সংখ্যালঘুদের জন্য ৬০ দিনের আর্মি ট্রেনিং! কর্ণাটক সরকারের টেন্ডারে বিতর্ক

বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক সরকারের সংখ্যালঘু অধিদফতর সম্প্রতি (Minority Army)একটি সরকারি টেন্ডার জারি করেছে যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই টেন্ডারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো…
বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক সরকারের সংখ্যালঘু অধিদফতর সম্প্রতি (Minority Army)একটি সরকারি টেন্ডার জারি করেছে যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই টেন্ডারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০ দিনের আর্মি ট্রেনিং বা প্রাক-নিয়োগ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই প্রকল্পে শুধুমাত্র সংখ্যালঘু বিভাগের প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, সিআইএসএফ, বিএসএফ, আরপিএফ, পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিফর্ম সার্ভিসে যোগদানের লক্ষ্যে এই আবাসিক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ রাস্তায় জন্মদিন ঘিরে একাধিক FIR! বাদ গেল না অভিষেক ও
টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে প্রশিক্ষণ কেবল সংখ্যালঘু শ্রেণির প্রার্থীদের জন্যই দেওয়া হবে। কর্ণাটক পাবলিক প্রকিউরমেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে এই টেন্ডার প্রকাশিত হয়েছে এবং শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে। প্রাক-বিড মিটিং ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে জাতীয় প্রতিরক্ষা এবং দেশপ্রেমের মতো বিষয়গুলোকে কেন ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করা হচ্ছে।
ইউনিফর্ম কোনো ধর্ম বা জাত চেনে না এই কথাটি বহুদিন ধরে প্রচলিত।(Minority Army) সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্বপ্ন দেখা প্রতিটি যুবকের সমান অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন সমালোচকরা। তাঁদের যুক্তি, সরকারি তহবিল ব্যবহার করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তা সমান সুযোগের নীতির পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়।
হিন্দু ও অন্যান্য অ-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই বলছেন, দেশরক্ষা ও শৃঙ্খলার প্রশিক্ষণকে ধর্মের চশমা দিয়ে দেখা উচিত নয়। যদি লক্ষ্য হয় দেশপ্রেমিক যুবক তৈরি করা, তাহলে সকল যোগ্য প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়াই যুক্তিসংগত।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হতে পারে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। (Minority Army)দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগ বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও প্রাক-নিয়োগ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্যান্য পদেও অনুরূপ আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আগেও করা হয়েছে। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের যুবকদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে সাহায্য করা।
তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই প্রশ্ন প্রতিরক্ষা খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক বিভাজন কতটা গ্রহণযোগ্য? সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন যে সেনাবাহিনীতে ধর্ম বা জাতের কোনো স্থান নেই। সেখানে শুধু যোগ্যতা, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তাই বিবেচ্য।
সরকারি অর্থায়নে এমন প্রকল্প চালু হলে তা সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। কিছু রাজনৈতিক নেতাও এই বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্টীকরণ চেয়েছেন এবং বলেছেন যে জনগণের টাকা দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করা উচিত নয়।