Bageswar Baba Controversy: ‘রাম সোজা, কৃষ্ণ বাঁকা’, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যে এবার মুখ খুললেন অনিরুদ্ধাচার্য | Aniruddhacharya supports Bageswar Baba Dhirendra Shashtri’s comment on Ram and Krishna
বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যে সমর্থন অনিরুদ্ধাচার্যেরImage Credit: TV9 Bangla
নয়া দিল্লি: ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার (Bageswar Baba) সাম্প্রতিক মন্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে তুলনা করে যে মন্তব্য তিনি করেছেন, তার জেরে ইতিমধ্যে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। এবার সেই বাগেশ্বর বাবার সেই মন্তব্যের সমর্থনে কথা বললেন অনিরুদ্ধাচার্য।
বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী সম্প্রতি রাম ও কৃষ্ণকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল এরকম যে, রাম একজন সরল দেবতা ও কৃষ্ণের নাম-ভঙ্গিমা সবই বক্র। শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি বাজানো যে রামের ধনুকের থেকে সহজ, সেটাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনিরুদ্ধাচার্য সম্প্রতি ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর সমর্থন করেছেন। একটি ভিডিয়োতে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী যে কথাটি বলেছিলেন, তা আসলে বিনোদনের ছলে। তাঁর কথায়, ভক্তদের মধ্যে হওয়া হাসি-ঠাট্টা এবং বিনোদনের ছলে ছিল। অনিরুদ্ধাচার্য একটি ঘটনা শুনিয়েও নিজের বক্তব্য বোঝানোর চেষ্টা করেন।
অনিরুদ্ধাচার্য জি মহারাজ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন যে, ভগবান রাম এবং শ্রীকৃষ্ণ একই। তবে নিজের নিজের লীলা পরিবেশনের জন্য দু’জনে আলাদা আলাদা যুগে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাঁরা। রাম ত্রেতাযুগে এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে। তবে তাঁর দাবি, ভক্তদের মধ্যে দুজনের রূপ ও লীলা নিয়ে এই ধরনের হাসি-ঠাট্টা চলতেই থাকে। এটাও সেরমকই একটা বিষয়।
নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে অনিরুদ্ধাচার্য বলেন যে, অযোধ্যার ভক্তরা ভগবান রামকে পছন্দ করেন, আবার বৃন্দাবনের ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত। উভয় পক্ষের ভক্তরাই নিজেদের মধ্যে ঠাট্টা-মস্করা করে থাকেন নিজেদের আরাধ্য দেবতাকে নিয়ে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীও বিনোদনের ছলেই এ কথা বলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনিরুদ্ধাচার্য।
বৃন্দাবন ও অযোধ্যার ভক্তদের নিয়ে একটি গল্পও শুনিয়েছেন অনিরুদ্ধাচার্য। তিনি বলেন, বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের এক ভক্ত থাকতেন। একদিন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল যে, তোমার কানহাইয়া তো বাঁকা, অথচ আমাদের রাম একেবারে সোজা। এ কথা শুনে সেই ভক্ত রেগে গিয়ে অযোধ্যায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এক রাখালের রূপ ধরে তাঁর সামনে এসে জিজ্ঞেস করেন, কোথায় যাচ্ছ? ভক্ত উত্তর দেন যে শ্রীকৃষ্ণ বাঁকা, তাই তিনি অযোধ্যায় চলে যাচ্ছেন। এমন সময় সেখানকার একটি কুয়োয় বালতি পড়ে যায়। লোকেরা লোহার সোজা রড দিয়ে বালতিটি তোলার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সফল হচ্ছিল না। তখন রাখালরূপী শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে রডটিকে একটু বাঁকিয়ে দেখো। ভক্ত যখন জিজ্ঞেস করল যে সোজা রড দিয়ে বালতি কেন উঠছে না? তখন ভগবান বোঝালেন যে কৃষ্ণ এই কারণেই বাঁকা, যাতে তাঁর বাঁকা পা ধরে মানুষ ভবসংসার পার হতে পারে। এ কথা শুনে ভক্ত অযোধ্যায় যাওয়া থেকে বিরত হন।