সরকারি খরচে সংখ্যালঘুদের বেসরকারি সেনা প্রশিক্ষণ কংগ্রেস সরকারের - 24 Ghanta Bangla News
Home

সরকারি খরচে সংখ্যালঘুদের বেসরকারি সেনা প্রশিক্ষণ কংগ্রেস সরকারের

Spread the love


বেঙ্গালুরু: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য ৬০ দিনের Army Training বা সেনা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়েছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালানোর জন্য টেন্ডারও প্রকাশ করেছে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর। তবে সরকারি অর্থে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণে শুধু সংখ্যালঘু পড়ুয়ারাই সুযোগ পাবেন, হিন্দু এবং অন্যান্য অ-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা কেন বাদ পড়বেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সরকারের এই উদ্যোগ ঘিরে মূল বিতর্ক হল, সেনা প্রশিক্ষণের মতো একটি কর্মসূচি কি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত? শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং জাতীয় সংহতির মতো বিষয়গুলি কোনও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফলে এই প্রশিক্ষণে সব সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কী রয়েছে কর্নাটক সরকারের টেন্ডারে?

কর্নাটক সরকারের Directorate of Minorities ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের ৬০ দিনের সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য স্বল্পমেয়াদি টেন্ডার প্রকাশ করেছে। ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে টেন্ডার নম্বর দেওয়া হয়েছে DOM/DEVP/CCH/40/2026-27।

কর্নাটক পাবলিক প্রকিওরমেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রি-বিড বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০ নভেম্বর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট।

তবে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণের বিস্তারিত পাঠ্যক্রম, কতজন পড়ুয়া সুযোগ পাবেন, নির্বাচনের মানদণ্ড এবং মোট কত টাকা খরচ হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

কেন শুধু সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য এই প্রশিক্ষণ?

এই কর্মসূচি ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সেনা প্রশিক্ষণের মতো একটি উদ্যোগে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নির্ধারণ করা হচ্ছে কেন?

সেনা প্রশিক্ষণের সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের মতো বিষয় জড়িত। এই দক্ষতাগুলি সব সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ-সহ বিভিন্ন ধর্মের তরুণ-তরুণীরা এমন প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হতে পারেন।

সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি উদ্দেশ্য হয় তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তোলা, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা এবং জাতীয় দায়িত্ববোধ তৈরি করা, তাহলে অন্য সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের বাইরে রাখা হচ্ছে কেন?

তাঁদের মতে, জাতীয় সংহতি ও সামাজিক সম্প্রীতির কথা মাথায় রেখে এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সব সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে। এতে বিভিন্ন ধর্ম ও সামাজিক পটভূমির পড়ুয়ারা একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সংখ্যালঘু কল্যাণ, নাকি সমান সুযোগের প্রশ্ন?

সরকারি প্রকল্পে নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা নতুন বিষয় নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্পের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সেনা প্রশিক্ষণের মতো কর্মসূচিতে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ সীমাবদ্ধ রাখার যুক্তি কী, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মত সমালোচকদের।

যদি সরকারের উদ্দেশ্য পিছিয়ে থাকা পরিবারের পড়ুয়াদের সেনা প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সব সম্প্রদায়ের আর্থিকভাবে দুর্বল পড়ুয়াদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সাধারণ কর্মসূচি চালু করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

এক্ষেত্রে স্বচ্ছ যোগ্যতার মানদণ্ড তৈরি করলে ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে আর্থিক অবস্থা, শারীরিক সক্ষমতা এবং প্রশিক্ষণের উপযুক্ততার ভিত্তিতে পড়ুয়াদের নির্বাচন করা সম্ভব হতে পারে।

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন

সরকারের কাছে আরও কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। এই ৬০ দিনের প্রশিক্ষণ কি সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রস্তুতির জন্য? নাকি শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিই এর উদ্দেশ্য?

প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণের সময়সীমার উল্লেখ থাকলেও এই বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। কতজন পড়ুয়া প্রশিক্ষণ পাবেন, কীভাবে তাঁদের নির্বাচন করা হবে এবং সরকারি কোষাগার থেকে কত টাকা ব্যয় হবে, সেই তথ্যও সামনে আসা প্রয়োজন।

কারণ, সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্থ আসে করদাতাদের কাছ থেকে। তাই প্রকল্পের উদ্দেশ্য, উপভোক্তা নির্বাচন এবং ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

সরকারের কাছে কী প্রশ্ন উঠছে?

মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্বাধীন কর্নাটক সরকারকে এই প্রকল্পের পিছনে যুক্তি স্পষ্ট করতে হবে বলে দাবি উঠেছে। সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিরোধিতা নয়, বরং একই ধরনের সুযোগ অন্য সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা কেন পাবেন না, সেটাই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

সরকারকে জানাতে হবে, অন্য সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য একই ধরনের কোনও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে কি না। না থাকলে, ধর্মীয় পরিচয়ের বদলে সব সম্প্রদায়ের যোগ্য পড়ুয়াদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত প্রকল্প চালু করার কথা বিবেচনা করা হবে কি না।

এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য, প্রশিক্ষণের কাঠামো এবং ব্যয়ের পূর্ণ বিবরণ স্পষ্ট নয়। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের আগে সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং বিস্তারিত নথি সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *