ফের দেশের মানচিত্র বদলের হুঙ্কার বিজেপি সাংসদের

ফের একবার দেশের মানচিত্র বদলের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে(Nishikant Dubey)। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই দেশ ভাগের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরুর কিছু সিদ্ধান্তে…
ফের একবার দেশের মানচিত্র বদলের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে(Nishikant Dubey)। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই দেশ ভাগের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরুর কিছু সিদ্ধান্তে হাতছাড়া হয়ে যায় নোয়াখালী, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর। এবার বাংলাদেশের অন্তর্গত এই জেলাগুলিকেই ফের ভারতের আওতায় নিয়ে আসার হুঙ্কার দিয়েছেন এই বিজেপি সাংসদ।
দেশের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে, এই অভিযোগ বারে বারে করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির একাধিক নেতা। যার মধ্যে রয়েছেন এই নিশিকান্ত দুবে স্বয়ং। এই প্রসঙ্গেই বলা যায় ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই লোকসভার জিরো আওয়ারে বক্তব্য রাখার সময় মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনাকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছিলেন।
তার অভিযোগ ছিল এই সব এলাকায় জনবিন্যাসের সমস্যা তৈরী হচ্ছে এবং বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে ব্যাপক হারে। এর ফলে সাঁওতাল পরগনায় আদিবাসীদের জনসংখ্যা ৩৬% থেকে কমে ২৬% হয়ে গিয়েছে।
এর পর থেকে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে মোদী সরকার। এমনকি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনেও বাদ গিয়েছে বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নাম। ভারতের জনবিন্যাস সমস্যায় ফের একবার সরব হয়েছেন নিশিকান্ত। এবার শুধু ভারতের বদল নয়। তার দাবি নেহেরুর গাফিলতিতে ভারতের হাত থেকে চলে যাওয়া নোয়াখালী, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দরকেও দখল করে ভারতের আওতায় আনতে হবে।
বিজেপি সাংসদের বক্তব্য, পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীর ফিরিয়ে আনার দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দেশভাগের সময় হাতছাড়া হওয়া নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তাঁর দাবি, এই এলাকাগুলি একসময় ত্রিপুরার প্রাক্তন টিপরা রাজ্যের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত ছিল।
দেশভাগের সময় তৎকালীন শাসক মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য এই অঞ্চলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। (Nishikant Dubey)দুবের অভিযোগ, মহারাজার মতামত যথাযথ গুরুত্ব না দিয়েই নেহরু এবং তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
নোয়াখালির ১৯৪৬ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় হিন্দুদের উপর ব্যাপক অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড চললেও তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকারে মুসলিম লিগকে অন্তর্ভুক্ত করা। দুবের দাবি, ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেহরু মুসলিম লিগকে সরকারে সামিল করার বিষয়টি নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।
তারপর থেকে দেশের রাজনীতিতে এসেছে অনেক বদল। কিন্তু এই ধরণের স্পশর্কাতর বিষয় নিয়ে কেউই আগ্রহ দেখান নি। তবে এই মুহূর্তে ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই বিজেপি সাংসদের দাবিকে কতটা গুরুত্ব সহকারে দেখবে সেটা সময়ই বলবে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এবং কূটনীতিকদের একাংশের দাবি কোনো স্বাধীন দেশের ভূখন্ড এইভাবে কোনো দেশ দখল করতে পারে না। তার জন্য আইন করা হয়েছে রাষ্ট্রসংঘে সুতরাং বিজেপি সাংসদের এই আশা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।