দিনহাটায় ফের অন্তঃসত্ত্বাকে ‘মারধর’, অভিযুক্ত শাসকদল
এই সময়, কোচবিহার: ব্যবধান মাত্র ১০ দিনের। ফের দিনহাটায় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন এক অন্তঃসত্ত্বা। এ বারও অভিযোগের তির শাসকদলের দিকে। একটি সালিশি সভা চলাকালীন অন্তঃসত্ত্বা অনামিকা বর্মনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা মিনা বর্মনের স্বামী ভবসিন্ধু বর্মন-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দিনহাটা থানায় অভিযোগ করেছেন আক্রান্তের শাশুড়ি মায়া বর্মন। অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
গত ২ নভেম্বর রাতে দিনহাটা থানার মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ভলকা পুটিমারি গ্রামে একটি মারপিটের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার সালিশি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, সভা চলাকালীন ভবসিন্ধু-সহ কয়েকজন মৃণাল বর্মন নামে এক যুবককে মারধর করেন। স্বামীকে বাঁচাতে ছুটে গেলে আক্রান্ত হন মৃণালের স্ত্রী অনামিকা ও মা মায়া বর্মন। তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
অনামিকা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার রাতে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। মায়া ও মৃণালকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুক্রবার অনামিকা অভিযোগ করেন, ‘সালিশি সভায় ডেকে নিয়ে গিয়ে আমাদের মারধর করা হয়েছে। সেখানে কথা বলার কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি।’
তবে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য একটি কারণের কথাও উঠে এসেছে। একটি সূত্রের দাবি, সালিশিতে ডাক পাওয়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ চলছে। তার সমাধানে সালিশি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনা প্রসঙ্গে দিনহাটা থানার এক আধিকারিক জানান, হাসপাতালে ভর্তি মহিলার ইউএসজি রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী অভিযুক্ত হলেও শাসকদল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিতাই ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি শঙ্কু সরকার বলেন, ‘সালিশি সভায় কোনও গন্ডগোল হয়নি। সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। এটা একটা চক্রান্ত।’
গত বছর দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানা এলাকায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। গত বুধবার এই থানা এলাকারই কুচনি গ্রামে শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁরা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকে মারধর করেছেন। গত শুক্রবার ওই মহিলা মৃত সন্তানের জন্ম দেন। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দিনহাটাতেই একই ধরনের অভিযোগ উঠল।