পাহাড়ে বর্ষা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর
বর্ষার মরসুমের আগে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি(Suvendu Adhikari) রুখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য সরকার। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি জেলাগুলিতে প্রতি বছর ভারী বৃষ্টির জেরে …
বর্ষার মরসুমের আগে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি(Suvendu Adhikari) রুখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য সরকার। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি জেলাগুলিতে প্রতি বছর ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধস, রাস্তা ভেঙে যাওয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার আগে থেকেই প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ।
সম্প্রতি পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানান, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে। পাহাড়ি এলাকায় যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বিশেষভাবে কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ের বাসিন্দাদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার দাবি ছিল। বর্তমানে জটিল চিকিৎসার জন্য বহু মানুষকে শিলিগুড়ি বা কলকাতার উপর নির্ভর করতে হয়। সেই সমস্যার সমাধান করতেই কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন।
সরকারি মহলের মতে, মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হলে শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই উন্নত হবে না, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিনের বৈঠকে পাহাড়ের চারটি পুরসভার উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, বর্ষার আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা বেশি, সেখানে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে পর্যটন শিল্প রাজ্যের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষাকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এবার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। রাস্তা মেরামত, ড্রেন পরিষ্কার এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
এছাড়াও পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসক এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময় দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, পাহাড়ের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্ষার আগেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের আশা। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।