Bhaiphonta Rituals: হাতের ছোট আঙুল দিয়েই কেন ভাইফোঁটা দেওয়া হয় জানেন? | Significance of little finger in bhaiphonta mythological story - 24 Ghanta Bangla News
Home

Bhaiphonta Rituals: হাতের ছোট আঙুল দিয়েই কেন ভাইফোঁটা দেওয়া হয় জানেন? | Significance of little finger in bhaiphonta mythological story

Spread the love

ভাই ও বোনের পবিত্র সম্পর্কের বাঁধন উদযাপনের দিন হল ভাইফোঁটা। কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে উদযাপিত এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আচার হল ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করা। তবে এই ফোঁটা দেওয়ার সময় একটি বিশেষ নিয়মের কথা আমরা প্রায় সকলেই জানি—তা হল হাতের কনিষ্ঠ বা সবচেয়ে ছোট আঙুলটি দিয়ে ফোঁটা দেওয়া। কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন বুড়ো আঙুল বা তর্জনী বাদ দিয়ে শুধু কনিষ্ঠ আঙুল দিয়েই এই আচার পালন করা হয়?

পুরাণ শাস্ত্র অনুযায়ী, মানবদেহের বিভিন্ন আঙুলের সঙ্গে বিভিন্ন শক্তির সংযোগ রয়েছে। তার মধ্যে হাতের কনিষ্ঠ বা সর্বকনিষ্ঠ আঙুলটিকে জ্যোতিষশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক গল্প ও লোকাচারের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যমরাজ ও তাঁর বোন যমুনা সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই ভাইফোঁটার প্রচলন হয়েছিল। মৃত্যুর দেবতা যমকে নিজের ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়ে মহাসমারোহে আতিথেয়তা দিয়েছিলেন যমুনা। ভাই যমের কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেছিলেন বোন। সেই পুণ্য তিথিতেই যমরাজ বোনকে বর দেন যে, এই দিনে যে ভাইয়েরা বোনের হাতে ফোঁটা নেবে, তাদের অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না।

পুরাণ ও শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মানুষের শরীরের ডান দিককে শক্তির প্রতীক এবং বাঁ দিককে ভক্তির প্রতীক বলে ধরা হয়। কনিষ্ঠ আঙুলটি শরীরের নানা স্নায়বিক ও শক্তির সূক্ষ্ম আবেগের সঙ্গে যুক্ত। শাস্ত্রবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাতের ছোট আঙুল দিয়ে ফোঁটা দেওয়ার অর্থ হল মন ও হৃদয়ের গভীরতম ভক্তি এবং নিখাদ ভালোবাসা প্রকাশ করা। কোনও রকম অহংকার বা শক্তির প্রদর্শন ছাড়াই অত্যন্ত পবিত্রভাবে ভাইয়ের মঙ্গলের কামনা করাতেই কনিষ্ঠ আঙুলের সার্থকতা।

এছাড়া, জ্যোতিষীয় ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই আঙুলের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। হাতের কনিষ্ঠ আঙুলটি সরাসরি হৃদয়ের চক্র বা আবেগের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়। তাই যখন কোনও বোন স্নেহের পরশ বুলিয়ে ছোট আঙুল দিয়ে ভাইয়ের কপালে চন্দন বা দইয়ের ফোঁটা পরান, তখন তা সরাসরি হৃদয় থেকে আশীর্বাদ হিসেবে পৌঁছয়।

যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই নিয়ম শুধু একটি সামাজিক প্রথাই নয়, বরং ভাই-বোনের আত্মিক সম্পর্কের এক পবিত্র নিদর্শন। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও যখনই ভাইফোঁটার প্রদীপ জ্বলে ওঠে, কনিষ্ঠ আঙুলের সেই ছোঁয়া আজও অমলিন করে রাখে ভাই-বোনের চিরন্তন ভালোবাসাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *