Abhishek Banerjee-Subrata Bakshi: নবীন-প্রবীণ সমন্বয়? অভিষেকের ডাকা কর্মসূচি সফল করতে ময়দানে এবার বক্সী – Bengali News | Abhishek Banerjee Subrata Bakshi: TMC leader Subrata Bakshi to perticipate in Abhishek Banerjee’s initiative, will go to districts
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীImage Credit source: Tv9 Bangla
কলকাতা: একাধিকবার প্রকাশ্যে আসছিল শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে নাকি ‘নবীন-প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব চলছে। যদিও, বিষয়টি বারবার অস্বীকার করছে তৃণমূল। কিন্তু লোকসভা ভোটের আগে বদলে গেল গোটা ‘চিত্রনাট্য’। ভোটের মুখে ‘নবীন-প্রবীণ’ সমন্বয় তৃণমূলের অন্দরে । আপাতত ১০ ই মার্চের ব্রিগেড সমাবেশকে সামনে রেখে দুই প্রজন্মের দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে চাইছে শাসক শিবির । আর তাই সমাবেশ ঘিরে চরম ব্যস্ততা ক্যামাক স্ট্রিট আর বাইপাসের তৃণমূল ভবন দুই কার্যালয়েই। আরও গুরুত্বপূর্ণ অভিষেকের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশকে সফল করতে দু’বছরের বিরতির পর জেলা সফরে নামছেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। বীরভূম,বাঁকুড়া,হাওড়া হুগলি,ঝাড়গ্রাম সফর করে ব্রিগেডের প্রস্তুতি সভা করবেন বক্সীবাবু।
সম্প্রতি, ১০ই মার্চের ব্রিগেড সমাবেশকে ঘিরে যে চিঠি আকারে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে তাতে স্বাক্ষর রয়েছে সুব্রত বক্সীর । সঙ্গে অরূপ বিশ্বাস এবং জয় প্রকাশ মজুমদারের ও স্বাক্ষর রয়েছে ওই চিঠিতে । অরূপ বিশ্বাস আদি সময় থেকে দলের নেতা। তুলনায় জয় প্রকাশ নবীন বলা চলে। বিজেপি ছেড়ে কয়েক বছর আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এখন সুব্রত বক্সীরই ‘ছায়া সঙ্গী’ এই জয় প্রকাশ বলে মনে করেন অনেকে। সূত্রের খবর, গোষ্ঠী সমীকরণে দলের প্রবীণ গোষ্ঠীর সঙ্গেই যুক্ত। এনিয়ে কিছুদিন আগে দলের মুখপাত্রদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নবীন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির মুখপাত্রদের আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছিল জয় প্রকাশকে। এরপরই কালীঘাটে দলের বৈঠকে মুখপাত্রদের আচরণ নিয়ে মুখ খুলে ছিলেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর দলের চিঠিতে জয় প্রকাশের উপস্থিতি নিশ্চই তাৎপর্যপূর্ণ ।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ ক্ষণিকের দূরত্ব কাটিয়ে অভিষেক শিবিরের সক্রিয় হয়ে ওঠা। রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া। যে দূরত্ব দৃশ্যত তৈরি হয়েছিল নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে কর্মী সম্মেলন ঘিরে । যে সভার পোস্টারে ছিল একমাত্র মমতার ছবি। সভার আয়োজনে ছিল প্রবীণ শিবির। কেন পোস্টারে অভিষেকের ছবি নেই তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ‘নবীন গোষ্ঠীর’ মুখপাত্র। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা ও ছিল তুঙ্গে ।
এই খবরটিও পড়ুন
তারপর থেকেই ডায়মন্ড হারবারের সংসদীয় এলাকায় নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এই পর্যায়ে দলের প্রবীণ প্রজন্মের দিকে কটাক্ষের সুর শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায় ।
এরপরই ভোটের মুখে কার্যত নবীন-প্রবীণ সমন্বয় ! ভোটে বিজেপি যেমন একটা চ্যালেঞ্জ অন্য দিকে সন্দেশখালির ঘটনা শাসক দলকে নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে বৈকি ! বিশেষত, জমি কেড়ে নেওয়া কিংবা নারী নির্যাতনের ঘটনার অভিযোগ শাসক দলের কাছে রাজনৈতিক ভাবেও বড় ধাক্কাও মনে করছেন অনেকে। তার উপর যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নীতিগত ভাবে জমি কেড়ে নেওয়ার বিপক্ষে। সেখানে তাঁরই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে জমি হাতানোর অভিযোগ ওঠায় ঘাসফুল শিবিরে খানিক হলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলাই যায়। অন্যদিকে, মমতার নির্বাচনী সাফল্যের অন্যতম শর্ত মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক । সেই দিক থেকে সন্দেশখালির অভিঘাত রাজনৈতিক ভাবে ও ব্যাপকতর।
আর এই জটিল সময়েই সক্রিয় হয়ে উঠলেন অভিষেক। রাজ্যওয়াড়ি কর্মসূচি নিচ্ছেন ব্রিগেডের পরই। অন্যদিকে নবীন নেতৃত্বের ডাকা কর্মসূচি সফল করতে তাৎপর্যপূর্ণভাবে সক্রিয় প্রবীণ শিবিরও।