১২ বছরের আঁধার ১২ দিনে দূর, সৌজন্যে জনতার দরবার
সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া
এক-আধ বছর নয়। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেও বাড়িতে জ্বলেনি রোশনাই। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ শরণাপন্ন হয়ে কাটল দীর্ঘ এক যুগের অন্ধকার বঞ্চনা। সৌজন্যে প্রশাসনিক তৎপরতা। যার দৌলতে ১২ বছরের কষ্ট দূর হলো মাত্র ১২ দিনে!
শুক্রবার বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক এবং পুঞ্চা থানার পুলিশের যৌথ উপস্থিতিতে পুরুলিয়ার লৌলাড়া গ্রামের বাসিন্দা তথা পেশায় সাইকেল মিস্ত্রি কৃষ্ণ বাউড়ির বাড়িতে অবশেষে পৌঁছল বিদ্যুতের আলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে কৃষ্ণর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। কৃষ্ণর অভিযোগ, ‘প্রতিবেশীদের একাংশ জোর করে আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে দেয়নি। আগের সরকারের সময়ে দফায় দফায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও কাজ হয়নি।’
রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও সমস্যা সমাধানের জন্য চালু করেন ‘জনতার দরবার’। কৃষ্ণ বাউড়ির স্ত্রী ও মেয়ে ১৩ জুলাই কলকাতার সল্টলেকে জনতার দরবারে পৌঁছন। সেখানে ৩৪ নম্বরে তাঁদের আবেদন নথিভুক্ত হয়। সে দিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ না-হলেও উপস্থিত শীর্ষ আধিকারিকরা পুঞ্চা থানা ও ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করেন এবং তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।
নির্দেশ পেতেই পুঞ্চা থানার পুলিশ, বিডিও এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের স্টেশন ম্যানেজার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখেন। বৃহস্পতিবার জমি বিতর্ক নিয়ে দু’পক্ষকে ডেকে প্রশাসনিক শুনানি হয়। যাঁরা বাধা দিয়েছিলেন তাঁরা উপযুক্ত নথিপত্র পেশ করতে না-পারায় প্রশাসন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবারই আলো জ্বলে কৃষ্ণর ঘরে। এক যুগের অন্ধকার ঘুচতেই আনন্দে ভাসছে বাউড়ি পরিবার।
কৃষ্ণর মেয়ে কাকলি বাউড়ি বলেন, ‘জনতার দরবারে গিয়ে নিজেদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেলাম। মুখ্যমন্ত্রী এবং পুঞ্চা ব্লক প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর পুরুলিয়া জেলা রিজিওনাল ম্যানেজার রজতকুমার টিকাদার বলেন, ‘বিষয়টি জনতার দরবার থেকে আমাদের কাছে আসে। পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত শুনানি ডেকে আইনি বাধা দূর করে পরিবারটিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’