দীপাবলিতে নতুন গাড়ি কিনছেন? EMI ছাড়াও মাথায় রাখুন এই ৫ খরচ - 24 Ghanta Bangla News
Home

দীপাবলিতে নতুন গাড়ি কিনছেন? EMI ছাড়াও মাথায় রাখুন এই ৫ খরচ

Spread the love


গুরুগ্রাম: দীপাবলির মরশুমে নতুন গাড়ি কেনার (Car Buying) পরিকল্পনা করছেন? উৎসবের মরশুমে বিভিন্ন সংস্থা আকর্ষণীয় ছাড়, এক্সচেঞ্জ বোনাস এবং সহজ কিস্তিতে গাড়ি কেনার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে অনেকেই এই সময় গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শুধু গাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট এবং মাসিক EMI হিসাব করলেই হবে না। গাড়ি বাড়িতে আসার পর শুরু হয় আরও বেশ কিছু খরচ, যা দীর্ঘমেয়াদে মাসিক বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি, বিমার প্রিমিয়াম, সার্ভিসিং, টায়ার বদল, পার্কিং এবং টোলের মতো খরচ প্রথম দিকে খুব বেশি মনে না হলেও বছরের শেষে তার অঙ্কটা যথেষ্ট বড় হতে পারে। তাই নতুন গাড়ি কেনার আগে এই পাঁচটি অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।

১. জ্বালানির খরচ বাড়াতে পারে মাসিক বাজেট

গাড়ি কেনার পর সবচেয়ে নিয়মিত খরচগুলির মধ্যে অন্যতম হল জ্বালানি। প্রতিদিন অফিস যাতায়াত, বাজার করা, সপ্তাহান্তে ঘুরতে যাওয়া কিংবা দূরপাল্লার ভ্রমণ, সব ক্ষেত্রেই পেট্রোল বা ডিজেলের খরচ রয়েছে।

এই খরচ নির্ভর করে গাড়ি কতটা ব্যবহার করছেন, তার মাইলেজ, রাস্তার পরিস্থিতি এবং পেট্রোল-ডিজেলের দামের উপর। বিশেষ করে কলকাতার মতো যানজটপূর্ণ শহরে বারবার গাড়ি থামানো এবং চালু করার কারণে জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে।

তাই গাড়ি কেনার আগে সংস্থার বিজ্ঞাপনে দেওয়া মাইলেজের উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের দৈনিক ও মাসিক যাতায়াতের দূরত্ব হিসাব করে জ্বালানির সম্ভাব্য খরচ নির্ধারণ করা উচিত।

২. ফ্রি সার্ভিস মানেই রক্ষণাবেক্ষণে কোনও খরচ নেই, এমন নয়

নতুন গাড়ির সঙ্গে অনেক সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক বিনামূল্যে সার্ভিসের সুবিধা দেয় সংস্থা বা ডিলারশিপ। এই সুবিধা ক্রেতাদের আকর্ষণ করলেও সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

হুইল অ্যালাইনমেন্ট, হুইল ব্যালান্সিং, বিভিন্ন কনজিউমেবল এবং কিছু যন্ত্রাংশ বদলের জন্য আলাদা টাকা দিতে হতে পারে। গাড়ির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিন অয়েল, ফিল্টার, ব্রেকের যন্ত্রাংশ-সহ বিভিন্ন উপাদান বদলানোর প্রয়োজন হয়।

বিনামূল্যের সার্ভিসের মেয়াদ শেষ হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পুরো খরচই মালিককে বহন করতে হয়। তাই প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্ভিস করানো জরুরি। এতে সমস্যাগুলি আগে থেকে চিহ্নিত করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে বড়সড় মেরামতির খরচ এড়ানো যেতে পারে।

৩. প্রথম বছরের পর আবার দিতে হবে বিমার প্রিমিয়াম

নতুন গাড়ির অন-রোড দামের মধ্যে সাধারণত প্রথম বছরের বিমার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু পরের বছর থেকে বিমা চালু রাখতে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিতে হবে।

বিমার খরচ নির্ভর করে গাড়ির মডেল, Insured Declared Value (IDV), বিমার কভারেজ, অতিরিক্ত সুবিধা এবং আগের বিমা দাবির ইতিহাসের উপর। ফলে প্রতি বছর পুনর্নবীকরণের সময় প্রিমিয়ামের অঙ্কে পরিবর্তন হতে পারে।

বিমা পুনর্নবীকরণের আগে একাধিক সংস্থার পলিসি ও প্রিমিয়াম তুলনা করে দেখা উচিত। একই সঙ্গে Third-party Insurance এবং Comprehensive Insurance-এর পার্থক্যও বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। থার্ড-পার্টি বিমা বাধ্যতামূলক হলেও নিজের গাড়ির ক্ষতির সুরক্ষার জন্য আরও বিস্তৃত কভারেজ দেয় কমপ্রিহেনসিভ বিমা।

৪. টায়ার বদল থেকে আচমকা মেরামতির খরচ

নতুন গাড়ি কিনলেও অপ্রত্যাশিত খরচের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। রাস্তায় টায়ার পাংচার, দুর্ঘটনায় বাম্পার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কোনও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা ব্যাটারি বদলের মতো পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হতে পারে।

টায়ার ও ব্যাটারিরও নির্দিষ্ট আয়ু রয়েছে। গাড়ির ব্যবহার, রাস্তার অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের উপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট সময় পর এগুলি বদলাতে হয়।

দুর্ঘটনার কারণে মেরামতির খরচও বাড়তে পারে। বিমা থাকলেও Deductible বা অন্যান্য শর্তের কারণে কিছু টাকা নিজের পকেট থেকেই দিতে হতে পারে। তাই গাড়ির জন্য আলাদা একটি জরুরি তহবিল রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. পার্কিং ও টোলের খরচও নিয়মিত বাড়তে পারে

গাড়ি কেনার সময় অনেকেই পার্কিংয়ের খরচ হিসাবের মধ্যে রাখেন না। অথচ শহরে গাড়ি রাখার জায়গা না থাকলে আলাদা পার্কিং স্পট ভাড়া নিতে হতে পারে।

আবাসনে নির্দিষ্ট পার্কিং না থাকলে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি অফিস, শপিং মল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জায়গায় পার্কিং ফি দিতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় হাইওয়ের টোল চার্জ। যাঁরা নিয়মিত এক শহর থেকে অন্য শহরে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই খরচ আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবার পার্কিং বা টোলের টাকা সামান্য মনে হলেও সারা বছরের হিসাবে তা উল্লেখযোগ্য অঙ্কে পৌঁছতে পারে।

EMI-এর পাশাপাশি গাড়ির অবচয়ও হিসাব করুন

এই পাঁচটি খরচের বাইরেও নতুন গাড়ি কেনার আগে Depreciation বা অবচয়ের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। সময়ের সঙ্গে গাড়ির পুনর্বিক্রয় মূল্য কমে যায়। অর্থাৎ, কয়েক বছর পর গাড়ি বিক্রি করলে কেনার সময় যে দাম দিয়েছিলেন, তার পুরোটা ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়।

তাই নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করার সময় শুধু ডাউন পেমেন্ট ও মাসিক EMI হিসাব করলেই চলবে না। জ্বালানি, বিমা, সার্ভিসিং, পার্কিং, টোল এবং মেরামতির সম্ভাব্য খরচও বাজেটে রাখতে হবে। এতে গাড়ির প্রকৃত মালিকানা খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে এবং ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ এড়ানো সহজ হবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *