Kalyan Banerjee On Abhishek Banerjee: 'এত অ্যারোগ্যান্ট, এখনও শিক্ষা হল না, যে কোনও মুহূর্তে অ্যারেস্ট হয়ে যাবে', একটা মেসেজ আসতেই অভিষেককে নিয়ে সবটা ফাঁস করে দিলেন কল্যাণ | Why Kalyan Banerjee Quit TMC Cases: Senior Lawyer Breaks Silence on Decision - 24 Ghanta Bangla News
Home

Kalyan Banerjee On Abhishek Banerjee: ‘এত অ্যারোগ্যান্ট, এখনও শিক্ষা হল না, যে কোনও মুহূর্তে অ্যারেস্ট হয়ে যাবে’, একটা মেসেজ আসতেই অভিষেককে নিয়ে সবটা ফাঁস করে দিলেন কল্যাণ | Why Kalyan Banerjee Quit TMC Cases: Senior Lawyer Breaks Silence on Decision

Spread the love

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরকImage Credit: TV9 Bangla

কলকাতা:  দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা তিনি। সময়টা প্রায় তিন দশেকেরও বেশি হবে। তৃণমূল যখন বিরোধী, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী দলনেত্রী, যখন তৃণমূল ক্ষমতায় আসার জন্য দাঁত কামড়ে লড়াই চালাচ্ছে, সেই তখন… নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর, একের পর এক মামলায় কল্যাণ পাশে থেকেছেন নেত্রীর। যুক্তিবাণে বিদ্ধ করেছিলেন সরকারপক্ষকে। তৃণমূল ক্ষমতায় এল, এবারও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মামলা, সে সারদা-নারদা হোক, কিংবা নিয়োগ দুর্নীতি কিংবা এসআইআর! জর্জরিত রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেছেন। আর এখন তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত।  ঘরে বাইরে নানান ইস্যুতে রক্তস্নাত তৃণমূল। নানান গেঁরোয় ফেঁসে অভিষেক। হাজারও সমস্যার মধ্যে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলেরই বিধায়কদের সই জাল মামলা। সেই মামলাতেও লড়ছিলেন কল্যাণ। কিন্তু তিনি সরে দাঁড়ালেন। কেবল অভিষেকের মামলা থেকে নয়, সূত্রের খবর, তৃণমূলের সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন? কল্যাণ নিজেই জানালেন সে কথা।

ঠিক কী ঘটে বুধবার?

ঘটনা বুধবারের। কল্যাণ ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, “আমি চেম্বারে বসে রয়েছি। সাড়ে এগারোটার সময়ে একজনকে পাঠিয়েছে। আগে সঞ্জয় বসুর সঙ্গে কাজ করত। তিনি এসে বললেন, একটা রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে, সার্চ নিয়ে। আমি বললাম, তোমরা রিট পিটিশন ফাইল করলে সার্চ, অথচ এটাই তো আমার সাবজেক্ট ম্যাটার অফ্ ক্রিমিন্যাল ডিভিশন। তোমার কেন একবার জানালে না রিট পিটিশন ফাইল করেছো। বলল, না ওপর থেকে ইনস্ট্রাকশন এসেছে। কিশোর দত্ত করছেন। আমি তখন বললাম, তাহলে আমি আর লড়ব না।”

‘যে কোনও মুহূর্তে অ্যারেস্ট হয়ে যেতে পারে’

কথা প্রসঙ্গেই এই সই-মামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে কল্যাণ বলেন, “সিআইডি ডেকে পাঠিয়েছে, নোটিস দিয়েছে। সেটা ক্রিমিন্যাল ডিভিশনে লা ফাইল হয়েছে। শুক্রবার ভ্যাকেশন বেঞ্চে মামলাটা ছিল। ২২১। ২১৪-২১৫ পর্যন্ত মামলা শোনা হয়। জজ সাহেব আমাকে বলেছিলেন, বুধবার মামলাটা থাকবে। কাল মামলা ছিল না তালিকায়। মঙ্গলবার একাধিক জায়গায় সার্চ হয়েছে। দিদির অফিসেও সার্চ হয়েছে, সেখানেও আমি উপস্থিত ছিলাম। একটু দেরি হয়েছে। কালকেও বিচারপতি কৌশিক চন্দের ঘরে মেনশন করে বললাম, ম্যাটারটা খুবই আর্জেন্ট। সার্চ হয়েছে। খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছি। যে কোনও মুহূর্তে অ্যারেস্ট হয়ে যেতে পারে।”

সহযোদ্ধা কল্যাণ

আজ তৃণমূল, দলটার যা অবস্থা, তাতে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রথম থেকেই অভিষেক। বিধানসভার গণ্ডি পেরিয়ে সংসদও হাতছাড়া হয়েছে। সমালোচকদের কথায়, তৃণমূল দলটাই উঠে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। যে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা, সেই কংগ্রেসেরই শরণাপন্ন হতে হয়েছে তাঁকে। অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দলের বিধায়ক-সাংসদরা। কিন্তু তখনও কল্যাণ এক কাট্টা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, অভিষেক-মমতার হয়ে! গত মঙ্গলবারও তিনি বিক্ষুব্ধ সাংসদদের উদ্দেশে বলতে গিয়ে অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে হেন অভিষেকের থেকে এই ধরনের আচরণ মেনে নিতে পারেননি বর্ষীয়ান আইনজীবী।

‘ডাস্টবিন হিসাবে ট্রিট করো না’

তিনি বলেন, “আমাকে ডাস্টবিন হিসাবে ট্রিট করো না, ঘণ্টা খানেকের মধ্যে আমাকে বলে দাও, আমি করব কি করব না! কিছুই জানায়নি। সন্ধ্যায় পড়ে আবার রেডি হলাম। রাত সাড়ে বারোটার সময়ে আমার ছেলেকে টেক্সট করে বলল, আমাকে থাকার দরকার নেই, অয়ন ভট্টাচার্য থাকবেন।”

‘এত ঔদ্ধত্য কীসের’

অভিষেকের ঔদ্ধত্য নিয়েই হাজারও প্রশ্ন দলের অন্দরে। বিক্ষুদ্ধদের কথায়, এটাই মুখ কারণ তৃণমূলের এই অবস্থার জন্য। এবার কল্যাণও তাতে সার্টিফিকেট দিলেন। বললেন, “আমি ৪৫ বছর ধরে প্র্যাকটিস করছি। কিন্তু একজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, সেটা জানে না। এত অ্যারোগ্যান্ট, এত ঔদ্ধত্যের কী আছে! সময় থাকতে শিক্ষা পেল না।  আমি তো ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মী নই। আজকে বুঝতে হবে, ওর জন্য দলটার সর্বনাশ হয়েছে। এখনও যদি ওটা না বোঝে, তাহলে কিছু করার নেই।”

‘অভিষেককে বাদ দিয়ে যদি দিদি চলে, আমি আছি’

কল্যাণের এযাবৎ বিস্ফোরক মন্তব্য, “ওর হাবভাব, ওর ঔদ্ধত্য….ওর জন্য আমাদের চোর চোর শুনতে হচ্ছে। ওর জন্য জীবনহানির সংশয় তৈরি হয়েছে আমার। দিদি অভিষেককে নিয়ে চললে চলুক, আমাকে দরকার নেই। আর অভিষেককে বাদ দিয়ে যদি দিদি চলে, আমি আছি।”

প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আদালতে সওয়াল করছেন। দলের বর্ষীয়ান প্রবীণ সাংসদ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সহযোদ্ধা’, দলের দুঃসময়ের সঙ্গী! সেই কল্য়াণ এবার দিয়ে দিলেন ‘আল্টিমেটাম’!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *