শিন্ডের শিবসেনায় রবিবারেই যোগদান বিদ্রোহী ছয়ের? বাড়ছে জল্পনা
এই সময়: গত ক’দিনের হাই ভোল্টেজ ড্রামার যবনিকা পতন কি আজই! অন্তত রাজধানীর রাজনীতির অন্দরের খোঁজ যাঁরা রাখেন, তাঁদের ইঙ্গিত তেমনই। সব ঠিক থাকলে রবিবারই উদ্ধবের শিবসেনার বিদ্রোহী ছয় সাংসদ যোগ দেবেন শিন্ডের শিবসেনায়। লোকসভার সচিবালয় এ নিয়ে ব্যুলেটিন প্রকাশ করলেই ওই ছয় সাংসদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। আপাতত তাঁদের দিল্লিতেই কোনও গোপন ডেরায় রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এ দিনই আবার মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে অমিত শাহ বলেন, ‘আগে লোকে শিন্ডের শিবসেনা বলত। আর ওসবের প্রয়োজন নেই। এখন একটাই শিবসেনা। যার নেতা শিন্ডে।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরপর খানিক ব্যাঙ্গের সুরেই বলেন, ‘উদ্ধবের শিবসেনা কংগ্রেসের কোলে দোল খাচ্ছে। আর ভাবছে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ভোটব্যাঙ্ক বানাবে। কিন্তু ভুলে যাচ্ছে ভারত ধর্মশালা নয়।’
২০২২–এ দল ভাগের পরেও ২০২৪–এর লোকসভায় উদ্ধবের শিবসেনা ন’টি আসনে জিতে আসে। এখন সেই নয়ের মধ্যে ছয় সাংসদই বেসুরো। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি মানলে শনিবারই তিন বিদ্রোহী সাংসদকে শিন্ডে শিবিরের নেতা অভিষেক ভার্মার সঙ্গে রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙনের পরে উদ্ধবের শিবসেনার ভাঙন এখন সময়ের অপেক্ষাই বলে মনে করছেন সকলে। সেই আভাস পেয়েই কয়েকদিন আগে দিল্লিতে সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছিলেন উদ্ধব। হুইপও জারি করেন। তাতে অবশ্য লোকসভার মোটে তিন সাংসদ আসেন। অন্য দিকে বিদ্রোহী ছয় সাংসদ স্পিকারকে চিঠি দিয়ে শিবির বদলের আর্জি জানান।
ইতিমধ্যেই ছয় বিদ্রোহী সাংসদকে শোকজ় করেছেন উদ্ধব। উদ্ধব শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউতের কথায়, ‘আমরা ওদের সাংসদ পদ বাতিলের জন্য লড়ব। লোকসভার স্পিকার যদি বিধি মানেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানেন তবে ওদের সাংসদ পদ বাতিল হবেই।’ এই আবহে শনিবার এক্স–এ সঞ্জয় রাউতের পোস্ট— ‘কিছু মানুষ কুকুরে পরিণত হলেও বিশ্বস্ত হতে পারে না।’ শুক্রবার দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে আবার একনাথ শিন্ডে বলেছিলেন, ‘কুকুর দল বেঁধে ঘোরে। আর সিংহ একাই চলে।’
ভাঙন বাঁচানো প্রায় অসম্ভব বুঝেই এ বার বিদ্রোহী সাংসদদের নির্বাচনী ক্ষেত্রে ঘুরবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। কথা বলবেন দলের কর্মীদের সঙ্গে। উত্তর–পূর্ব মুম্বইয়ের সঞ্জয় দিনা পাটিলের লোকসভা কেন্দ্র দিয়েই এই সফর শুরু করবেন তিনি।