হরমুজ় প্রণালীতে মিসাইল হামলা, UAE-র তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের
হরমুজ় প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মিসাইল হামলার অভিযোগ উঠল ইরানের বিরুদ্ধে। সোমবার এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত ৮ জন। তাঁদের মধ্যে চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঠিক সময়ে ইরানকে এর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।
হরমুজ় প্রণালীর একটি অংশ ওমানের সমুদ্রসীমার মধ্যে পড়ে। UAE-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, সেই জলপথের দক্ষিণ দিকের শিপিং লেন ধরে যাচ্ছিল তাদের দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। আচমকাই তাতে ক্রুজ মিসাইল দিয়ে হামলা চালায় ইরান। দুটি ট্যাঙ্কারেই আগুন লেগে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় ভারতীয় নাবিকের। তবে তাঁর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ইউএই সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ করার অধিকার সেনার রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
এই ঘটনায় হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণ করা হয়। ফলে এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের।
যদিও হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি ইরান। তবে এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে ইরানের নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী যাতায়াতকারী সমস্ত পণ্যবাহী জাহাজের উপরে ২০ শতাংশ ‘নিরাপত্তা মাশুল’ বা কর চাপানোর ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘হরমুজ়ের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে টাকা ব্যয় হবে, তার খরচ তোলার জন্য সব জাহাজকে ২০ শতাংশ কর দিতে হবে।’