Exclusive: সমাজ বদলের কোনও দায় আমার নেই: অনুপর্ণা রায় - Bengali News | Anuparna Roy makes history exclusive interview of director after winning at Venice Film Festival - 24 Ghanta Bangla News
Home

Exclusive: সমাজ বদলের কোনও দায় আমার নেই: অনুপর্ণা রায় – Bengali News | Anuparna Roy makes history exclusive interview of director after winning at Venice Film Festival

ভারতী দুবে 

৮২তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আবার ভারতের জয়। শনিবার সমাপ্ত হল এই বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসব। ২০২৫-এর মঞ্চ ভারতীয় সিনেপ্রেমীদের জন্য গর্বের হয়ে উঠল। নেপথ্যে তরুণ পরিচালক অনুপর্ণা রায়, যিনি তাঁর প্রথম ছবি ‘সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ’ (Songs of Forgotten Trees) -এর জন্য ‘অরিজ়োন্তি’ (Orizzonti) বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতে নিলেন। তিনি প্রথম ভারতীয় পরিচালক, যাঁর মুকুটে এবার উঠল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পালক। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে TV9-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। কথা প্রসঙ্গে তিনি শেয়ার করে নিজের অনুভূতি থেকে শুরু করে তাঁর আগামী প্রজেক্টের ভাবনা।

পুরস্কার জয়ের মুহূর্তে কেমন ছিন অনুভূতি? 

প্রথমেই আমার ঠাকুমার কথা মনে হয়েছিল। তারপর আমার অভিভাবকদের কথা মাথায় এসেছিল। আমি যেখানে বেড়ে উঠেছি সেই গ্রামের ছবি সামনে ভেসে উঠছিল। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না, আমার কেমন লেগেছিল। তবে বলতে পারি, এটা সিনেমার জয়। আমি এখনও নিজেকে সিনেমার ছাত্রী বলে মনে করি। আমি এখনও শিখতে চাই। ইতিহাস তৈরির আগে এটা মাথায় আসে, যে এই পুরস্কারটা অনেক বেশি দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।

এ ছবির ভাবনা কীভাবে মাথায় এলো?

‘থুয়া’র ক্ষেত্রে বলবো, এটা ব্যক্তিগত নয়, আবার একেবারেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আসেনি, এমনটাও নয়। আমি আমার ঠাকুমার থেকে শুনেছি, কীভাবে বিয়ের পর তাঁর সৎ সন্তানেরা তাঁর বন্ধু হয়ে উঠেছিল। সেখান থেকেই গল্প আমার মাথায় আসে। ক্লাস ফাইভে আমি আমার প্রথম বন্ধু পাই। তবে যখন সেই কথা বাবাকে জানিয়েছিলাম, তিনি ওর পদবী পছন্দ করেননি। আমি তখনও পর্যন্ত জাতপাতের বিষয় অবগত ছিলাম না। তাই কথা বলা বন্ধ করেদি, কারণ বাবা বলেছেন। পরে শুনি, মাত্র ১৩ বছর বয়সে ওর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। আমার কোনও যোগাযোগ ছিল না ওর সঙ্গে। আমার মধ্যে সেই অনুভূতিটা রয়ে গিয়েছিল। গল্পে তারও ছাপ রয়েছে।

এই ছবিতে পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের অবদান কতটা? 

অনুরাগ কাশ্যপ আমায় অনেক সাহায্য করেছেন। ছবির সঙ্গে তাঁর আবেগ কতটা জড়িয়ে ছিল, আমি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। সব সময় আমায় শিক্ষকের মতো পথ দেখিয়েছেন। ১০০০-এরও বেশি উপদেশ উনি আমায় দিয়েছেন। আর আমি তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার চেষ্টা করেছি। উনি আমায় একটা কথাই বলেছেন, পুরস্কার অনেক দায়িত্ব নিয়ে আসে। কতটা সমস্যা হচ্ছে সেটা বড় কথা নয়, ছবি বানিয়ে যেতে হবে।

ছবির কলাকূশলীদের নিয়ে কী বললেন? কীভাবে তাঁদের নির্বাচন করলেন?

সুমি বাঘেল দারুণ অভিনেত্রী। অডিশন নেওয়ার কিছু ছিল না। আমি জানিয়েছিলাম, আপনি কেন এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন না, এইভাবেই তাঁর সফর শুরু। উনি অভিনয় ক্ষেত্রে লড়াই করছেন ঠিকই, তবে ওঁর দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলার জায়গাই থাকে না। নাজ়ও দারুণ অভিনেত্রী। যখন ওঁর অডিশন নিয়েছিলাম, তখন দেখেই বুঝেছিলাম এটাই আমার ‘থুয়া’। নাজ় এমনই খুব বোল্ড অভিনেত্রী। তাই চরিত্রেও দারুণ লেগেছে।

আগামীতে কোন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন? 

এরপর আমি ব্রিটিশ বেঙ্গল নিয়ে কাজ করব। লেখা চলছে। এখন অন্য একটা প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত আছি, যেখানে মুম্বইয়ের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষদের নিয়ে ভাবছি। তাঁদের লাইফস্টাইল নিয়ে কাজ করব। আমি যেসব বিষয়গুলো চাক্ষুস করেছি, সেই সকল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে চাই। যে ধরনের আর্থিক পরিস্থির মধ্যে দিয়ে আমি বেড়ে উঠেছি, আমার ছবিতে তেমনই পটভূমি দেখানো হয়। সমাজ বদলের কোনও দায় আমার নেই। তবে আমি চাই বিষয়গুলোকে আলোচনায় নিয়ে আসতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *