বিরাটের চাঁদমারি এখন ওয়ান্ডারার্স
সব্যসাচী সরকার
‘১০০ সেঞ্চুরির কথা বলছি না, কিন্তু ১০ হাজার টেস্ট রানের আগে ছেড়ে দিল? মাত্র ৭৭০ রান তো বাকি ছিল। অনায়াসে করতে পারত!’
লিডসের হেডিংলেতে গত বছর ভারত–ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ়ের সময়ে প্রেস বক্সে ব্রিটিশ মিডিয়ার অনেকেই আমাদের ভারতীয় মিডিয়াকে দেখলেই ছুড়ে দিতেন এই প্রশ্নটা। ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের সিরিজ় খেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েও কেন হঠাৎ টেস্ট থেকে সন্ন্যাস? বৃন্দাবনে প্রেমানন্দজীর মহারাজের আশ্রমে গিয়ে কেন আশীর্বাদ নেওয়া? জিজি (গৌতম গম্ভীর) এবং এএ (অজিত আগরকর) জুটির কলকাঠি নাড়া এর পিছনে? প্রশ্নগুলো এখন অর্থহীন, কারণ অবসর ভেঙে বিরাটের টেস্টে ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, সচিনের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড কি ভাঙতে পারবেন? আদৌ সম্ভব?
এটা মোটামুটি নিশ্চিত, ২০২৭ বিশ্বকাপটা খেলেই অবসর নিতে চাইছেন সচিন পরবর্তী যুগে ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি। হিসেব বলছে, বিশ্বকাপ পর্যন্ত খুব বেশি হলে ২৭–২৮ টা ওয়ান ডে পাবেন বিরাট। হিসেবটা এইরকম––নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজ়ে বাকি ৪ ম্যাচ, তার পরে দেশের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও জি়ম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মোট ৬টা, এশিয়া কাপ হলে আরও ৪–৫টা, তার পরে বিশ্বকাপে নতুন ফর্ম্যাট অনুযায়ী ভারত ফাইনালে খেলবে ধরলে আরও ১৩টি। সব মিলিয়ে ২৮।
সে ক্ষেত্রে প্রায় প্রতি দুটো ম্যাচে একটা করে সেঞ্চুরি করতে হবে। কাজটা কঠিন, কারণ বাকি দুটো ফর্ম্যাট থেকেই অবসর নিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু যেহেতু ব্যাটারের নাম বিরাট কোহলি, তাঁর ভক্তরা আবেগাপ্লুত হয়ে দাবি করছেন, ১০০ হোক বা না হোক, ৯৫ সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যেতেই পারেন। হয়তো পারেন, কিন্তু সেটা করতে হলেও প্রতি তিন ম্যাচে একটা করে সেঞ্চুরি চাই। কঠিন, অবশ্যই কঠিন। বিশ্ব ক্রিকেটে সচিনের ১০০–এর পরে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি তালিকায় দুইয়ে বিরাট (৮৬) আর তিনে? রিকি পন্টিং, মাত্র ৭১!
মাইক্রোস্কোপের তলায় বিরাটের কেরিয়ার ফেললে দেখা যাবে, ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ, প্রায় চার বছর মোট ৪১টি টেস্ট ইনিংস খেলেও কোনও সেঞ্চুরি ছিল না বিরাটের, যা তাঁকে অনেকটাই পিছিয়ে দেয়। যে জন্য একটা সময়ে লাল বলে ঈর্ষণীয় ৫৫ প্লাস ব্যাটিং গড় কেরিয়ার শেষে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬.৮৫! এমনকী যে ওয়ান ডে–তে গোটা কেরিয়ারে অবিশ্বাস্য মস্তানি, সেখানেও ২০১৯ থেকে ২০২২, ২৫টা ওয়ান ডে খেলেও কোনও সেঞ্চুরি নেই। এখানেই ১০০ সেঞ্চুরির দৌড়ে অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছেন ‘চেজ়মাস্টার জেনারেল’।
এই মুহূর্তে কিন্তু ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর কাছে গৌণ। বরং চাঁদমারি ২১ নভেম্বরের বিশ্বকাপ ফাইনাল।
২০১১ সালে ২ এপ্রিল ওয়াংখেড়েতে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আর টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন, অধরা আইপিএলও জেতা হয়ে গিয়েছে। আগামী বিশ্বকাপ ভারত জিতুক বা না জিতুক, বিরাট কিংবদন্তিই থাকবেন। কিন্তু আগামী বছর জোহানসেবার্গের ওয়ান্ডারার্সের ফাইনালের কথা ভেবেই নিজেকে তৈরি করছেন। কতটা বদলেছেন, কিউয়িদের বিরুদ্ধে অকল্যান্ডে প্রথম ম্যাচে ৭৪ রানের ইনিংসটাই বলে দিচ্ছে।
বাকিটা? শাহরুখের স্টাইলেই বলে হয়, ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত’!