উয়েনো ব্যাঙ্কের দেউলিয়ার জের, ইমপিচ করা হলো প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা-কে
ইমপিচমেন্টে ক্ষমতাচ্যুত লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। পেদ্রো আলিয়ানা প্যারাগুয়ের ৫৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং তিনি ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন।
সূত্রের খবর, প্যারাগুয়ের প্রধান ডিজিটাল ব্যাংক ‘উয়েনো ব্যাঙ্ক’ (Ueno Bank) দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় সেখানে ভয়াবহ আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। কমবেশি ৩০ লাখ আমানতকারী ও পেনশনভোগী তাঁদের জমানো টাকা তুলতে না পারায় সারা দেশে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। তার জেরেই ইমপিচ করা হয়েছে সান্তিয়াগো পেনাকে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর তীব্র চাপের মুখে সান্তিয়াগো পেনা ঘোষণা করেন, তিনি পদত্যাগ করবেন। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। প্যারাগুয়ে সংসদের নিম্নকক্ষ ‘চেম্বার অব ডেপুটিজে’ ৭৮-০ ভোটে তাঁর ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস হয়। পরে ৪৫ সদস্যের সেনেটে ৪৪-১ ভোটে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরানো হয়।
সান্তিয়াগো পেনা এখন গৃহবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত, তহবিল তছরুপ, প্রভাব খাটানো ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো অভিযোগের ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
উয়েনো ব্যাঙ্ক এক সময় দেশের প্রথম সারির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল। যার গ্রাহক ছিলেন প্যারাগুয়ের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ। তদন্তে জানা যায়, ব্যাঙ্কটি নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে, পর্যাপ্ত জামানত না নিয়ে ব্যাঙ্ক মালিকদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে বড় অঙ্কের ঋণ দিয়েছিল। ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ব্যাঙ্কের অ্যাপ, কার্ড এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ হওয়ায় লক্ষ লক্ষ গ্রাহক তাঁদের জমানো অর্থ তুলতে পারছিলেন না।
ওই পরিস্থিতিতে সোশাল মিডিয়ায় পেনা লিখেছিলেন, তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষার স্বার্থেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাঁর ইস্তফা গ্রহণ না করে তাঁকে ইমপিচ করা হয়।