3K ভিডিও ও ৯ ঘণ্টার ব্যাটারি, Ray Ban Meta Gen 3 কতটা উন্নত?

মুম্বই: স্মার্ট গ্লাসের বাজারে নতুন প্রজন্মের Ray-Ban Meta Gen 3 নিয়ে এসেছে Meta। প্রথম প্রজন্মের তুলনায় নতুন মডেলে ক্যামেরার ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা, ব্যাটারি ব্যাকআপ, মাইক্রোফোন এবং কন্ট্রোল ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। Gen 3-তে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, 3K Ultra HD ভিডিও রেকর্ডিং, ছ’টি মাইক্রোফোন এবং সর্বোচ্চ ৯ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মপ্রকাশ করা প্রথম প্রজন্মের Ray-Ban Meta-তে ছিল ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, 1080p ভিডিও রেকর্ডিং এবং সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ। অর্থাৎ, দুই মডেলের মূল ক্যামেরা ও অডিও প্রযুক্তির ধারণা একই থাকলেও Gen 3-তে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা উন্নত করার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে সংস্থা।
Ray-Ban Meta Gen 3 বনাম Gen 1: স্পেসিফিকেশনের তুলনা
| ফিচার | Ray-Ban Meta Gen 3 | Ray-Ban Meta Gen 1 |
| লঞ্চ | সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সেপ্টেম্বর ২০২৩ |
| ক্যামেরা | ১২MP আল্ট্রা-ওয়াইড | ১২MP আল্ট্রা-ওয়াইড |
| ছবির রেজোলিউশন | 3024 × 4032 পিক্সেল | 3024 × 4032 পিক্সেল |
| ভিডিও রেকর্ডিং | 3K, 30fps | সর্বোচ্চ 1080p |
| মাইক্রোফোন | ৬টি | ৫টি |
| স্পিকার | ডুয়াল ওপেন-ইয়ার | ডুয়াল ওপেন-ইয়ার |
| ব্যাটারি ব্যাকআপ | সর্বোচ্চ ৯ ঘণ্টা | সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা |
| চার্জিং কেস | অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৫০ ঘণ্টা | অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৩২ ঘণ্টা |
| স্টোরেজ | ৩২GB | ৩২GB |
| Bluetooth | 5.3 | 5.2 |
| Wi-Fi | Wi-Fi 6 | Wi-Fi 6 |
| ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স | IPX4 | IPX4 |
| ফ্রেম স্টাইল | Wayfarer, Aviator, Zena | Wayfarer, Headliner, Skyler |
| অ্যাকশন বাটন | কাস্টমাইজ করা যায় | আলাদা কাস্টমাইজেবল বাটন নেই |
| টেম্পল টিপস | পেশাদারভাবে অ্যাডজাস্ট করা যায় | সাধারণ ডিজাইন |
| ভারতে লঞ্চের দাম | ৪৪,৩০০ টাকা | ২৯,৯০০ টাকা |
উল্লেখ্য, ব্যাটারির সময়সীমা প্রস্তুতকারকের দেওয়া সর্বোচ্চ হিসাব। বাস্তবে ব্যবহার, সেটিংস এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের পরিমাণের উপর ব্যাকআপ কমবেশি হতে পারে। Gen 1-এর ২৯,৯০০ টাকার দামটি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতে প্রবেশের সময়ের, ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক লঞ্চের দাম নয়।
ডিজাইনে পরিবর্তন, আরও বেশি ফ্রেমের বিকল্প
দূর থেকে দেখলে Gen 3 এবং Gen 1-কে সাধারণ Ray-Ban চশমা থেকে আলাদা করা কঠিন। স্মার্ট গ্লাসের প্রযুক্তিকে দৈনন্দিন চশমার স্বাভাবিক চেহারার মধ্যে রাখার কৌশল বজায় রেখেছে Meta।
তবে Gen 3-তে ফ্রেম আগের তুলনায় আরও সরু করা হয়েছে। ক্যামেরা ও LED ইন্ডিকেটরের জায়গাটিও ছোট। সংস্থার দাবি, Gen 2-এর তুলনায় এই অংশের আকার ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।
ফিটিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা রয়েছে। Gen 3-এর টেম্পল টিপস পেশাদারদের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাডজাস্ট করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীর মুখের গঠনের সঙ্গে চশমার ফিট আরও ভালো করার সুযোগ থাকবে।
ডিজাইনের বিকল্পও বেড়েছে। Gen 3 পাওয়া যাচ্ছে Wayfarer, Aviator এবং Zena স্টাইলে। সব মিলিয়ে রয়েছে ২৭টি রং ও লেন্সের কম্বিনেশন। অন্যদিকে, Gen 1-এ ছিল Wayfarer, Headliner এবং Skyler।
ক্যামেরায় বড় আপগ্রেড, এবার 3K ভিডিও
দুই প্রজন্মের ক্যামেরার মেগাপিক্সেল সংখ্যা একই। উভয় মডেলেই রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। ছবির রেজোলিউশনও 3024 × 4032 পিক্সেল।
তবে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পার্থক্য স্পষ্ট। প্রথম প্রজন্মের মডেলে সর্বোচ্চ 1080p ভিডিও রেকর্ড করা যায়। Gen 3-তে সেই ক্ষমতা বেড়ে হয়েছে 3K Ultra HD, 30fps। ফলে ভ্রমণ, বাইরের কার্যকলাপ কিংবা দৈনন্দিন মুহূর্তের POV ভিডিও ধারণে বেশি ডিটেল পাওয়া যাবে।
নতুন মডেলে Dynamic Photos ফিচারও রয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যাপচার করা মুহূর্তের একাধিক ফ্রেমের মধ্যে থেকে পছন্দের ছবিটি বেছে নেওয়া যাবে।
এছাড়া ২০২৬ সালের শেষের দিকে AI গ্লাসে Dolby Atmos ভিডিও ক্যাপচার এবং ৩৬০ ডিগ্রি স্পেশ্যাল সাউন্ড যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে Meta। এটি ভবিষ্যতের সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে আসার কথা। তাই লঞ্চের সময় থেকেই সব ক্রেতা সুবিধাটি পাবেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ব্যাটারি ব্যাকআপে বড় উন্নতি
দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে Gen 3-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড ব্যাটারি। প্রথম প্রজন্মের Ray-Ban Meta-তে মাঝারি ব্যবহারে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যেত। নতুন মডেলে তা বেড়ে হয়েছে সর্বোচ্চ ৯ ঘণ্টা।
চার্জিং কেসের ক্ষমতাও বেড়েছে। Gen 1-এর কেস অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৩২ ঘণ্টার ব্যাকআপ দিতে পারে। Gen 3-এর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ ঘণ্টা।
যাঁরা দিনের মধ্যে গান শোনা, ফোনে কথা বলা, ভিডিও রেকর্ডিং এবং Meta AI ব্যবহার করেন, তাঁদের কাছে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ৯ ঘণ্টার ব্যাকআপ প্রস্তুতকারকের সর্বোচ্চ দাবি। একটানা ভিডিও রেকর্ডিং বা নিরবচ্ছিন্ন AI ব্যবহারে একই সময় পাওয়া যাবে না।
অডিও ও মাইক্রোফোনে কী পরিবর্তন?
দুই মডেলেই রয়েছে ডুয়াল ওপেন-ইয়ার স্পিকার। ফলে গান শোনা বা ফোনে কথা বলার সময়ও আশপাশের পরিবেশের শব্দ শুনতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
তবে মাইক্রোফোনের সংখ্যা বেড়েছে। Gen 1-এ পাঁচটি মাইক্রোফোন থাকলেও Gen 3-তে রয়েছে ছ’টি মাইক্রোফোনের অ্যারে। Meta-র দাবি, নতুন ব্যবস্থায় বাইরের অপ্রয়োজনীয় শব্দ ৯০ শতাংশেরও বেশি কমানো সম্ভব।
বিশেষ করে ব্যস্ত রাস্তায় বা বাতাসের মধ্যে ফোনে কথা বলা এবং ভয়েস কমান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে যাঁদের প্রধান ব্যবহার গান শোনা, তাঁদের কাছে এই পরিবর্তন ক্যামেরা ও ব্যাটারির আপগ্রেডের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
Meta AI ও কন্ট্রোলে নতুন সুবিধা
দুই প্রজন্মের চশমাতেই Meta AI ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। তবে কোন কোন ফিচার পাওয়া যাবে, তা সফটওয়্যার সংস্করণ, ব্যবহারকারীর অবস্থান এবং সমর্থিত ভাষার উপর নির্ভর করে।
Gen 3-তে নতুন কাস্টমাইজেবল অ্যাকশন বাটন যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত Meta AI অথবা পছন্দের অন্য কোনও ফিচার চালু করা যাবে। Gen 1-এ ক্যাপচার বাটন, টাচপ্যাড এবং ভয়েস কমান্ডের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
Meta নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে AI ফিচার যোগ করছে। এর মধ্যে বেশ কিছু সুবিধা শুধু Gen 3-এর জন্য নয়, পুরনো সমর্থিত মডেলেও আসতে পারে। অর্থাৎ, নতুন প্রজন্মে হার্ডওয়্যারের উন্নতি বেশি হলেও সফটওয়্যার সুবিধার পরিধি দুই মডেলেই বাড়তে পারে।
ভারতে Ray-Ban Meta Gen 3-এর দাম কত?
২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ভারতে লঞ্চ হয়েছে Ray-Ban Meta Gen 3। এর প্রারম্ভিক দাম ৪৪,৩০০ টাকা। Meta, Ray-Ban-এর ভারতীয় ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এটি কেনা যাবে। ফ্রেম ও লেন্সের বিকল্প অনুযায়ী দাম বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, প্রথম প্রজন্মের Ray-Ban Meta ভারতে এসেছিল ২০২৫ সালের মে মাসে। সেই সময় এর প্রারম্ভিক দাম ছিল ২৯,৯০০ টাকা। অর্থাৎ, দুই মডেলের ভারতীয় লঞ্চ দামের ব্যবধান ১৪,৪০০ টাকা। তবে দুই প্রজন্মের মধ্যে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উন্নতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
Gen 1 থেকে Gen 3-তে আপগ্রেড করা কি জরুরি?
আপনি যদি প্রথম প্রজন্মের Ray-Ban Meta ব্যবহার করেন এবং মূলত ছবি তোলা, গান শোনা ও মাঝেমধ্যে ফোনে কথা বলার জন্য চশমাটি ব্যবহার করেন, তাহলে এখনই আপগ্রেড করার প্রয়োজন নেই। Gen 1-এ এখনও ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, ওপেন-ইয়ার স্পিকার, ৩২GB স্টোরেজ এবং Meta AI সাপোর্ট রয়েছে।
কিন্তু নিয়মিত POV ভিডিও রেকর্ডিং করেন, বাইরে ফোনে কথা বলেন অথবা দীর্ঘ সময় স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করেন, তাহলে Gen 3 বেশি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। 1080p থেকে 3K ভিডিও, চার ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ নয় ঘণ্টার ব্যাটারি এবং উন্নত মাইক্রোফোন ব্যবস্থা পুরনো মডেলের প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলি অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।
এখানে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। Ray-Ban Meta Gen 2 এই দুই প্রজন্মের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। Gen 2-তেই 3K ভিডিও রেকর্ডিং এবং আট ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ ছিল। তাই Gen 1 থেকে Gen 3-তে আপগ্রেডের পার্থক্য অনেক বেশি হলেও Gen 2 থেকে Gen 3-তে পরিবর্তন তুলনায় কম।
প্রথম প্রজন্মের তুলনায় Ray-Ban Meta Gen 3 নিঃসন্দেহে উন্নত স্মার্ট গ্লাস। তবে Gen 1 ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ক্যামেরা, ব্যাটারি এবং AI ফিচার কতটা কাজে লাগছে তার উপর।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel