ভবানীপুরের ভোট গণনা মামলায় বড় পদক্ষেপ কলকাতা হাইকোর্টের
ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে…
ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও নথি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইভিএম, ভিভিপ্যাট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভোট গণনা প্রক্রিয়ার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য।
আদালতের(Calcutta High Court) এই নির্দেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ভোট গণনায় অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগের তদন্তে এই সমস্ত তথ্য ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই কোনও তথ্য যাতে নষ্ট না হয় বা হারিয়ে না যায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।
শুনানিতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত আরও নির্দেশ দেন যে, মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সুব্রত গুপ্ত এবং সুনীল আগরওয়ালকে মামলার পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন বলেই আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ভোট গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ। আদালত বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে অবস্থিত গণনাকেন্দ্রের ভিতরে এবং বাইরে থাকা সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আদালতের মতে, ভোট গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করতে এই ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ, ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার সময় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম এবং কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করেই আদালত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, ভোট সংক্রান্ত মামলায় ইভিএম, ভিভিপ্যাট এবং সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভবিষ্যতে যদি আদালত বিস্তারিত তদন্ত বা পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়, তাহলে এই তথ্যগুলিই প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সেই কারণেই আদালত আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সমস্ত তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।