Kunal Ghosh: ‘পাণ্ডবরাও ৫ জন, কৌরব কূল কিন্তু বাঁচেনি’, প্রথমবার বিধানসভাতে গিয়েই কথার প্যাঁচে টেক্কা দিলেন কুণাল | Kunal Ghosh Steals the Show in Assembly Session, Takes Swipe at Firhad Hakim and Opposition Leader
কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন। আর গোটা অধিবেশনের হল লাইভ টেলিকাস্ট। আলোকবিন্দুতে মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন শুরু থেকেই তিনি এক কাট্টা বলে গিয়েছেন। স্পিকারের কথায়, তিনিই ‘হায়েস্ট’। রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে বক্তৃতা রাখার দিন ছিল আজ। কুণাল তা নিয়েই কথা বলছিলেন, তবে তাতেও ফিরহাদ হাকিম ও রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক লাইনে রেখে বিঁধলেন। বিধানসভাতেই দেখা গেল তৃণমূল বনাম তৃণমূল আকচাআকচি।
বিধানসভায় এদিন যখন বলতে ওঠেন কুণাল, তখন বিধানসভার অন্দরেই ওঠে চোর স্লোগান। কিন্তু কুণালকে একটুকুও বিব্রত হতে দেখা গেল না। বরং চোর চোর স্লোগানের সঙ্গে হালকা দুলে তালও মেলালেন তিনি। বিজেপি বিধায়করা চিৎকার করছেন, কুণালের ডায়লগ্, ‘বন্ধুরা ভাল বলবে, শত্রুরা খারাপ করবেন। কিন্তু ইউ কান্ট ইগনোর।নামটা মনে রাখবেন, কুণাল কুমার ঘোষ।’
স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, “স্যর আমাকে যদি ওরা বলতে না দেয়, তাহলে কিন্তু ওদের বলার সময়ে আমাকে থামাতে পারবেন না।” বিজেপি বিধায়করা আবার চিৎকার করেন। তখন কুণাল তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “আরে দাঁড়াও না.. এই হাউজে প্রায় ২৭০ জন বিজেপি কিংবা বিজেপি স্পনসারড বিধায়করা রয়েছেন… আমাদের শুনতে হয়েছে, আমরা মাত্র পাঁচ জন…” কুণালের উত্তর, “আরে পাণ্ডবরাও ৫ ছিলেন। কৌরব কূল কিন্তু বাঁচেনি।” কৌস্তভ কুণালকে চিৎকার করে থামাতে থাকেন, কুণাল বলেন, “কৌস্তভ তোমরা আমাকে ভয় পাও জানি…।” স্পিকার থামানোর চেষ্টা করেন। যাতে কোনও রাজনৈতিক ভাষণ না হয়। তখন কুণাল বলেন, “যদি কেউ প্রশ্ন করে, তুমি কোন তৃণমূল? এটা রাজনৈতিক ভাষণ নয়?”
রাজ্য়পালের ভাষণ নিয়ে কুণাল যখন কথা বলতে থাকেন ফের, এলাকার জল জমা প্রসঙ্গ আসে। তাতে কুণাল বলেন, “সেটা পুর নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন। আমি তো কারোর না পারার, করার দায় নিতে পারব না।” এখানে, ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরেই। সেই খোঁচা স্পষ্ট কুণালের কথায়।
ফের আবারও চিৎকার। তাঁদের উদ্দেশে কুণাল বলেন, রাজনৈতিক ভাষণ দিচ্ছি না। একটু আগে আপনাদেরই বক্তা, কোন তৃণমূল বলে আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তখন কিন্তু কেউ বলেননি, রাজনৈতিক ভাষণ ছিল না। তখন আমাকে শুনতে হয়েছে, বাড়ি গিয়ে গজগজ করুন।”
রাজ্যপালের ভাষণের ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা, হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গ সব বিষয়গুলি নিয়েই কথা বলেন কুণাল। যাতে বিনা নোটিসে বুলডোজার না চালানো হয়, সেটা উল্লেখ করেন। তখনই আবার পাল্টা খোঁচা আসে। কুণালের প্রত্যুত্তর, ‘কারোর পাপ ডিফেন্ড করতে আসিনি।’ আর সেই প্রসঙ্গেই বলেন, “এখনও হাতের আঙুলের কালি যায়নি, আমি খারাপ হতে পারি, আমরা হেরে যেতে পারি, কিন্তু আমরা বেইমান নই। আপনার অনৈতিকভাবে তৈরি করা শিবির।” স্বাভাবিকভাবেই এটা যে ঋতব্রতকে খোঁচা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কুণাল দীর্ঘক্ষণ ধরে অধিবেশনে বলেন। যখন তাঁর হাতে আর এক মিনিট ছিল, তখন স্পিকার তাঁকে মনে করার। কুণাল তখন আবারও বলতে চান। সে সময়ে হাসতে হাসতে স্পিকার বলেন, “আপনাকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে, আপনিই হায়েস্ট।”