নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট দখলের দাবি বিজেপি সাংসদের - 24 Ghanta Bangla News
Home

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট দখলের দাবি বিজেপি সাংসদের

Spread the love


নয়াদিল্লি: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) পুনরুদ্ধারের দাবির (Nishikant Dubey)পাশাপাশি এবার বাংলাদেশের অন্তর্গত নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর ফিরিয়ে আনার দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।…

নয়াদিল্লি: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) পুনরুদ্ধারের দাবির (Nishikant Dubey)পাশাপাশি এবার বাংলাদেশের অন্তর্গত নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর ফিরিয়ে আনার দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, দেশভাগের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার ফলে ভারতের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের একাংশ পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।

বর্তমানে সেই এলাকাগুলি বাংলাদেশের অন্তর্গত। শুধু তাই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পিছিয়ে থাকার জন্যও চট্টগ্রাম বন্দরের হাতছাড়া হওয়াকে দায়ী করেছেন তিনি। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সমস্ত দাবি তুলে ধরেন নিশিকান্ত দুবে।

আরও দেখুনঃ ‘E20 নয়, 420!’ পেট্রোলে ২০ শতাংশের বেশি ইথানলের অভিযোগ, কেন্দ্রকে তোপ রাহুলের

বিজেপি সাংসদের বক্তব্য, পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীর ফিরিয়ে আনার দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দেশভাগের সময় হাতছাড়া হওয়া নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তাঁর দাবি, এই এলাকাগুলি একসময় ত্রিপুরার প্রাক্তন টিপরা রাজ্যের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত ছিল।

দেশভাগের সময় তৎকালীন শাসক মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য এই অঞ্চলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। দুবের অভিযোগ, মহারাজার মতামত যথাযথ গুরুত্ব না দিয়েই নেহরু এবং তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

নোয়াখালির ১৯৪৬ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় হিন্দুদের উপর ব্যাপক অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড চললেও তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকারে মুসলিম লিগকে অন্তর্ভুক্ত করা। দুবের দাবি, ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেহরু মুসলিম লিগকে সরকারে সামিল করার বিষয়টি নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।

অথচ ওই বছরের অক্টোবর মাসে নোয়াখালিতে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা ঘটে। বিজেপি সাংসদ দাবি করেছেন, একদিনেই প্রায় ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছিল। (Nishikant Dubey)পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েও নেহরু সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাননি। তবে এই হত্যার সংখ্যা এবং নেহরুর ভূমিকা নিয়ে নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যকে তাঁর নিজস্ব অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

দুবের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, দেশভাগের সময় চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের হাতছাড়া হওয়ার ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশ দীর্ঘদিন বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ এমনিতেই কঠিন।

তার উপর সমুদ্রবন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার না থাকায় এই অঞ্চলের শিল্প, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি। (Nishikant Dubey)তাঁর কথায়, উত্তর-পূর্ব ভারতের খনিজ সম্পদ, গ্যাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে গেলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের হাতে থাকলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারত বলেও দাবি করেছেন বিজেপি সাংসদ।

সিলেটের গণভোট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর বক্তব্য, দেশভাগের সময় সিলেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য যে গণভোট হয়েছিল, তার সঙ্গে যুক্ত বাহারুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দুবের অভিযোগ, বাহারুল ইসলামের সঙ্গে মুসলিম লিগের রেড আর্মির যোগাযোগ ছিল।

তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে এবং পরে তিনি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন। অবসর নেওয়ার পর ফের তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন বিজেপি সাংসদ। এই সমস্ত বিষয় তুলে ধরে সিলেটের গণভোটের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

নিজের দাবির সমর্থনে ত্রিপুরার ভারতভুক্তির ইতিহাসও সামনে এনেছেন দুবে। তাঁর বক্তব্য, ১৯৪৮ সালের অক্টোবর মাসে মহারানি কাঞ্চনপ্রভা মানিক্য ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দলিলে স্বাক্ষর করেন। এই প্রক্রিয়ায় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। দুবের দাবি, তৎকালীন রাজপরিবারের আপত্তি এবং ঐতিহাসিক দাবিগুলিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *