Gold Chain: কোথায় সোনার চেন, কোথায় আংটি, কাগজের মোড়ক খুলে প্রাক্তন সেনাকর্মীর মাথায় হাত – Bengali News | Gold chain theft from middle of the road in dhupguri who posed as delhi police
ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ি শহরের সুপার মার্কেট চৌপতি সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় ঘটে এই ঘটনা। যেভাবে দিনের আলোয় এক প্রাক্তন সেনা কর্মীর গলার সোনার চেন, আংটি লুঠ করা হল, তাতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাস্তা আটকে একেবারে সিনেমার কায়দায় লুঠপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ।
জানা যাচ্ছে, বাজার সেরে সিনেমা হলপাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণ কুমার রায় বাড়ি ফিরছিলেন। ফালাকাটাগামী সড়কের উপর দুই বাইক আরোহী তাঁর পথ আটকান বলে অভিযোগ। তাঁরা নিজেদের দিল্লি পুলিশের আধিকারিক বলে পরিচয় দেন, হিন্দিতে কথা বলতেও শুরু করেন।
তাঁদের লম্বা-চওড়া শরীরের গঠন দেখে ও কড়া ভাষায় কথা বলতে শুনে প্রাক্তন সেনাকর্মী সত্যিই তাঁদের আধিকারিক ভেবে ফেলেন। এরপর অভিযুক্তরা সতর্ক করে বলেন রাস্তায় সোনার গয়না পরে ঘোরা বিপজ্জনক, এর আগেও এভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে কৃষ্ণকুমার রায় গলার চেন ও হাতের আংটি খুলে তাঁদের হাতে তুলে দেন। আশপাশে থাকা এক অপরিচিত পথচারীকেও একইভাবে গয়না খুলে দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই দুই ব্যক্তি একটি কাগজের মোড়ক দিয়ে বলেন, ‘ভিতরে গয়না রাখা আছে, বাড়ি গিয়ে খুলে রাখতে।‘ কিন্তু বাড়ি ফিরে কৃষ্ণকুমার রায় দেখেন, কাগজের ভিতরে রয়েছে শুধু বালি, উধাও তাঁর সোনার গয়না।
এরপর কৃষ্ণকুমার ও তাঁর মেয়ে মাধবী রায় ছুটে যান ধূপগুড়ি থানায় এবং পুরো ঘটনার অভিযোগ জানান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পুলিশ আশপাশের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখে পায়, মুখে মাস্ক পরা দুই সন্দেহভাজনের ছবি। কৃষ্ণকুমার রায় তাঁদের চিনতে পেরেছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের অনুমান, অভিযুক্তরা ভিনরাজ্যের বাসিন্দা, কারণ তাদের শারীরিক গঠন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মেলে না এবং তাঁরা হিন্দি ভাষায় কথা বলছিলেন। বর্তমানে গোটা জেলা জুড়ে তল্লাশি চলছে। দিন দুপুরে দিল্লি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে লুঠ হওয়ায় শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আতঙ্কে কাঁপছে সাধারণ মানুষ।