জনগণনায় ডাক: পুরসভাকে যাদবপুরের ভিসি–র চিঠিতে কর্মিসঙ্কট প্রসঙ্গ
এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষাকর্মীর চরম আকাল চলছে। আর এই কর্মিসঙ্কটের মধ্যেই আসন্ন জনগণনা বা সেনসাসের (২০২৭) কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের তলব করেছে কলকাতা পুরসভা। তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও পঠনপাঠন শিকেয় ওঠার আশঙ্কায় পুরসভাকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য চিঠি দিয়েছেন।
কলকাতা পুরসভার সিটি সেনসাস অফিসারকে বুধবার পাঠানো একটি ই–মেলে উপাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষাকর্মীদের ৬৮৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এই বিপুল শূন্যপদের কারণে এমনিতেই ধুঁকছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অল্প সংখ্যক কর্মী দিয়েই কোনও রকমে পরীক্ষা, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি থেকে যাবতীয় প্রশাসনিক ও গবেষণার কাজকর্ম সামলানো হচ্ছে। এই অবস্থায় বিপুল সংখ্যক কর্মীকে সেনসাসের ডিউটিতে পাঠিয়ে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজ ও পঠনপাঠনের পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হবে।
তা ছাড়া, পুরসভার পাঠানো তালিকায় এমন কয়েক জনের নাম রয়েছে, যাঁরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নন বলেও উপাচার্য তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন এবং তালিকাটি সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাই, পড়ুয়াদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের ওই ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার, একান্তই সেটা সম্ভব না–হলে জনগণনার কাজে কম সংখ্যক কর্মীকে নিয়োগ করার আবেদন কলকাতা পুরসভাকে জানিয়েছেন উপাচার্য।
তবে উপাচার্য ওই পদক্ষেপ করার আগেই বিষয়টি নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জুটা) সরব হয়। উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে তারা জানায়, আগামী ১৫ জুলাই থেকে জনগণনার ডিউটির জন্য ২০০ জনেরও বেশি শিক্ষাকর্মীকে চাওয়া হয়েছে। জুটা-র দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ শিক্ষাকর্মীর পদ এমনিতেই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। তার উপর এখন বিভিন্ন ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে জোর কদমে। এই অবস্থায় ২০০–র বেশি শিক্ষাকর্মীকে ছেড়ে দিলে পঠনপাঠন, গবেষণা ও ভর্তি প্রক্রিয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত জরুরি ব্যবস্থাগুলি ভেঙে পড়বে। শিক্ষক সমিতির এই আশঙ্কার পরেই পুরসভাকে চিঠি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহায় অবস্থার কথা উপাচার্য তুলে ধরেছেন।