ্ত ‘শক্তি’কে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই মহান একটি শিল্পকর্মকে কেবল ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা অনুচিত। অভিনেত্রীর কথায়, ‘স্বামী বিবেকানন্দ এমন যুবসমাজ চেয়েছিলেন যাদের পেশি লোহার মতোই শক্ত এবং স্নায়ু ইস্পাতের মতো কঠিন। তিনি আসলে ‘শক্তি’ সঞ্চারের দাবি জানিয়েছিলেন।’

সবশেষে কঙ্গনা লেখেন, ‘দয়া করে এই হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। আমরা যেন একে অপরকে আপন করে নিই। আমি আপনাকে ভালোবাসি এবং সেই আগের মতো আপনার উষ্ণ আলিঙ্গন পেতে আমার কোনও আপত্তি নেই।’

FAQ

১. ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গে শর্মিলা ঠাকুর কী বলেছিলেন?

উত্তর: শর্মিলা ঠাকুর বলেছিলেন যে ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবকই প্রকাশ্যে গাওয়া উচিত, কারণ পরবর্তী স্তবকগুলোতে বিভিন্ন দেব-দেবীর উল্লেখ রয়েছে।

২. শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যে কঙ্গনা রানৌত কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন?

উত্তর: কঙ্গনা শর্মিলার এই মন্তব্যকে ‘সংকীর্ণ ও কৃত্রিম’ বলেছেন এবং কাব্যিক রূপককে ধর্মীয় রীতির সাথে তুলনা না করে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

৩. কংগ্রেসের ১৯৩৭ সালের প্রস্তাবটি কী ছিল?

উত্তর: ১৯৩৭ সালে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার নীতি নির্ধারণ করেছিল।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *